১) সংগীতে অতুলপ্রসাদ সেনের অবদান আলোচনা করো। ৫
🔵উনিশ শতকের শেষ থেকে বিশ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রবীন্দ্র প্রতিভার প্রভাববলয়ের মধ্যে বিচরণ করেও যাঁরা বাংলা কাব্যগীতি রচনায় নিজেদের বিশেষত্ব প্রকাশ করতে সক্ষম হন, অতুল প্রসাদ সেন (১৮৭১ - ১৯৩৪) ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। সমকালীন গীতিকারদের তুলনায় তাঁর সংগীত সংখ্যা সীমিত হলেও (206) তাঁর অনেক গানে মৌলিকত্ব পরিলক্ষিত হয়।
🔵অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানগুলির মূল উপজীব্য বিষয় ছিল স্বদেশপ্রেম , ভক্তি ও প্রেম। তাঁর জীবনের দুঃখ ও যন্ত্রণা তাঁর গানের প্রধান অবলম্বন। তাই তাঁর অধিকাংশ গানই হয়ে উঠেছে করুণ-রস প্রধান। তাঁর সমস্ত গান সংকলিত যে বইয়ে তার নাম 'গীতিগুঞ্জ' (1931)।
🔵বাঙালি কবি অতুলপ্রসাদ সেন সমকালীন গীতিকারদের মত ধ্রুপদী, খেয়ালি বা টপ্পা ইত্যাদি গানের আদর্শ গ্রহণ করেননি, পরিবর্তে এক ভিন্ন সুরভঙ্গি আমদানি করেছেন। তবে সাধারণভাবে দেখা যায়, তিনি গানের সুরের কার্য নির্মাণে মুখ্যত ঠুংরিকেই আশ্রয় করেছেন।
🔵অতুল প্রসাদ প্রধানত সুরকার--- এটি মোটামুটি সর্বজনবিদিত। কিন্তু সুরসাধক দিলীপকুমার রায়ের মতে, তাঁর গানের সুর অপেক্ষা বাণী(কথা)-র প্রভাব বেশী। সমালোচকদের মতে, তাঁর গানে স্বদেশ ও মানবপ্রেমের মূলে আছে ঈশ্বরপ্রেম। রবীন্দ্রনাথ ও রজনীকান্ত ছাড়া আর কোনো কবির গানে এইরকম বৈচিত্র্যময় দৃষ্টান্ত নেই। যেমন---
1. "আমায় রাখতে যদি আপন ঘরে / বিশ্ব ঘরে পেতাম না ঠাই।"
2. "নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন্ /তুই সুখী জনের করিস্ পূজা দুঃখী জনের অযতন।"
🔵অতুলপ্রসাদ সেনের কয়টি বিখ্যাত গান হল -- 'মিছে তুই ভাবিস মন', 'সবারে বাস রে ভালো', 'নিদ্ নাহি আঁখিপাতে', 'একা মোর গানের তরী' ইত্যাদি। তাঁর যে সকল প্রেমের গানে বিরহ বেদনা রয়েছে তা হল--- 'বধু এমন বাদলে তুমি কোথা', 'কে আবার বাজায় বাঁশি' ইত্যাদি এখনও সমান আদরণীয়।
🔵তাঁর রচিত দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে প্রসিদ্ধ--- 'উঠ গো ভারত লক্ষ্মী', 'বল বল সবে', 'হও ধরমেতে ধীর' ইত্যাদি। এছাড়াও 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা' গানটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। বাংলা সঙ্গীতের জগতে এক স্বতন্ত্র আসনে প্রতিষ্ঠিত অতুলপ্রসাদ সেন সঙ্গীতপ্রিয় বাঙালির মনের মনিকোঠায় এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন