মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১

একাদশ বাংলা - সাহিত্যের ইতিহাস

 ১) মঙ্গলকাব্যের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।   ৫ 

উত্তর:  প্রতিটি মঙ্গলকাব্য দেবখণ্ড ও নরখন্ড -- এই দুই আখ্যান ভাগে বিভক্ত। দেবখন্ডের বিষয়বস্তু হল- কোন দেব বা দেবীর পূজা প্রচারের উদ্দেশ্যে কোন দেবকন্যা বা দেবপুত্রকে ছলে-বলে-কৌশলে বা অভিশাপ দিয়ে মর্তে পাঠানো হয়। নরখন্ডের বিষয়বস্তু হলো- ওইসব শাপগ্রস্ত মানবরূপী দেবকন্যা বা পুত্রদের  দ্বারা মর্তে দেবতার পূজার প্রচলন করা এবং তারপরে তাদের আবার স্বর্গে ফিরে যাওয়া। 

    উপরের এই গঠন বৈশিষ্ট্য ছাড়াও মঙ্গলকাব্য গুলির বেশ কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়-- 

(ক) দেবদেবীর বন্দনা: প্রতিটি মঙ্গলকাব্যেরই শুরুতে থাকে দেবদেবীর বন্দনাসহ কবির পিতা-মাতা ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। 

(খ) গ্রন্থ রচনার কারণ: প্রায় প্রতিটি মঙ্গলকাব্যের কবি কাব্যরচনার কারণ হিসেবে দেবদেবীর স্বপ্নাদেশের কথা বলেছেন। 

(গ) বারোমাসী বা বারোমাস্যা: নায়িকার বারো মাসের দুঃখের বর্ণনা এতে স্থান পায়। যেমন ফুল্লরার বারোমাস্যা। 

(ঘ) নারীদের পতিনিন্দা: বিবাহ সভায় নারীরা নায়কের সঙ্গে নিজ নিজ পতিদের তুলনা প্রসঙ্গে যা বলতেন তাই এই অংশে বর্ণিত হয়েছে। যেমন- "মহাকবি মোর পতি কত রস জানে / কহিলে সরস কথা বিরস বাখানে।" 

(ঙ) রন্ধনপ্রণালী: বাঙালি যে ভোজন প্রিয় স্বভাবের তার বিভিন্ন বর্ণনা মঙ্গলকাব্যে লক্ষ্য করা যায়। যেমন- শিবের পার্বতীর প্রতি রন্ধনের নির্দেশ-  "আজি গনেশের মাতা রান্ধ মোর মতো / নিমে শিমে বেগুন দিবে তাতে দিবে তিত।"  


২) বাংলা সাহিত্যে বিদ্যাপতি অন্তর্ভুক্তির কারণ আলোচনা করো।  ৫ 

উত্তর:  চৈতন্য পূর্ববর্তী বাংলা বৈষ্ণব সাহিত্যে বিদ্যাপতি একটি প্রধান প্রতিষ্ঠান। জয়দেব সংস্কৃত ভাষায় রাধাকৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক যে পদাবলী সাহিত্যের সূচনা করেছিলেন মিথিলার কবি 'মৈথিলী কোকিল' বিদ্যাপতি 'অভিনব জয়দেব' নামগ্রহণ করে সেই পদাবলী সাহিত্যের পূর্ণতা দান করেছিলেন। রাধাকৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক কাব্যকথা ও তাঁর প্রকাশভঙ্গির চমৎকারিত্বের জোরে বাঙালির জীবন সর্বস্বরূপে তিনি জয়দেব চন্ডীদাসের নামের সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হন। 

   বিদ্যাপতি চতুর্দশ শতকের শেষভাগে মিথিলার মধুবনী পরগনার বিসফী গ্রামে প্রসিদ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যাপতি বাংলা ভাষায় একছত্রও কাব্য কবিতা লেখেননি, তা সত্ত্বেও তিনি বাংলা সাহিত্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁর এই অন্তর্ভুক্তির কারণগুলি হল-- 

(ক) বাংলা ও মিথিলা এই দুটি সন্নিহিত অঞ্চলের মধ্যে শিক্ষা-সংস্কৃতি, সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভৃতি দিক থেকে ঘনিষ্ঠতা ছিল। তৎকালে ন্যায়শাস্ত্রের পড়ুয়া ছাত্ররা অধ্যায়নের জন্য মিথিলায় যেত এবং বিদ‍্যা সমাপন করে মিথিলার কবি বিদ্যাপতির রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলী গান কন্ঠে নিয়ে ফিরত। আর এই সূত্র ধরেই বিদ্যাপতি বাঙালির আপনজন হয়ে উঠেছেন। 

(খ) 'ক্ষণদাগীতচিন্তামণি', 'পদামৃতসমুদ্র', 'পদকল্পতরু' প্রভৃতি পুরানো বৈষ্ণবপদ সংকলন গ্রন্থে বিদ্যাপতির পদ স্থান পাওয়ায় এবং 'চৈতন্যচরিতামৃত' -এ বিদ্যাপতির উল্লেখ থাকায় বাঙালিরা বিদ্যাপতিকে বাঙালি কবি হিসেবে মেনে এসেছেন।  

(গ) বিদ্যাপতির পদে বৈষ্ণব ধর্মের কোন প্রভাব না থাকা সত্ত্বেও মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব কর্তৃক তা সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি লাভ করেছিল। যেমন-- "বিদ্যাপতি জয়দেব চন্ডীদাসের গীত। / আস্বাদয়ে রামানন্দ স্বরূপ সহিত।" বাংলা সমাজ ও সাহিত্যে চৈতন্যদেবের ব্যাপক প্রভাব থাকায় চৈতন্যদেব কর্তৃক বিদ্যাপতির পদ আস্বাদনের সূত্রে বৈষ্ণব সমাজ তথা বাঙালি পাঠকের কাছে বিদ্যাপতি আদর্শ পদকর্তা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।

(ঘ) রাধাকৃষ্ণ প্রেমকে বিদ্যাপতি কাব্যবিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন বলেই তিনি সহজে বাংলা সাহিত্যে ঢুকে পড়েছেন। কারণ, এই রাধাকৃষ্ণ প্রেম বাঙালির মন ও মননকে নিত্য-নৈমিত্তিক ছুঁয়ে যায়, বাঙালির মনের মাধুরীকে দোলা দেয়। 

(ঙ) বিদ্যাপতি যে ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছিলেন সেই ভাষাযর রচনা মাধুর্যে আকৃষ্ট হয়ে রায়শেখর, গোবিন্দদাস এমনকি রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত পদ রচনা করেছিলেন। যেমন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, "মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান" 

    বস্তুত, বিদ্যাপতি বাঙালি না হলেও বাঙালির মনে-মজ্জায় প্রতিষ্ঠিত আছেন। আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন তাই যথার্থভাবেই মন্তব্য করেছেন-- "বিদ্যাপতিকে বাদ দিলে বাংলা সাহিত্য খোঁড়া হয়ে যায়।" 


৩) বাংলা সমাজ ও সাহিত্যে শ্রীচৈতন্যদেবের অবদান আলোচনা করো।   ৫ 

উত্তর:  চৈতন্যদেব মধ্যযুগের বাংলা সমাজ ও সাহিত্যের একজন যুগন্ধর পুরুষ। তিনি ছিলেন মানবতাবাদের মূর্ত বিগ্রহ। বাংলার সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর প্রভাব বিদ্যমান শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের ফলে বাংলাদেশ যে নবজাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল তা 'চৈতন্য রেনেসাঁ' নামে বিশেষভাবে পরিচিত। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান হল-- 

(ক) বর্ণ বৈষম্য বিভাজিত হিন্দু সমাজ ব্যবস্থায় চৈতন্যদেব তাঁর প্রবর্তিত ধর্ম সাধনার মাধ্যমে বর্ণাশ্রমের সকল বাধাকে লুপ্ত করে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ধর্ম সাধনার মূলবাণী স্বরূপ "চণ্ডালোহপি দ্বিজশ্রেষ্ঠঃ হরি ভক্তিপরায়ণঃ" কিংবা "যে জন কৃষ্ণ ভজে সে মোর প্রাণের ঠাকুর" প্রভৃতি যেসব কথা বলেছিলেন তাতে একটি সমাজ সংস্কারমূলক বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছিল। 

(খ) বাংলা সাহিত্যে চৈতন্য প্রভাবের কালকে অনেকে ঐশ্বর্যকাল বলে চিহ্নিত করেছেন, অথচ চৈতন্যদেব বাংলা ভাষায় একটি পংক্তিও রচনা করেছেন বলে জানা যায় না। কেবল তাঁর মুখনিসৃত আটটি শ্লোকবদ্ধ উপদেশ ছাড়া। প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে চৈতন্যদেব বাংলা সাহিত্যে ঐশ্বর্য দান করে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে তুলেছিলেন। 

(গ) চৈতন্য আবির্ভাবের ফলে পদাবলী সাহিত্য রচনায আরো বেশি সমৃদ্ধ হয়ে উঠল। শ্রীচৈতন্যদেব ছিলেন-- " রাধাভাবদ‍্যুতি সুবলিততনু কৃষ্ণস্বরূপম"‌। চৈতন্যের এইরূপকে অবলম্বন করে রচিত হল গৌরচন্দ্রিকা ও গৌরাঙ্গবিষয়ক পদ, ফলে পদাবলী সাহিত্যের বিষয়বস্তুগত বৈচিত্র‍্য সাধিত হল। 

(ঘ) বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যজীবনী গ্রন্থগুলিকেই আদি জীবনী কাব্যের মর্যাদা দেওয়া হয়। যদিও এগুলি প্রকৃত অর্থে বায়োগ্রফি নয়, হ‍্যাজিওগ্রাফি। বৃন্দাবন দাসের 'চৈতন্যভাগবত', লোচন দাস ও জয়ানন্দের 'চৈতন্যমঙ্গল', কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্যচরিতামৃত' প্রভৃতি চৈতন্যজীবনী গ্রন্থগুলি চৈতন্যজীবন ও তথ্য নিয়ে রচিত হয়েছে। 

(ঙ) বাংলা সঙ্গীতের জগতে বৈষ্ণবকীর্তন একটা বৈপ্লবিক সংযোজন। শ্রী চৈতন্যদেবের প্রভাবের ফলেই নগরকীর্তন ও পালাকীর্তনের নতুন সুর  সংযোজিত হয়। 

   সামগ্রিকভাবে চৈতন্য প্রভাব বাঙালির সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম ও সাহিত্যে এমন গভীর ও ব্যাপক পরিমণ্ডল তৈরি করেছিল যার অনুরণ মধ্যযুগ অতিক্রম করে আধুনিক যুগেও প্রবেশ করেছে। সমালোচক দীনেশচন্দ্র সেন বলেছিলেন, " প্রেম পৃথিবীকে একবার মাত্র রূপ গ্রহণ করিয়াছিল, তাহা বাংলাদেশে।" 


৪) রামপ্রসাদ সেনের কবি প্রতিভার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।   ৫ 

উত্তর:  মাতৃসাধক ও ভক্ত কবি রামপ্রসাদ সেন শাক্ত গীতিকারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করেছেন। এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণ- তাঁর পদে আধ্যাত্মিকতা ও জীবনরসের এক সুষ্ঠু সমন্বয় ঘটেছে এবং তার প্রকাশ হয়েছে সহজ, স্বচ্ছ ও সাবলীল। সেজন্যই সমালোচকদের সঠিক মন্তব্য-- "বৈষ্ণব সাহিত্যে চন্ডীদাসের যে আসন, শাক্ত সঙ্গীত সাহিত্যে রামপ্রসাদেরও ঠিক সেই আসন।" 

কবিপ্রতিভা: ১৭২০ খ্রীষ্টাব্দে উত্তর 24 পরগনার হালিশহরের নিকটবর্তী কুমারহট্ট গ্রামে কবি রামপ্রসাদ সেনের জন্ম। রামপ্রসাদ মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। রামপ্রসাদ 'বিদ্যাসুন্দর', 'কালীকীর্তন' ও 'কৃষ্ণকীর্তন' প্রভৃতি কাহিনী কাব্য রচনা করলেও তাঁর যথার্থ পরিচয় শাক্ত পদকার হিসেবেই।  

   তাঁর সম্বন্ধে নানান অলৌকিক গল্প প্রচলিত রয়েছে। স্বয়ং দেবী কালিকা কবির কন্যা সেজে বেড়া বাঁধতে কবিকে সাহায্য করেছিলেন। দেবী অন্নপূর্ণা তাঁর গান শোনার জন্য কাশী ছেড়ে কবির চণ্ডীমণ্ডপে উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি বিশিষ্ট গায়ক ছিলেন, তাঁর সাদামাটা সুর 'প্রসাদী' সুর নামে খ্যাত।

   রামপ্রসাদ জীবনপ্রেমিক অথচ উদাসীন, তিনি গৃহী অথচ ত্যাগী, তিনি ভোগী অথচ যোগী। তান্ত্রিক সাধনার এই বিচিত্র সমন্বয়ের মর্মবাণীই তাঁর কবিতার মর্মবাণী। উমা সংগীত এবং শ্যামাসংগীত উভয় প্রকার গানেই তিনি সিদ্ধহস্ত। তবু তাঁর শ্যামাসঙ্গীতগুলি মানুষকে বেশি টানে। যেমন-- "মা আমায় ঘুরাবে কত, / কলুর চোখ-ঢাকা বলদের মতো?" কিংবা "মন রে কৃষিকাজ জানো না / এমন মানব জমিন রইল পতিত, / আবাদ করলে ফলতো সোনা।" 

   কিংবা মা হয়ে সন্তানকে প্রবঞ্চনা করেন বলেই রামপ্রসাদের অনুযোগ মেশানো সন্তানের অভিমান-- "মা, নিম খাওয়ালে চিনি বলে কথায় করে ছলো / ওমা, মিঠার লোভে তিত মুখে সারাদিনটা গেল।" 

   'বিজয়া'র পদেও কমলাকান্ত অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, আনন্দের পরেই আসে বিষাদ, নবমী নিশি শুরু হতেই মাতৃহৃদয় বিরহবেদনা পূর্ণ হয়ে যায়। সমাসোক্তি অলংকারের মাধ্যমে এই মাতৃহৃদয়ের বেদনাকে কমলাকান্ত চিত্রিত করেছেন এইভাবে, " ওরে নবমী নিশি না হইও রে অবসান / শুনেছি দারুন তুমি না রাখো সতের মান।" 

     তাই, রামপ্রসাদের গানের সুরের আবেদন গৃহস্থের মনেও সাড়া জাগায়। শাক্ত পদাবলীর শ্রেষ্ঠ কবি রামপ্রসাদের 'রামপ্রসাদী সংগীত' বাংলা সাহিত্যে এক অমূল্য সম্পদ। 


৫) বাংলার বৈষ্ণব পদসাহিত্যে চন্ডীদাস এর অবদান আলোচনা করো।   ৫ 

উত্তর:  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একাধিক চন্ডীদাসের অস্তিত্ব নিয়ে বহু তর্ক বিতর্ক থাকলেও চৈতন্য পূর্ববর্তী যুগে যে একজন চন্ডীদাস ছিলেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। 

   চন্ডীদাসের রাধা কৃষ্ণ প্রেম সম্পর্কে ধারণা প্রথম থেকেই স্পষ্ট। প্রেমে মিলনের আনন্দ অপেক্ষা বিরহের যন্ত্রনা যে একমাত্র প্রাপ্য তাও তার জানা। চন্ডীদাসের রাধা ভালোভাবেই জানে প্রেমের জন্য যন্ত্রণা ভোগ করতে না পারলে তার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায় না। কবির ভাষায়-- "সুখের লাগিয়া / যে করে পিরিতি, / দুঃখ যায় তার ঠাঞি।" চন্ডীদাসের রাধা কৃষ্ণ মিলনের গভীরতার মধ্যেও "দুহু করে দুহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া / আজ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া।" 

    চন্ডীদাসের কাব্যের একটি মূল সুর মানবপ্রীতি ও মর্ত‍্যপ্রীতি। তাঁর সেই বহুবিশ্রুত পদটি - "শুনহ মানুষ ভাই, / সবার উপরে মানুষ সত্য, / তাহার উপরে নাই।" 

     চণ্ডীদাসের পদাবলীর মূল বিশেষত্বগুলি হল-- 

(ক) চন্ডীদাস সহজ-সরল কথায় গভীরতম প্রাণ-বেদনার রূপকার ছিলেন। পদকর্তা চন্ডীদাস প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, "আমাদের চন্ডীদাস সহজ ভাষার সহজ ভাবের কবি, এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি।" 

(খ) সহজ ছন্দে এবং স্বভাবোক্তি অলংকারের মধ্য দিয়েই তাঁর রচনা গভীরতম ভাবের উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে উঠেছে।

(গ) চন্ডীদাসের রাধা প্রথম থেকেই কৃষ্ণের জন্য আকুল। কৃষ্ণের কাছে তিনি সবকিছু সমর্পন করে বসে আছেন। দুঃখই তাঁর কৃষ্ণ প্রেমের অন্যতম পরিচয়,।সেজন্য চন্ডীদাসের রাধা চরিত্রে বৈচিত্র‍্য এবং ক্রমবিকাশ নেই বললেই চলে। 


৬) কবিকঙ্কন মুকুন্দরামের কবি প্রতিভার পরিচয় দাও।   ৫ 

উত্তর:  শুধু মঙ্গলকাব্যের ধারায় নয় মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ধারায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কন। তাঁর কাব্য 'চন্ডীমঙ্গল' নামে প্রচলিত হলেও আসলে এই কাব্যের নাম 'অভয়ামঙ্গল'। মুকুন্দরাম নামটি প্রচলিত থাকলেও তাঁর আসল নাম মুকুন্দ এবং উপাধি 'কবিকঙ্কন'। কবি প্রতিভার বিশেষ দিকগুলি-- 

(ক) কবি নিখুঁতভাবে বাস্তবকে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তার প্রকাশ করেছেন উপযুক্ত ক্ষেত্রে। ফুল্লরা, মুরারী শীল, ভাড়ুদত্ত, দূর্ব লা দাসীপ্রভৃতি চরিত্র তাঁর কাব্যে জীবন্ত রূপলাভ করেছে। কৌতুক রস সৃষ্টিতেও মুকুন্দরাম যথেষ্ট পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। 

(খ) মঙ্গলকাব্যের অন্যান্য কবিদের মতো গতানুগতিক ভাবে মুকুন্দ চক্রবর্তী ঘটনা বিবৃত করেননি। উপস্থাপনা ও ঘটনার বর্ণনায় তিনি অভিনবত্বের পরিচয় দিয়েছেন। 

(গ) আধুনিক জীবন দ্বন্দ্ব-সংঘাতময়। কবি মুকুন্দের কাব্যেও আধুনিক জীবনসুলভ নাটকীয় দ্বন্দ্ব-সংঘাত, উৎকণ্ঠা ও কৌতুহলের প্রয়োগ লক্ষণীয়। ছদ্মবেশিনী দেবীকে ঘিরে ফুল্লরা ও কালকেতুর মনে যে ঘাত-প্রতিঘাত সৃষ্টি হয়েছে, তাতে রয়েছে অভিনবত্ব। 

(ঘ) মুকুন্দের কাব্যে সামাজিক সমস্যা জীবন্ত রূপে চিত্রিত হয়েছে। যেমন-- সতীন সমস্যা মধ্যযুগের এক বিশেষ সামাজিক সমস্যা যা চিত্রিত হয়েছে এইভাবে- " শাশুড়ি ননদি নাহি নাহি তোর সতা / কার সঙ্গে দ্বন্দ্ব করি চক্ষু কৈলি রাতা।" 

(ঙ) মুকুন্দ চক্রবর্তী কাব্যের ভাষা ছন্দ ও অলংকারের প্রতি একেবারেই উদাসীন থাকেননি। উপমা, রূপক, উৎপ্রেক্ষা, সমোসক্তি প্রভৃতি অলংকার তাঁর 'চন্ডীমঙ্গল' কাব্যে রয়েছে। প্রচলিত প্রবাদকেও তিনি সার্থকভাবে তাঁর কাব্য ভাষায় প্রয়োগ করেছেন। 



  

    

শুক্রবার, ২৬ মার্চ, ২০২১

মাধ্যমিক ইতিহাস - দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর

 ১) উনবিংশ শতাব্দী বাংলায় নবজাগরণ ও তার চরিত্র সম্পর্কে যা জানো লেখো।   ৮ 

উত্তর: 

ভূমিকা:- পাশ্চাত্য সভ্যতার সংস্পর্শে এসে উনিশ শতকে মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজে এক যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী আলোড়নের সূচনা হয়। তৎকালীন ধর্ম, সমাজ, শিক্ষা, সাহিত্য, দর্শন, রাজনীতি-- জীবনের সর্বক্ষেত্রে এর প্রভাব অনুভূত হয়। ইতালির নবজাগরণের সঙ্গে তুলনা করে অনেকে বাংলার এই জাগরণকে 'বঙ্গীয় নবজাগরণ' বলে অভিহিত করেছেন। অধ্যাপক সুশোভন সরকার এই জাগরণকে 'রেনেসাঁ' বলে অভিহিত করেছেন।

প্রেক্ষাপট:- নবজাগরণের স্রষ্টা কারা-- এ নিয়ে বিতর্ক আছে। এ ব্যাপারে স্বভাবতই সর্বপ্রথমে রামমোহন রায়ের নাম মনেে পড়ে। তবে মার্কিন গবেষক ডেভিড কফ বঙ্গীয় নবজাগরণের ব্যাপারে রামমোহন বা ডিরোজিওকে কোন কৃতিত্ব দিতে রাজি নন। তাঁর মতে, ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ হলেন ব্রিটিশ পুরাতত্ত্ববিদ। 

     মেকলের নীতি ছিল বাংলার মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা; বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষা চর্চা শুরু হলে শিক্ষিত বাঙালি সম্প্রদায়, অভিজাত শ্রেণী, মধ্যবিত্ত শ্রেণী প্রভৃতিদের  মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষার সম‍্যক প্রভাব পড়ে। এই নব্য বাঙালিরা পশ্চিমের জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন ও জীবনধারার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। 

বাংলার রেনেসাঁ:- পশ্চিমের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পশ্চিমের দর্শন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলা প্রভৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই নব্য বাঙালিরা সমাজে এক পরিবর্তন নিয়ে আসে। বাংলার এই সামাজিক পরিবর্তনকেই ঐতিহাসিকেরা নামকরণ করেছেন বাংলার নবজাগরণ বা বাংলার রেনেসাঁ। 

সীমাবদ্ধতা:- বাংলার এই নবজাগরণ কেবলমাত্র মধ্যবিত্ত ও কিছু ক্ষেত্রে উচ্চবিত্ত সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল; শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় এই আন্দোলনকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হন। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা কেশবচন্দ্র সেনের মতো পণ্ডিতরা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন কিন্তু এরা প্রত্যেকেই প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রের ভিত্তিতে সমাজকে সংস্কার করতে চেয়েছিলেন। অভিজাত ও সমাজের মুখ্য রাজা রাধাকান্ত দেবও হিন্দু সমাজের সংস্কার নিয়েই চিন্তা করতেন, আবার ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শুধুমাত্র সকল শ্রেণীর হিন্দুদের জন্যই সংস্কৃত কলেজের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। এতসব সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও এই দীর্ঘ সময় ধরে যে সমাজসংস্কারমূলক কর্মকান্ড বিভিন্ন মনীষীদের মধ্যে চলে তার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ব্রাহ্মণদের শিক্ষা চর্চার কেন্দ্র সাংস্কৃত কলেজ আপামর হিন্দুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সেই সময়ে সাধুবাদের যোগ্য অথবা সতীদাহ রদ বা বিধবা বিবাহ প্রবর্তন সবই নবজাগরণের ফল। এই নবজাগরণের আলো বাংলা থেকেই সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। অধ্যাপক অনিল শীল এই আন্দোলনকে 'এলিটিস্ট আন্দোলন' বলে অভিহিত করেছেন।

শহরকেন্দ্রিকতা:- এই নবজাগরণের প্রভাব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল কলকাতা নির্ভর, কখনো তার আশেপাশের শহরতলীতে এই আন্দোলনের প্রভাব দেখা দিলেও বাংলার বিপুলসংখ্যক গ্রামে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। 

সমালোচনা:- বঙ্গীয় নবজাগরণকে ইতালির রেনেসাঁর সঙ্গে তুলনা করে তাকে রেনেসাঁ বলে অভিহিত করার ব্যাপারে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। ডঃ অমলেশ ত্রিপাঠীর মতে, "বঙ্গীয় নবজাগরণের সঙ্গে ইতালির রেনেসাঁর তুলনা অর্থহীন।" ইতালির নবজাগরণের কেন্দ্র ফ্লোরেন্সের সঙ্গে কলকাতার তুলনা চলে না। ইতালির নবজাগরণ ঘটেছিল স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে। বাংলার নবজাগরণের কেন্দ্র কলকাতা ছিল বিদেশি শাসনাধীন, তাই এখানে নবজাগরণের বিকাশ স্বাভাবিক ছিল না। 

উপসংহার:- স্যার যদুনাথ সরকারের মতে, "কনস্টান্টিনোপলের পতনের পর ইউরোপে রেনেসাঁ দেখা দেয়, উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণ ছিল তদপেক্ষা ব্যাপক, গভীর এবং অধিকতর বৈপ্লবিক। এই নবজাগরণ ছিল প্রকৃতই একটি রেনেসাঁ।" বঙ্গীয় নবজাগরণের স্রষ্টারা ছিলেন সামন্ত, জমিদার ও ইংরেজ সৃষ্ট শিক্ষিত ভদ্রলোক। পৃথিবীর সব দেশের ইতিহাসে তাই হয়, ছোটলোকদের রেনেসাঁ পৃথিবীর কোনো দেশেই হয়নি; এমনকি ইতালিতেও নয়। পাণ্ডিত্যপূর্ণ দর্শন ঐতিহ্যের সঙ্গে কোন যুগেই আমজনতার পরিচয় থাকে না। পৃথিবীর সব দেশেই প্রাচীন ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় জাগরণ সংঘটিত হয়-- ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। পরাধীন দেশে ঔপনিবেশিক শাসনে বঙ্গীয় নবজাগরণ পূর্ণ ভাবে বিকশিত হতে পারেনি ঠিকই, তবুও এর গতিশীলতা, সৃজনশীলতা ও প্রাণশক্তিকে কোনভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।


২) শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শ সম্পর্কে আলোচনা করো।   ৪ 

উত্তর: 

ভূমিকা:- খ্রিস্টান মিশনারী, ব্রাহ্মসমাজ ও নব্য বঙ্গীয়দের দ্বারা উনিশ শতকে হিন্দুধর্ম যখন নানা দিক থেকে আক্রান্ত এবং বাংলায় বিভিন্ন কুসংস্কারের গোঁড়ামিতে যখন নিশ্চল তখন পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব (১৮৩৬--৮৬) 'সর্বধর্ম সমন্বয়' এর মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে এক নতুন পথ দেখান। 

শিবজ্ঞানে জীবসেবা:- শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব অতি সরল ও সহজ ভাষায় এবং উপমার সাহায্যে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় চিন্তাধারা ও মতাদর্শের কথা বলেছেন। তিনি তাঁর নিজের জীবন ও সাধনার মধ্য দিয়ে সকল ধর্মের ওপর উঠে সকল ধর্মকে নিজের মতো করে নিয়ে বলেছিলেন যে ঈশ্বর সকল মানুষের মধ্যেই বিরাজ করেন। জীবকে তিনি দয়া-দাক্ষিণ‍্য করার কথা বলেননি, তিনি বলেছেন 'শিবজ্ঞানে জীবসেবা' -র কথা। তিনি সংসার ত্যাগ করতে বলেননি-- ত্যাগ করতে বলেছেন সংসারের আসক্তি; কর্ম ত‍্যাগের কথা বলেননি-- বলেছেন নিষ্কাম কর্মের কথা। 

যত মত তত পথ:- শ্রীরামকৃষ্ণ সব সাধনার পথকেই সত্য ও সঠিক বলেছেন। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, শাক্ত, বৈষ্ণব প্রভৃতি সকল ধর্মেই সাধনার মধ্য দিয়ে ঈশ্বর লাভ করা সম্ভব কিন্তু তাই বলে সকল ধর্মকে একসঙ্গে করে সাধনা করার কোন প্রয়োজন নেই। 

ভক্তি দ্বারা ঈশ্বর লাভ:- শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কাছে আন্তরিক ভক্তি দ্বারা ঈশ্বর সাধনা করা ও ঈশ্বর লাভ হল বড়ো কথা, এরজন্য মূর্তিপূজা, যাগযজ্ঞ, অনুষ্ঠান-আড়ম্বর, শাস্ত্রচর্চা বা আচার-অনুষ্ঠানের কোনো দরকার নেই। 

উপসংহার:- তাঁর জীবন ও সাধনা প্রমাণ করে যে হিন্দুরা পৌত্তলিক নয়, তারা মৃন্ময়ীতে চিন্ময়ীর উপাসনা করে, ভগবান লাভই জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য, সাধনমার্গের সব পথই সত্য ও অভ্রান্ত। মানুষকে পাপী বলা অন্যায় কারণ, আত্মা নিষ্পাপ ও অবিনশ্বর; সত্য উপলব্ধির জন্য তাকে কৃচ্ছসাধন নয়, আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা সম্ভব।


৩) উনিশ শতকের নারী সমাজ সম্পর্কে 'বামাবোধিনী পত্রিকা' থেকে যে চিত্র পাওয়া যায় তা আলোচনা করো।   ৪ 

উত্তর:

ভূমিকা:- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত উমেশচন্দ্র দত্ত সম্পাদিত 'বামাবোধিনী' পত্রিকায় রক্ষণশীল এবং উদারনৈতিক -- দুই ধরনের লেখক লেখিকারাই লিখতেন; এই পত্রিকায় প্রকাশিত হত ধর্ম, ইতিহাস, বিজ্ঞান, স্ত্রী-শিক্ষা বিষয়ক প্রবন্ধ।  পত্রিকাটির উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন অন্তঃস্থ মহিলাদের শিক্ষাদান। 

(১) নারীসমাজ ও কুপ্রথা:- তৎকালীন নারীসমাজে পর্দা প্রথা প্রচলিত ছিল, তাছাড়া ছিল বাল্যবিবাহ বহু বিবাহ ব্যবস্থা। এই সময় বিধবা বিবাহের প্রসার বিশেষ ছিল না, নারীরাও সমাজে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত হয়নি। 

(২) নারীসমাজ ও শিক্ষা:- বামাবোধিনী পত্রিকা থেকে জানা যায় যে, নারীসমাজের প্রগতিশীলতার পথে প্রধান প্রতিবন্ধক ছিল রক্ষণশীল সমাজ, তারা মনে করত নারীসমাজ শিক্ষিত হয়ে উঠলে তারা বহির্মুখী হয়ে পড়বে এবং গৃহশান্তি নষ্ট হবে; সমকালীন সমাজের শিক্ষিকা নারীকে 'অশুভত্বের প্রতীক' বলে মনে করা হতো। 

(৩) সম্পত্তি ও নারীসমাজ:- এই সময় নারীরা অর্থনৈতিক দিক থেকে ছিল পরাধীন, সম্পত্তিতে নারীর অধিকার ছিল না। 

(৪) নারীদের পেশা গ্রহণ:- শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের আগমন সমাজে নতুন আলো নিয়ে আসে এবং বালিকা বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের শিক্ষা গ্রহণ; ডাক্তারি শিক্ষা গ্রহণ করে পেশায় নিযুক্ত ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসাবে চন্দ্রমুখী বসু, কাদম্বিনী গাঙ্গুলী, কামিনী সেন প্রমুখের কথা বলা যায়। 

উপসংহার:- বামাবোধিনী পত্রিকা থেকে পাওয়া যায়, তৎকালীন নারীসমাজের চিত্রটি ছিল প্রগতিশীল সমাজের চিত্র; তথাপি গ্রামবাংলার প্রথা ও কুসংস্কারের অন্ধকারেও এক বিশাল নারী সমাজ ছিল এ কথা বলা যায়। 


৪) 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' তৎকালীন সমাজচিত্রটি কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচনা করো।   ৪ 

উত্তর: 

ভূমিকা:- 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'র (১৮৬২ খ্রি:) রচয়িতা ছিলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ, যিনি কলকাতার এক জমিদার সন্তান। এটি এক ধরনের গদ্য রচনা। একে ঊনবিংশ শতকের কলকাতার একটি সমাজদর্পণ বলা যায়। 

(১) তৎকালীন সমাজচিত্র:- হুতোম প্যাঁচার নকশায় তৎকালীন কলকাতার সমাজ জীবনে সংঘটিত দুর্নীতির ছবি যেমন প্রকাশ পেয়েছে তেমনি প্রকাশ পেয়েছে কপটতা ও ভন্ডামীর চালচিত্র, এগুলি নিয়েই ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ এই গ্রন্থে শানিত হয়েছে। 

(২) ঘটনা চিত্র:- এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে- মাতাল, উমেদার, ফোঁটাতিলককাটা বোষ্টনের কাহিনী, মোসাহেব পরিবেষ্টিত জমিদারদের কাহিনী, শ‍্য শ্যারি-শ‍্যাম্পেনের মজলিস পাদ্রী কবি ও বাবু সমাজের কাহিনী বলা যায় তৎকালীন সমাজের দ্বিচারিতা ও কেচ্ছা সমৃদ্ধ দিকগুলি এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়। 

(৩) গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য:- হুতোম প্যাঁচার নকশায় প্রকাশিত তথ্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল-- (ক) তৎকালীন কলকাতার সমাজচিত্রের ইতিহাস তুলে ধরা বিশেষ করে কলকাতার বাবু কালচারের ছবি। (খ) এটি একটি তৎকালীন নির্ভরযোগ্য সামাজিক দলিল। 

উপসংহার:- ঊনবিংশ শতকের কলকাতার ধনী, মধ্যবিত্ত এবং সাধারন সমাজে যে ভন্ডামি তিনি দেখেছেন তার ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের কষাঘাতের মধ্য দিয়ে সমাজ সংস্কারের কাজ করেছেন। 


৫) 'নব বেদান্ত' সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারা আলোচনা করো।   ৪ 

উত্তর: 

ভূমিকা:- উনিশ শতকে ধর্মসংস্কার আন্দোলনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো 'নব বেদান্ত'। এটি ছিল স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম, কর্ম ও সাধনার মূল ভিত্তি। স্বামীজীর সকল বার্তায় হল বেদান্ত বা উপনিষদের শাশ্বত বার্তা; তার গুরু শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে সেই বার্তা বাস্তবে প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

স্বামীজীর চিন্তাধারা:- বেদান্তের মধ্য দিয়ে উদ্ভাসিত হয় সহনশীলতা, সেবাকর্ম, উন্নয়ন এবং জাগরণের চিন্তাধারা। বেদান্ত অনুসারে ঈশ্বরই সকল মানব এবং তার মত ও পথকে ধারণ করে আছে। স্বামীজীর সকল বার্তার মধ্যে নিহিত আছে বেদান্তের বার্তা; তিনি ভারতের অধঃপতনের জন্য দায়ী করেন জাতিভেদ প্রথা ও অস্পৃশ্যতাকে। জ্ঞানযোগের সঙ্গে কর্মযোগের সমন্বয় সাধনের কথা বলা হয়, তিনি বলেন ' শিবজ্ঞানে জীবসেবা'। তিনি সমাজ ও সংস্কারের কাজে তাঁর বেদান্তের ভাবনাকে তুলে ধরেন, তিনি বলেন সাধারণ মানুষের সেবার মধ্যে নিহিত আছে ব্রহ্মের সেবা; তিনি তাঁর 'নব বেদান্তে' সংসার ধর্ম ও পারস্পরিক ধর্মকে আলাদা করে দেখেননি। তাঁর বাণীতে-- 

"সম্মুখে তোমার ছাড়ি / কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর 

জীবে প্রেম করে যেইজন / সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।"

উপসংহার:- স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর 'নব বেদান্ত' বাদের দ্বারা মানুষকে মুক্তির এক নতুন পথের সন্ধান দেন। মানুষের মনে স্থাপন করেন ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস। 


৬) কলকাতা মেডিকেল কলেজের সূচনা সম্পর্কে যা জানো লেখো।   ৪ 

উত্তর: 

ভূমিকা:- ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতা মেডিকেল কলেজ ভারতবর্ষের প্রথম আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যাচর্চার প্রতিষ্ঠান। ভারতে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যাচর্চার প্রসার ঘটেনি, কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এর সূচনা হয়। 

শিক্ষা বিষয়ক কমিটি:- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে লর্ড বেন্টিঙ্ক একটি শিক্ষা বিষয়ক কমিটি গঠন করেন; এর সভাপতি ছিলেন গ্র্যান্ট। ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে এই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে ভারতবর্ষে আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যাচর্চার প্রয়োজন এবং তার সূচনা করবার কথা জানান। 

কলেজ প্রতিষ্ঠা:- ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন ড: জোসেফ ব্রামলি‌। কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দান করেন মতিলাল সেন। আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যায় শিক্ষিত চিকিৎসক ও সেবক-সেবিকা গড়ে তোলায় হয়ে ওঠে এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।  

উল্লেখযোগ্য ছাত্র:- কলকাতা মেডিকেল কলেজের প্রথম ছাত্ররা ছিলেন দ্বারকানাথ গুপ্ত, রাজকৃষ্ণ দে প্রমুখরা। প্রথম মহিলা ছাত্রী ছিলেন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী। মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন প্রথম ভারতীয় যিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজের শব ব্যবচ্ছেদ করেন ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে। 


৭) উনিশ শতকে বাংলার সমাজ সংস্কারে ব্রাহ্মসমাজের উদ্যোগ আলোচনা করো।   ৮ 

উত্তর: 

ভূমিকা:- ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠার মূলে ছিল দুটি উদ্দেশ্য; যেমন প্রথমত, একদিকে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারকরা তাদের প্রকট হিন্দুধর্ম ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় নিয়ে এসেছিল এবং দ্বিতীয়ত, তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের কুসংস্কার ও কুপ্রথাগুলি এমনভাবে সমাজে বিপর্যয় নিয়ে আসে যে, সেগুলিকে দূর করতে না পারলে হিন্দুধর্ম ও সমাজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যাবে না -- এইরূপ পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মসমাজের উদ্ভব ঘটে। 

রামমোহন রায়:- রামমোহন বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে এই সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে একেশ্বরবাদই হল সকল ধর্মের মূল কথা। রামমোহন উপনিষদকে ভিত্তি করে ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে একটি ব্রাহ্ম সভা প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীকালে 'ব্রাহ্মসমাজ' নাম ধারণ করে। এই ব্রাহ্মসমাজের উদ্দেশ্য ছিল পৌত্তলিকতাবাদ বর্জন করে নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করা। রামমোহনের সংস্কারমুক্ত যুক্তিবাদী মন হিন্দু সমাজে প্রচলিত বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কন্যাপণ, কৌলিন্য প্রথা, জাতিভেদ প্রথা, অস্পৃশ্যতা, গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন প্রভৃতি বহুবিধ ও সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। এগুলি নিবারণের জন্য তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দ থেকেই নিজ জীবন তুচ্ছ করে তিনি সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন এবং জনমত গঠনে ব্রতী হন। হিন্দু শাস্ত্র ও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে তিনি প্রমাণ করেন যে, সতীদাহ ধর্মবিরুদ্ধ ও অশাস্ত্রীয়। তাঁর আন্দোলনের প্রভাবে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে সতীদাহ প্রথা নিবারণ করে এক আইন পাস করে। কেবলমাত্র প্রচলিত এই কুপ্রথার হাত থেকে নারীর জীবন রক্ষায় নয়, মর্যাদা সহকারে তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টাও তিনি করেন। তিনি নারী-পুরুষ সমান অধিকারের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। বিধবার পুনর্বিবাহ নিয়ে তিনি চিন্তা করেন, স্ত্রী শিক্ষা বিস্তারের কাজেও তিনি মন দেন। হিন্দু নারীর দায় অধিকার সম্পর্কে তিনিই প্রথম মতামত ব্যক্ত করেন। 

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর:- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে রামমোহনের মৃত্যুর পর ব্রাহ্ম সমাজের আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে, এরপর মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মসমাজের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে দেবেন্দ্রনাথ তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে গড়ে তোলেন 'তত্ত্ববোধিনী সভা'। এই প্রতিষ্ঠান দল-মত নির্বিশেষে সকল বাঙালি বুদ্ধিজীবীর মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং এর উদ্দেশ্য ছিল সংস্কারমুক্ত ধর্ম আলোচনা। এই সময় ব্রাহ্মসমাজ শিক্ষাবিস্তার, বিধবাবিবাহ, বাল্যবিবাহ প্রচলন, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ নিবারণ প্রভৃতি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আলোড়ন তোলে। তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপাত্র 'তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা' তৎকালীন সামাজিক কুসংস্কার ও কুপ্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। ব্রাহ্ম সমাজের আচার অনুষ্ঠান সম্পর্কে যুবকদের শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে তিনি খ্রিস্টাব্দে তত্ত্ববোধিনী পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন অক্ষয় কুমার দত্ত এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষক নিযুক্ত হন। 

কেশবচন্দ্র সেন:- কেশবচন্দ্র সেন ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মসমাজের যোগ দেন। তিনি ব্রাহ্ম আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠা করেন সামাজিক আদর্শ ও ধর্ম বিশ্বাসের ওপর। তিনি ছিলেন পৌত্তলিকতা ও জাতিভেদ প্রথার বিরোধী। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে নীতিগত কারণে তিনি ও তাঁর অনুগামীরা আদি ব্রাহ্মসমাজ থেকে বহিস্কৃত হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন 'ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ'। কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ব্রাহ্মসমাজ বিধবা বিবাহ, স্ত্রী শিক্ষা, অসবর্ণ বিবাহ, সুলভ সাহিত্য প্রচার, নৈশ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাবিস্তার, পতিতা মেয়েদের উদ্ধার ও নানা জনহিতকর কার্যাবলীর পক্ষে এবং বাল্যবিবাহ, মদ্যপান ও পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। মূলত ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলনের ফলেই ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে সরকার বিখ্যাত 'তিন আইন' পাস করেন এবং তার দ্বারা বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হয় এবং বিধবা বিবাহ ও অসবর্ণ বিবাহ আইন সিদ্ধ হয়। সেইদিন কেশবচন্দ্র সেনকে যেসব তরুণ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- শিবনাথ শাস্ত্রী, রামকুমার বিদ্যারত্ন, তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহেন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ। পরবর্তীতে কেশবচন্দ্র সেনের সাথে শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু  প্রমুখ নবীন ব্রাহ্ম নেতাদের বিরোধ দেখা দিলে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে তারা প্রতিষ্ঠা করেন 'সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ' এবং এরপর ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে কেশবচন্দ্র সেন প্রতিষ্ঠা করেন 'নববিধান' নামে একটি সংঘ। 

উপসংহার:- ভারতের নবজাগরণের ইতিহাসের ব্রাহ্ম সমাজের অবদান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাহ্মসমাজ উনিশ শতকে ধর্মীয় মনোভাব, স্বাধীনতা, জাতীয়তাবোধ প্রভৃতি প্রচার করে সামাজিক ও জাতীয় অগ্রগতিতে বিশেষ সহায়ক হয়ে উঠেছিল। 


১) ভারতে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে খ্রিস্টান মিশনারীদের অবদান কী ছিল?  ২ 

উত্তর:-  খ্রিস্টান মিশনারীরা ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের উপর জোর দিয়েছিলেন, ভারতের নানা অঞ্চলে তারা প্রচুর বিদ্যালয় স্থাপন করেন। জর্জ মার্শম্যান, ওয়ার্ড এবং উইলিয়াম কেরি ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন ব্যাপটিস্ট মিশন। তাঁরা ১২৬ টি বিদ্যালয় স্থাপন করেন; এইসব বিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজার ছাত্র পড়ার সুযোগ পায়।   

২) মেকলে মিনিটস বলতে কী বোঝায়? ২

উত্তর:-  পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে শিক্ষা বিভাগের প্রধান এবং উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আইন সচিব টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ৭ ই মার্চ যে প্রস্তাব বা প্রতিবেদন পেশ করেন, তাকে 'মেকলে মিনিট' বা 'মেকলে প্রস্তাব' বলা হয়। 

৩) ক্রমনিম্ন পরিস্রুত নীতি কী?  ২ 

উত্তর:-  পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে মেকলের লক্ষ্য ছিল যে, যদি উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার বিস্তার ঘটানো যায় তাহলে ধীরে ধীরে তা সাধারণ বা নিম্নবিত্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। এই নীতি 'ক্রমনিম্ন পরিস্রুত নীতি' নামে পরিচিত। 

৪) ভারতে কোন নির্দেশনামাকে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়?   ২ 

উত্তর:-  বোর্ড অফ কন্ট্রোল এর সভাপতি চার্লস উড শিক্ষাসংক্রান্ত নির্দেশনামাকে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয়। ভারতে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এই নির্দেশনামার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। 

৫) হাজী মুহাম্মদ মহসীনের শিক্ষাচিন্তা বিষয়ে উল্লেখ করো।  ২ 

উত্তর:-  মুসলমান সম্প্রদায় যাতে শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে সেদিকে মোঃ হাজী মহসিন দৃষ্টি দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যাপারে তিনি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। 

৬) লালন ফকিরের ধর্মচিন্তা সম্পর্কে উল্লেখ করো।  ২ 

উত্তর:-  লালন ফকির ছিলেন বাংলার আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, তিনি ধর্ম সম্পর্কে ছিলেন উদার। তিনি দীর্ঘকাল নবদ্বীপে থেকে শাস্ত্র চর্চা করেছিলেন। সহজ-সরল গানের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর জীবনের আদর্শ এবং সর্বধর্ম সমন্বয়ের ধারা বহন করেন। তাঁর নিজের জীবনে হিন্দু-মুসলিম বিতর্ককে ঘিরে তিনি গান রচনা করেন-- "সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে....." 

৭) বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর পরিচয় দাও।  ২ 

উত্তর:-  উনিশ শতকের বাংলার একজন অন্যতম সাধক ও সংস্কারক ছিলেন বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী, তাঁর জন্ম ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে। বিজয়কৃষ্ণের সঙ্গে ব্রাহ্মনেতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় ঘটলে বিজয়কৃষ্ণ তাঁর প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এবং তিনি ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন। কিছুকালের মধ্যেই তিনি ব্রাহ্মধর্মের প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং আচার্যের পদে অধিষ্ঠিত হন। 

৮) 'তিন আইন' দ্বারা কী কী স্বীকৃত হয়?  ২ 

উত্তর:-  তিন আইন পাশ হয় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে। এই আইন দ্বারা 'বহুবিবাহ' এবং 'বাল্যবিবাহ' নিষিদ্ধ করা হয়, পাশাপাশি 'অসবর্ণবিবাহ' স্বীকৃত হয়। 

৯) 'নব্য বেদান্তবাদ' বলতে কী বোঝো?  ২ 

উত্তর:-  'বেদান্ত' সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দের নতুন থেকে তিনি যে ব্যাখ্যা দেন তা 'নব্য বেদান্তবাদ' নামে পরিচিত। 'নব্য বেদান্তবাদ' অনুসারে, মানব সেবাই হল ব্রহ্মের সেবা।

১০) উনিশ শতকে বাংলার 'নবজাগরণ' বলতে কী বোঝায়?  ২ 

উত্তর:-  উনিশ শতকের শুরু থেকেই বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের ফলে সমাজ-সংস্কৃতি ও ধর্মের ওপর যে প্রভাব পড়ে তার দ্বারা বাঙালির ভাবজগত তথা, বৌদ্ধিক জগতে এক পরিবর্তন সূচিত হয়। এই প্রবর্তনই হলো উনিশ শতকে বাংলার 'নবজাগরণ'। 

১১) নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী কাদের বলা হত?  ২ 

উত্তর:-  ঊনবিংশ শতকের প্রথম ভাগে হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ডিরোজিওর নেতৃত্বে তাঁর অনুগামী একদল তরুণ বাংলায় সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্য নিয়ে এক চরমপন্থী আন্দোলনের সূচনা করেন। ডিরোজিও এবং তাঁর অনুগামী তরুণদের নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী বলা হত। ডিরোজিওর অনুগামীরা হলেন- কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, প্যারীচাঁদ মিত্র, রসিককৃষ্ণ মল্লিক প্রমুখ। 

১২) ডেভিড হেয়ার সম্পর্কে কী জানো?  ২ 

উত্তর:-  ডেভিড হেয়ার ছিলেন স্কটল্যান্ডের একজন ঘড়ি ব্যবসায়ী; তিনি ভারতবর্ষের আসেন ও এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের জন্য চেষ্টা করেন। তিনি হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা নেন। নিজে পটলডাঙা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে 'হেয়ার স্কুল' নামে পরিচিত। 

১৩) কালীপ্রসন্ন সিংহের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের নাম লেখো।  ২ 

উত্তর:-  কালীপ্রসন্ন সিংহের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হল- (১) হুতোম প্যাঁচার নকশা (২) মালতীমাধব (৩) বাবু এবং (৪) মহাভারতের বঙ্গানুবাদ। 

১৪) দীনবন্ধু মিত্র রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম লেখো।  ২ 

উত্তর:-  দীনবন্ধু মিত্র রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল- (১) নীলদর্পণ (২) সধবার একাদশী (৩) নবীন তপস্বিনী (৪) বিয়ে পাগলা বুড়ো। 

১৫) কয়েকজন ব্রাহ্মণ নেতার নাম লেখো।  ২ 

উত্তর:-  ব্রাহ্মনেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-- রাজা রামমোহন রায়, কেশবচন্দ্র সেন, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু, বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী প্রমুখ। 

১৬) ব্রাহ্মসমাজের যে কোনো দুটি সমাজ সংস্কারমূলক কাজের উল্লেখ করো।  ২ 

উত্তর:-  ব্রাহ্মসমাজের সংস্কারমূলক কাজ হলো-- (১) মদপান নিবারণ করা, (২) অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। 

১৭) স্বামী বিবেকানন্দ রচিত কয়েকটি গ্রন্থের নাম লেখো।  ২ 

উত্তর:-  স্বামী বিবেকানন্দ রচিত কয়েকটি গ্রন্থ হল-- 'কর্মযোগ', 'জ্ঞানযোগ', 'রাজযোগ', 'বর্তমান ভারত', 'পরিব্রাজক', 'ভাববার কথা', :প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য' ইত্যাদি। 

১৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কয়েকটি উপন্যাসের নাম লেখো।  ২ 

উত্তর:-  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কয়েকটি উপন্যাস-- 'কপালকুণ্ডলা', 'দুর্গেশনন্দিনী', 'দেবী চৌধুরানী', 'আনন্দমঠ', 'রাজসিংহ', 'সীতারাম', 'বিষবৃক্ষ', 'কৃষ্ণকান্তের উইল' প্রভৃতি। 

১৯) 'পাশ্চাত্যবাদী' বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়?  ২ 

উত্তর:-  ব্রিটিশ নিয়োজিত জনশিক্ষা কমিটির সদস্য- মেকলে, আলেকজান্ডার ডাফ, কোলভিন, সন্ডার্স প্রমুখরা ভারতবর্ষে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারে বিশ্বাসী ছিলেন, তাই এরা 'পাশ্চাত্যবাদী' নামে পরিচিত। 

২০) 'প্রাচ্যবাদী' বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়?  ২ 

উত্তর:-  ভারতবর্ষে জনশিক্ষা বিষয়ে ব্রিটিশ নিয়োজিত কমিটির সদস্য- প্রিন্সেপ, উইলিয়াম প্রমুখরা ছিলেন প্রাচ্যশিক্ষা প্রসারের সমর্থক, তাই এদের 'প্রাচ্যবাদী' বলা হয়। 




মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১

মাধ্যমিক ভূগোল, বায়ুমন্ডল, দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর

১) উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস করো।  ৫ 

উত্তর: উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে উল্লম্বভাবে বায়ুমন্ডলকে সাধারণত ছয়টি স্তরে ভাগ করা যায়। যথা- (১) ট্রপোস্ফিয়ার (২) স্ট্রাটোস্ফিয়ার (৩) মেসোস্ফিয়ার (৪) থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার (৫) এক্সোস্ফিয়ার (৬) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার। 

(১) ট্রপোস্ফিয়ার: 'ট্রপো' কথার অর্থ পরিবর্তনশীল, তাই ট্রপোস্ফিয়ার বলতে বোঝায় সর্বদা পরিবর্তনশীল মন্ডলকে। বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন স্তরের গড় উচ্চতা 14 কিমি। ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের ঊর্ধ্বে এর উচ্চতা 18 কিমি এবং কমতে কমতে মেরুতে 8 কিমিতে পৌঁছায়। কুয়াশা, মেঘ, বৃষ্টিপাত, ঝড়-বৃষ্টি, যাবতীয় আবহাওয়ার প্রক্রিয়াগুলির সংঘটিত হয় এই স্তরে। এই স্তরকে 'ক্ষুব্ধমন্ডল'ও বলা হয়। এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর গতিবেগ বৃদ্ধি পায় ও উষ্ণতা ৬.৪ ডিগ্রি হারে হ্রাস পায়। ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ারের সীমারেখা 'ট্রপোপজ' নামে পরিচিত।

(২) স্ট্রাটোস্ফিয়ার: ট্রপোপজের উর্দ্ধে প্রায় 50 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্তরটি বৃষ্টিপাত, মেঘ, ঝড়-ঝঞ্ঝা মুক্ত হওয়ায় 'শান্তবলয়' নামেও পরিচিত। এই স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। 15 থেকে 35 কিমি উচ্চতার মধ্যে অতিবেগুনি রশ্মি শোষণকারী ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব সর্বাধিক বলে, ওই অংশের নাম ওজোন স্তর। স্ট্রাটোস্ফিয়ার ও মেসোস্ফিয়ারের সীমারেখা হল স্ট্রাটোপজ। 

(৩) মেসোস্ফিয়ার: স্ট্রাটোপজের ওপর থেকে 80 কিমি পর্যন্ত মেসোস্ফিয়ার স্তর। এই স্তরে তাপমাত্রা কমতে কমতে --85°C হয় ও বায়ুর চাপ খুব কম থাকে। মেসোস্ফিয়ারের সর্বোচ্চ অংশে যেখানে উষ্ণতা হ্রাস বন্ধ হয়ে সমতাপ স্তরের সৃষ্টি করে, তাকে বলে মেসোপজ। 

(৪) থার্মোস্ফিয়ার: বায়ুমণ্ডলের এই স্তরের বিস্তার মেসোপজ থেকে ভূপৃষ্ঠের উপর 500 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত। উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উষ্ণতা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় 1200 ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়। এই স্তরের অপর নাম 'আয়নোস্ফিয়ার'। এই স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। 

(৫) এক্সোস্ফিয়ার: বায়ুমণ্ডলের এই স্তরটি 500 থেকে 750 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে 1600 ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়। হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকে। 

(৬) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার: ভূপৃষ্ঠ থেকে 1000 থেকে 16000 কিমি উচ্চতায় অবস্থিত এই স্তর এক্সোস্ফিয়ারের ওপরে অবস্থিত। এখানে শুধুমাত্র ইলেকট্রন ও প্রোটন দেখা যায়, এটি একটি চুম্বক ক্ষেত্র। 


২) উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য উষ্ণতা হ্রাস পায় কেন?  ৩ 

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা হ্রাস পায়। প্রতি 1 কিমি উচ্চতা বৃদ্ধিতে 6.4°C উষ্ণতায হ্রাস পায়, একে নর্মাল ল্যাপস রেট বলে। কারণ, এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধিতে ধূলিকণার পরিমাণ যেমন কমে তেমনি বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ কম বলে বিকিরণের প্রভাব কমে, তাই উষ্ণতাও কমে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চ স্থানের উষ্ণতা কম হয় এবং একই অক্ষাংশে অবস্থিত উচ্চস্থানের উষ্ণতা নিম্নস্থান অপেক্ষা কম হয়। 


৩) এরোসল কাকে বলে?   ২ 

উত্তর: বায়ুতে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণাকে এরোসল বলে। মরু অঞ্চল ও সমুদ্রতীরের অতি সূক্ষ্ম ধুলোবালি, বিভিন্ন কলকারখানার ধাতবকণা ও পোড়া ছাই, আগ্নেয়গিরি থেকে উৎক্ষিপ্ত ছাই এবং উল্কার ধ্বংসাবশেষ প্রভৃতি এরোসেলের উৎস। 


৪) অ্যালবেডো কী?   ২ 

উত্তর: সূর্যরশ্মির তাপীয় ফলের 34% বায়ুমন্ডলে অবস্থিত মেঘপুঞ্জ, ধূলিকণা, ভূপৃষ্ঠ থেকে বিচ্ছুরিত ও প্রতিফলিত হয়ে বৃহৎ তরঙ্গরূপে পুনরায় মহাশূন্যে ফিরে যায়। ফলে তা বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করতে পারে না, একে পৃথিবীর অ্যালবেডো বলা হয়। 


৫) স্ট্রাটোস্ফিয়ারকে 'শান্তমন্ডল' বলে কেন?   ৩ 

উত্তর: স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের বায়ুতে অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া শান্ত ও শীতল থাকে। বায়ু নিশ্চল থাকে। মেঘ, ঝড়ঝঞ্জা ও বৃষ্টিপাত হয় না। সেজন্য স্ট্রাটোস্ফিয়ারকে 'শান্তমন্ডল' বলা হয়। শান্ত আবহাওয়ার জন্য এই স্তরের মধ্য দিয়ে জেট বিমানগুলি যাতায়াত করে। বায়ুপ্রবাহ থাকে না বলে জেট বিমানের ইঞ্জিন থেকে নির্গত ধোঁয়া পুচ্ছাকারে সাদা দাগের মত দেখায়। 


৬) ট্রপোস্ফিয়ারকে 'ক্ষুব্ধমন্ডল' বলা হয় কেন?   ২ 

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদানের 75% এবং জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা ইত্যাদি এই স্তরে যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। তাই বজ্রঝড়, ঝড়, বৃষ্টি, কুয়াশা প্রভৃতি আবহাওয়ার যাবতীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সমস্ত প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই স্তরে ঘটে বলে এই স্তরকে 'ক্ষুব্ধমন্ডল' বলা হয়।


৭) কার্যকরী সৌর বিকিরণ বলতে কী বোঝো?   ২

উত্তর: সূর্য থেকে আগত মোট শক্তির 200 কোটি ভাগের 1 ভাগকে যদি আমরা 100% ধরি তবে তার 34% ভূপৃষ্ঠকে কোনোভাবে উত্তপ্ত করতে পারে না। কিন্তু অবশিষ্ট 66% পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ প্রভৃতি পদ্ধতিতে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে, তাকে কার্যকরী সৌর বিকিরণ বলে।


৮) আয়োনোস্ফিয়ারে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় কেন?   ২

উত্তর: থার্মোস্ফিয়ার স্তরটির নীচে রয়েছে আয়োনোস্ফিয়ার। এই অংশে বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় রশ্মি তড়িদাহিত হয়ে ইলেকট্রনে ভেঙে যায় এবং পজিটিভ ও নেগেটিভ আয়নের প্রাচুর্য ঘটায়। এইসব আয়নের দ্বারা বেতার তরঙ্গ সরাসরি প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে।  


৯) "ওজোন স্তরের বিনাশে মানুষের কার্যাবলী অধিক গুরুত্বপূর্ণ" -- ব্যাখ্যা দাও।   ৩

উত্তর: ওজোন স্তরের বিনাশে মানুষের কার্যাবলী অনেকাংশে দায়ী। ইলেকট্রনিক ও কম্পিউটার শিল্পের বিভিন্ন দ্রব্য, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র প্রভৃতি থেকে সৃষ্ট ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের প্রভাবে ওজোনস্তরে ছিদ্র সৃষ্টি হচ্ছে এবং ঘনত্ব কমে যাচ্ছে। আন্টার্কটিকা মহাদেশে ওপর ওজোন স্তরের ক্ষয় বা পাতলা হয়ে যাওয়াকে বিজ্ঞানীরা 'ওজন গহবর' নামকরণ করেছেন। মানুষের ব্যবহৃত জিনিসের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে পরোক্ষভাবে ওজোন স্তরের বিরাজ করছে।


১০) বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের গুরুত্ব লেখো।   ৩  

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের গুরুত্ব - 
(১) বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির জন্য মেঘ সৃষ্টি হয়। ঘনীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জলীয় বাষ্প থেকে মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষার ও তুহিন সৃষ্টি হয়। 

(২) উচ্চ আকাশে জলীয় বাষ্পের ঘনীভবনের ফলে লীনতাপ সৃষ্টি হয়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটায়। 

(৩) জলীয়বাষ্প বায়ুর উষ্ণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। জলীয় বাষ্পের তারতম্যের জন্য উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে।  

১) উষ্ণতার বৈপরীত্য কী?  ২
উত্তর:-  উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে তাকে 'উষ্ণতার বৈপরীত্য' বলে। সাধারণত, শীতকালে পরিষ্কার মেঘমুক্ত আকাশে শান্ত আবহাওয়ায় পর্বতের উপরের অংশের বায়ু দ্রুত শীতল হয়ে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পর্বতের ঢাল বেয়ে নীচের উপত্যকায় নেমে আসে। ফলে পর্বতের উপরের অংশের তুলনায় নীচের অংশের উষ্ণতা বেশ কম হয়, একে 'বৈপরীত্য উষ্ণতা' বলে। 

২) ইনসোলেশন কী?  ২ 
উত্তর:-  সূর্য থেকে আগত রশ্মি বায়ুমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় 6000 ডিগ্রী সেলসিয়াস, যার 200 কোটি ভাগের এক ভাগ ক্ষুদ্র তরঙ্গ রূপে প্রতি সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিমি বেগে পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। একে ইনস্লোশন বা সূর্যরশ্মির তাপীয় ফল বলে। 

৩) সমোষ্ণরেখা কাকে বলে?  ২ 
উত্তর:-  ভূপৃষ্ঠের যেসব স্থানসমূহে বছরের কোন একসময়, সাধারণত জানুয়ারি ও জুলাই মাসে উষ্ণতার গড় প্রায় একইরকম থাকে সেইসব স্থানের উপর দিয়ে যে কাল্পনিক রেখা টানা হয় অর্থাৎ সমান উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে রেখার মাধ্যমে দেখানো হয়, তাকে সমোষ্ণরেখা বলে। 

৪) গ্রীনহাউস কৃষি কী?  ৩ 
উত্তর:-  তুন্দ্রা অঞ্চলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার জন্য কাচের ঘরের মধ্যে উষ্ণতা বাড়িয়ে যে কৃষি পদ্ধতি লক্ষ্য করা যায়, তাকে গ্রিনহাউস কৃষি বলে। সূর্যরশ্মির ক্ষুদ্র তরঙ্গরূপে এই ঘরে প্রবেশ করলেও তা মাটিতে ধাক্কা খেয়ে বৃহৎ  তরঙ্গরূপে ফিরে যাওয়ার সময় আর বেরোতে পারে না। ফলে কাচের ঘরের মধ্যে উষ্ণতা বাড়ে। এতে বাইরের উষ্ণতার থেকে ভেতরের উষ্ণতা অনেকটা বেড়ে যায়। ফুল, ফল, শাকসবজি চাষে বিশেষ সুবিধা হয়। 

৫) একই অক্ষাংশে অবস্থিত কলকাতার তুলনায় বিলাসপুরের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন কেন?  ৩ 
উত্তর:-  প্রকৃতিগত কারণেই জলভাগ ও স্থলভাগের উপর বায়ুর উষ্ণতা সমান নয়। দিনের বেলায় সূর্যকিরণ সমভাবে জল ও স্থলের উপর পড়লেও একই সময়ের মধ্যে জল অপেক্ষা স্থল বেশি তাড়াতাড়ি তাপ শোষণ করে, অন্যদিকে রাতের বেলা জল অপেক্ষা স্থল বেশি দ্রুত তাপ বিকিরণ করে। সমুদ্র থেকে দেশের অভ্যন্তরে দূরত্ব যতই বাড়ে শীত-গ্রীষ্মের উষ্ণতার পার্থক্য ততই বাড়তে থাকে। তাই সমুদ্র থেকে বহু দূরে অবস্থান করার জন্য প্রায় একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্বেও কলকাতার তুলনায় বিলাসপুরের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়। 

৬) বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং কাকে বলে?  ৩ 
উত্তর:-  সূর্য থেকে বিকিরিত শক্তির প্রায় শতকরা 66 ভাগ ক্ষুদ্র তরঙ্গরূপে পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। বৃহৎ তরঙ্গে এই সৌরতাপ বিকিরিত হওয়ার সময় বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয়বাষ্প ও অন্যান্য গ্যাস দ্বারা শোষিত হয়ে পৃথিবীকে উত্তপ্ত রাখে, একে গ্রীনহাউস এফেক্ট বলে। কিন্তু বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির মাত্রা অতিরিক্ত হয়ে পড়লে পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপের সবটা মহাশূন্যে ফিরে যেতে পারে না। বায়ুমন্ডলের ওই গ্যাসগুলির স্তরে বাধা পেয়ে পুনরায় তা ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে এবং বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে। এইভাবে পৃথিবীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা অপেক্ষা উষ্ণতার এই ক্রমবর্ধমান অবস্থাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলা হয়। 

৭) "পৃথিবীব্যাপী বৃষ্টিপাতের বণ্টনে এল নিনোর প্রভাব দেখা যায়" -- ব্যাখ্যা করো।  ৩ 
উত্তর:-  এল নিনোর প্রভাবে পেরু ও চিলির পশ্চিমাংশে তীব্র নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এই নিম্নচাপের প্রভাবে পেরু ও ইকুয়েডরে প্রচুর বৃষ্টি হয় ও বন্যার সৃষ্টি হয়। আটাকামা মরুভূমিতে বার্ষিক বৃষ্টিপাত 10 থেকে 25 সেমি হলেও এল নিনোর প্রভাবে বছরে 300 থেকে 400 সেমি বৃষ্টিপাত হয়। এছাড়াও এল নিনোর প্রভাবে যেসব অঞ্চল প্রভাবিত হয় সেগুলি হল-- উত্তর ও মধ্য আমেরিকার পশ্চিম উপকূল, উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্ব ও মধ্য পশ্চিমাংশে ও কানাডায় শীতের প্রকোপ কমে। আবার অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাংশে গভীর উচ্চ চপের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, নিউগিনি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফিলিপাইনস, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ প্রভৃতি অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়, অনাবৃষ্টি, খড়া ও গ্রীষ্মে তার প্রভাব সৃষ্টি করে।  

৮) সমচাপরেখা বা আইসোবার কাকে বলে?  ২ 
উত্তর:-  মানচিত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই বায়ুচাপ বিশিষ্ট অঞ্চলগুলিকে কোন কাল্পনিক রেখা দ্বারা যোগ করলে যে রেখা পাওয়া যায়, তাকে সমচাপরেখা বা সমপ্রেষরেখা বলে। সমচাপরেখা কল্পনা ক্ষেত্রে কোন জায়গায় বায়ুচাপের পরিমাণকে সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপের পরিবর্তন করতে হয়। 

৯) বাইস ব্যালট সূত্রটি লেখো।  ২ 
উত্তর:-  ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে ডাচ আবহবিদ বায়ুচাপের তারতম্যের সঙ্গে বায়ু প্রবাহের সম্পর্ক সম্বন্ধে একটি সূত্র উদ্ভাবন করেন। সূত্রটি হল-- বায়ুপ্রবাহের দিকে পিছন করে দাঁড়ালে ডান দিক থেকে বাম দিকে বায়ুর চাপ কম অনুভূত হয় অর্থাৎ উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে উচ্চচাপ হবে এবং বাম দিকে নিম্নচাপ হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা হবে, এই সূত্রটির বাইস ব্যালট সূত্র নামে পরিচিত।

১০) কোরিওলিস বল কী?  ২ 
উত্তর:-  ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি গণিতজ্ঞ গ্যাসপার ডি কোরিওলিস -এর মতে, পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য এক দিকবিক্ষেপক শক্তি বা বলের সৃষ্টি হয় যার ফলে পৃথিবীতে স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দগতিতে প্রবাহিত বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত সরল প্রবাহপথ থেকে উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এই দিক বিক্ষেপক শক্তি বা বলকে কোরিওলিস বল বলা হয়। 

১১) ফেরেলের সূত্রটি লেখো।  ২ 
উত্তর:-  ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকান আবহবিদ উইলিয়াম ফেরেল প্রথম এই সূত্রটি আবিষ্কার করে এই সূত্র অনুযায়ী পৃথিবীর আবর্তন ও কোরিওলিস শক্তির জন্য উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয় এর দিকে যাওয়ার সময় উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। যথা- উত্তর গোলার্ধে আয়ন বায়ু ডান দিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু রুপে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু রূপে প্রবাহিত হয়। 

১২) নিয়ত বায়ু কাকে বলে?  ২
উত্তর:-  যেসকল বায়ু একটি নির্দিষ্ট উচ্চচাপ বলয় থেকে একটি নির্দিষ্ট নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়, তাদের নিয়ত বায়ু বলে। 

১৩) আয়ন বায়ুকে বাণিজ্য বায়ু বলা হয় কেন?  ২ 
উত্তর:- আয়ন বায়ু সারাবছর নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথে প্রবাহিত হয়, তাই আগেকার দিনে নাবিকেরা আয়ন বায়ুর গতিপথ ধরে পালতোলা জাহাজে বাণিজ্য চালাত। সেই কারণে আয়ন বায়ুকে বাণিজ্য বায়ু বলা হয়। 

১৪) ITCZ কাকে বলে?  ২ 
উত্তর:-  নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর একটি স্থায়ী নিম্নচাপ বলয় অবস্থান করে। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের উভয়পাশে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় অবস্থান করতে দেখা যায়। তাই নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলে উত্তর দিক থেকে আগত উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ দিক থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়ে এখানে এসে মিলিত হয়, এই কারণে এই অঞ্চলকে আন্তঃ ক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল বা ITCZ (Inter Tropical Convergence Zone) বলা হয়। 

১৫) অশ্ব অক্ষাংশ কাকে বলে?  ২
উত্তর:-  উত্তর গোলার্ধে আটলান্টিক মহাসাগরে বিস্তৃত কর্কটীয় শান্তবলয় (২৫℃ --৩৫℃) অশ্ব-অক্ষাংশ নামে পরিচিত। পূর্বে যখন পালতোলা জাহাজের সাহায্যে বাণিজ্য করা হতো তখন জাহাজ বায়ুপ্রবাহের অভাবে গতিহীন হয়ে পড়ত। তখন জাহাজকে হালকা করার জন্য বেশ কিছু ঘোড়াকে নাবিকগণ জলে ফেলে দিত। তাই কর্কটীয় শান্তবলয় 'অশ্ব-অক্ষাংশ' নামে পরিচিত। 

১৬) গর্জনশীল চল্লিশা কাকে বলে?  ২ 
উত্তর:  দক্ষিণ গোলার্ধে পশ্চিমা বায়ু বিভিন্ন সমাক্ষরেখা বিভিন্ন প্রকার শব্দ করে প্রবাহিত হয় বলে সমাক্ষরেখা অনুসারে পশ্চিমা বায়ু বিভিন্ন নামে পরিচিত হয়েছে। 40 ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের উপর দিয়ে পশ্চিমা বায়ু প্রচন্ড বেগে প্রবাহিত হয়, তাই একে গর্জনশীল চল্লিশা বলে। 

১৭) মেরু বায়ুর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।  ২ 
উত্তর:-  মেরু বায়ুর দুটি বৈশিষ্ট্য হলো- (১) মেরু বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব মেরু বায়ুরূপে প্রবাহিত হয়‌ (২) এই বায়ু মেরুদেশ থেকে প্রবাহিত হয় বলে অত্যন্ত শীতল ও শুষ্ক হয়। 

১৮) তুষার ভক্ষক কী এবং কেন?  ২ 
উত্তর:-  উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ু চিনুককে তুষার ভক্ষক বলা হয়। শীতকাল ও বসন্তকালে রকি পর্বতের অনুবাত ঢাল দিয়ে প্রেইরি অঞ্চলের দিকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়। পশ্চিম দিক থেকে আগত এই বায়ু পর্বতের অনুবাত ঢাল দিয়ে নেমে আসায় এই বায়ুর উষ্ণতা কিছুক্ষণের মধ্যে ১৫℃ -- ২০℃ বেড়ে যায়। এই বায়ুর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার ফলে অনুবাত পার্শ্বের বরফ গলে যায়। তাই রেড ইন্ডিয়ানরা এই বায়ুকে 'চিনুক' বা 'তুষার ভক্ষক' নাম দিয়েছেন। 

১৯) অ্যানাবেটিক বায়ু কাকে বলে?  ২ 
উত্তর:-  পার্বত্য অঞ্চলে দিনের বেলা সৌর বিকিরণে উপত্যকার দুইপাশের ঢালের উপর বায়ু যে পরিমান উষ্ণ হয়, উপত্যকার মধ্যভাগের উপরের বায়ু ওই একই উচ্চতায় ততটা উষ্ণ হয় না, শীতল থাকে এবং উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়।‌ এই উচ্চচাপের বায়ুর চাপেই পর্বতগাত্রের উপর উষ্ণবায়ু পর্বতগাত্র বেয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে। এই প্রকার বায়ুকে উপত্যকা বায়ু বা অ্যানাবেটিক বায়ু বলা হয়। 

২০) ক্যাটাবেটিক বায়ু কাকে বলে?  ২
উত্তর:-  পার্বত্য অঞ্চলে রাত্রিবেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পার্বত্য উপত্যকার উপরের বায়ু নীচের বায়ুর থেকে বেশি শীতল হয়। তখন পর্বতের ঢাল বেয়ে শীতল ও ভারী বায়ু উপত্যকার দিকে নেমে আসে। এই প্রকার বায়ুকে ক্যাটাবেটিক বায়ু বা পার্বত্য বায়ু বলা হয়। 

২১) ঘূর্ণবাত কাকে বলে?  ২ 
উত্তর:-  স্বল্প পরিসরে উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হঠাৎ বায়ুর চাপ কমে গেলে সেই অঞ্চলের বায়ু ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং তাপের সমতা রক্ষার জন্য পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বায়ু চক্রাকারে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে পর্যায়ক্রমে প্রবেশ করে উষ্ণ ও হালকা হয়ে উপরের দিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে পড়তে থাকে। এইরূপ নিম্নচাপ কেন্দ্রমুখী প্রবল বায়ুপ্রবাহকে ঘূর্ণবাত  বলে। 
২২) প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে?  ২ 
উত্তর:-  হিমমন্ডল বা নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলের অল্প পরিসরে অধিক শীতলতার জন্য উচ্চচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। তখন সেখান থেকে বাইরের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে শীতল ও শুষ্ক বায়ু প্রবল বেগে কুন্ডলী আকারে চারিদিকে প্রবাহিত হয়। এইরপ কেন্দ্র বহির্মুখী ও নিম্নগামী ঘূর্ণায়মান বায়ুপ্রবাহকে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে। 

২৩) জেট বায়ুর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।  ২ 
উত্তর:-  জেট বায়ুর দুটি বৈশিষ্ট্য হলো- (১) জেট বায়ু নলের মতো সরু সংকীর্ণ পথে প্রবাহিত হয়। (২) এই বায়ুর গতিবেগ অত্যন্ত বেশি, ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ৩০০ কিমি। 


১) বিভিন্ন প্রকার বৃষ্টিপাতের শ্রেণীবিভাগ করে যেকোনো একটি সম্পর্কে চিত্রসহ আলোচনা করো।  ৫ 
উত্তর:-  বায়ুর ঊর্ধ্বগমন ও শীতলীকরণ পদ্ধতির তারতম্য অনুসারে বৃষ্টিপাতকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- পরিচলন বৃষ্টিপাত, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণ বৃষ্টিপাত। 

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের বর্ণনা

সংজ্ঞা: জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু কোন পর্বত বা উচ্চভূমিতে বাধাপ্রাপ্ত হয় উপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাদ ঢালে যে বৃষ্টি ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে। 

উৎপত্তি বা পদ্ধতি: সমুদ্র থেকে আগত জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে প্রবাহিত হওয়ার সময় আড়াআড়িভাবে কোন পর্বত বা উচ্চভূমির গাত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয় উপরে উঠে যায়। ঊর্ধ্বগামী এই বায়ু প্রসরিত ও শীতল হতে থাকে। এরপর এই শীতল বায়ুর মধ্যে উপস্থিত জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। পর্বতের গাত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে এই বৃষ্টিপাত হয় বলে একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে। 
    পর্বতের বিপরীত দিকে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে বায়ু ক্রমশ নিচের দিকে নামে ও উষ্ণ হয়। ফলে এই বায়ু ঘনীভূত হতে পারেনা, এইজন্য পর্বতের অনুবাত ঢালে তেমন বৃষ্টি হয় না বলে একে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। 

 
উদাহরণ:  
(১) মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ে চেরাপুঞ্জির মৌসিনরামে পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়‌। এই পাহাড়ের বিপরীত দিকে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে অবস্থিত শিলং বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

(২) পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয় কিন্তু পূর্ব ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। 


২) ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর অবস্থান ও প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি বর্ণনা করো।   ৫ 
উত্তর:- 
অবস্থান
(১) অক্ষাংশগত: উভয় গোলার্ধে 10 ডিগ্রি থেকে 30 ডিগ্রী উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে মহাদেশগুলির পূর্বে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু দেখা যায়। 
(২) মহাদেশগত: 
এশিয়ার মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ চীন প্রভৃতি। এছাড়াও আফ্রিকার পশ্চিম অংশ, দক্ষিণ আমেরিকার ভেনজুয়েলা, ব্রাজিলের পূর্ব উপকূল, ওশিয়ানিয়ার উত্তর, অস্ট্রেলিয়া, কুইন্সল্যান্ড প্রভৃতি অঞ্চলে এই প্রকার জলবায়ু দেখা যায়। 

বৈশিষ্ট্য:
(১) উষ্ণতা: গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা 27 ডিগ্রি থেকে 32 ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শীতকালীন গড় উষ্ণতা 10 ডিগ্রি থেকে 27 ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর প্রায় 15 ডিগ্রী সেলসিয়াস হয়। 

(২) বৃষ্টিপাত: বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 100 সেমি থেকে 150 সেমি হয়। মৌসুমী বায়ুর অনিশ্চয়তার কারণে বৃষ্টিপাত অনিয়মিত হয়। 

(৩) বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ: মৌসুমী জলবায়ু মৌসুমী বায়ু দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। এই অঞ্চলে ঋতুভেদে ভিন্নধর্মী বায়ু প্রবাহিত হয় অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও শীতকালে শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুপ্রবাহের 180° পরিবর্তন হয়। 

(৪) ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমী জলবায়ুতে চারটি ঋতু গ্রীষ্মকাল (মার্চ থেকে মে), বর্ষা (জুন থেকে সেপ্টেম্বর), শরৎ (সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর) ও শীত (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। 

(৫) প্রকৃতি: মৌসুমি জলবায়ুর প্রধান চরিত্র হল- উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক ও মৃদু শীতল শীতকাল। 


৩) জেট বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে মৌসুমী বায়ুর সম্পর্ক আলোচনা করো।   ৫ 
উত্তর:-  মৌসুমী বায়ু প্রবাহের উপর জেট বায়ু প্রবাহের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব দেখা যায়। দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমী ঋতুতে বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে প্রবল পূবালী বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ুপ্রবাহের মধ্যে প্রায় 15 কিমি উচ্চতায় একটি সুস্পষ্ট ক্রান্তীয় পূবালী জেট প্রবাহ অবস্থান করে। গ্রীষ্মের শেষে দক্ষিণ ভারতের উপর এই জেট প্রবাহটির আগমন হলে মৌসুমী বায়ু প্রবাহের সূচনা হয়। 

(১) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও জেট বায়ুপ্রবাহ:  সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অংশবিশেষ মাত্র এক থেকে দেড় কিমি উচ্চতায় অবস্থিত একটি জেটরূপে প্রবাহিত হয়। পশ্চিমে আফ্রিকা থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে 10 ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে এই ধরনের আরেকটি বায়ুপ্রবাহের সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতের সাধারণত 9 থেকে 12 কিমি উচ্চতা দিল্লি থেকে গুয়াহাটির দিকে প্রচন্ড গতিতে জেট বায়ুপ্রবাহ বয়ে চলেছে। ভারতে যখন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় তখন 13 ডিগ্রি অক্ষাংশের কাছাকাছি পূর্ব থেকে পশ্চিমে 11 কিমি উচ্চতায় অপর একটি জেট আত্মপ্রকাশ করে। এই পূবালী জেট ভারতের মাঝ বরাবর অবস্থান করে নিম্নচাপ সৃষ্টি করলে ভারতে মৌসুমী বায়ুর আগমন ঘটে। উপক্রান্তীয় পশ্চিমী জেট সরে গেলে ভারতে মৌসুমী বিস্ফোরণ ঘটে। 

(২) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি ও জেট বায়ুপ্রবাহ:  নিম্ন বায়ুমণ্ডলের পূবালী জেট বায়ুর প্রভাব থাকলেও ঊর্ধ্ব ট্রপোস্ফিয়ারের পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব থাকে। পশ্চিমা বায়ু শীতকালীন পশ্চিমী ঝামেলাকে নিয়ন্ত্রণ করে। পশ্চিমী জেট বায়ু ঘূর্ণবাতগুলিকে অধিক সক্রিয় করে তোলে এবং প্রবল বজ্রঝড়ের সৃষ্টি করে, একে প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাত বলে। 


৪) উদাহরণসহ বায়ুপ্রবাহের শ্রেণীবিভাগ করো।   ৫ 
উত্তর:-  ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বা অনুভূমিকভাবে বায়ুচলাচলকে বলে বায়ুপ্রবাহ। 

বায়ুপ্রবাহের শ্রেণীবিভাগ:  উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ভূপৃষ্ঠের বায়ুপ্রবাহকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। (১) নিয়ত বায়ু (২) সাময়িক বায়ু (৩) স্থানীয় বায়ু (৪) আকস্মিক বায়ু। 

(১) নিয়ত বায়ু:  পৃথিবীপৃষ্ঠে সারা বছর ধরে যে স্থায়ী উচ্চচাপ বলয় থেকে স্থায়ী নিম্নচাপ বলয়ের দিকে নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথে এবং নির্দিষ্ট গতিবেগে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলা হয়। প্রবাহের দিক, গতি ও অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে নিয়ত বায়ুকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।। যথা-(i) আয়ন বায়ু (ii) পশ্চিমা বায়ু (iii) মেরু বায়ু। 

(২) সাময়িক বায়ু:  দিন বা রাতের একটা নির্দিষ্ট সময়ে অথবা বছরের কোন এক নির্দিষ্ট ঋতুতে ভূপৃষ্ঠে কতকগুলি বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়, একে সাময়িক বায়ু বলে। বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা ও চাপের পার্থক্যই সাময়িক বায়ু প্রবাহের কারণ। প্রবাহের স্থান ও দিনের তারতম্য অনুসারে সাময়িক বায়ুকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- (i) স্থলবায়ু,  (ii) সমুদ্র বায়ু, (iii) মৌসুমী বায়ু এবং (iv) উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু।  

(৩) স্থানীয় বায়ু:  ভূপৃষ্ঠের কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় ভূ প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের পার্থক্যের জন্য বছরের নির্দিষ্ট সময়ে স্থানীয় চাপ ও তাপের তারতম্য ঘটে। এই কারণে ভূপৃষ্ঠের নির্দিষ্ট অঞ্চলে কতগুলো বায়ু প্রবাহিত হয়। এদের স্থানীয় বায়ু বলে। বায়ুর প্রকৃতি অনুসারে স্থানীয় বায়ুকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- (i) উষ্ণ স্থানীয় বায়ু (ফণ, চিনুক, সিরোক্কো, হারমাট্টান, খামসিন, সাইমুম, লু, আঁধি) (ii) শীতল স্থানীয় বায়ু (বোরা, জোন্ডা, মিস্ট্রাল,পম্পেরো)। 

(৪) আকস্মিক বায়ু:  হঠাৎ বায়ুচাপের পরিবর্তনে আকস্মিক ও অনিয়মিতভাবে প্রবল বেগে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে আকস্মিক বায়ু বলে। কেন্দ্রে চাপের তারতম্যের ওপর নির্ভর করে আকস্মিকভাবে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। যথা- (i) ঘূর্ণবাত  (ii) প্রতীপ ঘূর্ণবাত। 


৫) নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টি কেন ঘটে?  ৩  
উত্তর:-  নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিন বিকেল চারটের সময় পরিচলন পদ্ধতিতে বৃষ্টি হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটার কারণগুলি হল-- 

(১) নিরক্ষীয় অঞ্চলে জলভাগের বিস্তার সবচেয়ে বেশি।  
(২) নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর সূর্য লম্বভাবে আপতিত হয়। তাই এই অঞ্চলে উত্তাপ অনেক বেশি।  
(৩) জলভাগ থেকে জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে এই অঞ্চলের বায়ু হালকা হয়ে সর্বদাই উপরে উঠতে থাকে এবং লীনতাপ ত্যাগ করে ঘনীভূত হয়।। ঘনীভবনের ফলে লীনতাপ বায়ুকে আরও উপরে তুলে দেয়। তাই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মেঘের সঞ্চার ঘটে। এই বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন পরিচলন পদ্ধতিতে বৃষ্টিপাত ঘটে।  
(৪) নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্বাভাবিক উদ্ভিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে বাষ্পমোচনের হার বেশি হয় এবং বায়ুতে জলীয় বাষ্পের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ও ঘনীভূত হয়ে পরিচালন বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে।

শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১

একাদশ ইতিহাস - চতুর্থ অধ্যায়ের VSA

১) কে, কেন ভারত ইতিহাসে 'মেকিয়াভেলি' নামে পরিচিত? 
উত্তর: প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, দার্শনিক তথা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী ও সমর বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন কৌটিল্য চাণক্য নামে তক্ষশীলার এক ব্রাহ্মণ, যিনি তাঁর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা জন্য ভারত ইতিহাসে মেকিয়াভেলি নামে পরিচিত। 

২) অর্থশাস্ত্রের বিষয়বস্তু কী ? 
উত্তর: কৌটিল্য রচিত অর্থশাস্ত্র গ্রন্থটি থেকে মধ্যযুগের ভারতের আর্থসামাজিক অবস্থার বাস্তবচিত্রের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রকৃতি, রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থা, রাজার দৈনন্দিন কার্যকলাপ, দণ্ডনীতি, আমলাতন্ত্র, যুদ্ধজয়ের উপায়, বিচারব্যবস্থা, বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও গুপ্তচর ব্যবস্থা প্রভৃতি সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারা যায়। 

৩) জিয়াউদ্দিন বরনী কে ছিলেন? 
উত্তর: জিয়াউদ্দিন বরনী ছিলেন ভারতে তুর্কি যুগের বিখ্যাত ঐতিহাসিক। তিনি গিয়াসউদ্দিন বলবন থেকে আলাউদ্দিন খলজী ও মহম্মদ বিন তুঘলক পর্যন্ত তিন জন সুলতানের সমসাময়িক ছিলেন। তাঁর রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল 'ফতোয়া-ই-জাহান্দারি' এবং 'তারিখ-ই-ফিরোজশাহী'। 

৪) ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্রের মূল বৈশিষ্ট্য কী? 
উত্তর: ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল-- প্রথমত, এই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সর্বশক্তিমান ঈশ্বর একক সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। দ্বিতীয়ত, এখানে ঈশ্বরের আদেশ বা নির্দেশ আইন হিসেবে প্রযুক্ত হয়। তৃতীয়ত, ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে পুরোহিত বা শাসনকার্য পরিচালনা করেন। 

৫) ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়? 
উত্তর: সাধারণভাবে যে রাষ্ট্রে ধর্ম ও রাজনীতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক বর্তমান থাকে তথা পুরোহিত বা যাজক বা উলেমাদের দ্বারা রাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয়, তাকে ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্র বলে। উল্লেখ‍্য, ধর্মাশ্রয়ী শাসনব্যবস্থার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'থিওক্রেসি' কথাটি গ্রিক শব্দ 'থিওস' থেকে এসেছে যার অর্থ 'দেবতা'। কয়েকটি ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্র হল আফগানিস্তান, ইরান, সৌদি আরব প্রভৃতি। 

৬) উলেমা কারা? 
উত্তর: ইসলাম ধর্ম ও শরিয়তী আইনের ব্যাখ্যাকার মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদদের উলেমা বলা হয়। এরা সুলতানি আমলে বিচার ও প্রশাসনের উচ্চপদে নিযুক্ত হতেন। 

৭) সিসেরো কে ছিলেন? 
উত্তর: রোমের প্রখ্যাত মনীষী মার্কাস তুলিয়াস সিসেরো একাধারে ছিলেন দার্শনিক, সাহিত্য রচয়িতা, আইনজ্ঞ, বাগ্মী, কনসাল ও সর্বোপরি সংবিধান বিশেষজ্ঞ। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তথা প্রখ্যাত প্রজাতান্ত্রিক চিন্তাবিদ হিসেবেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত। 

৮) সিসেরোর দুটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম লেখো। 
উত্তর: সিসেরোর দুটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম হল-- i) De Republica  ii) De Lagibus (On the Laws)। এগুলি ল্যাটিন ভাষায় রচিত। 

৯) সপ্তম হেনরি কে ছিলেন? 
উত্তর: সপ্তম হেনরি ছিলেন ইংল্যান্ডের টিউডর বংশের প্রতিষ্ঠাতা। সিংহাসন আরোহণের পরপরই তিনি ইংল্যান্ডের শাসন ব্যবস্থা তথা রাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। 

১০) নব্য রাজতন্ত্র বলতে কী বোঝো? 
উত্তর: ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে টিউটর বংশীয় সপ্তম হেনরির ইংল্যান্ডে সিংহাসন আরোহনের মাধ্যমে পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি,, আভিজাত্য ও সামন্ত প্রভুদের ক্ষমতা হ্রাস, বিচার বিভাগের মর্যাদা বৃদ্ধি ও যুক্তিবাদী জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা-সহ শাসনতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহীত হয়। সপ্তম হেনরি প্রতিষ্ঠিত এই রাজতন্ত্রকে 'নব্য রাজতন্ত্র, নামে অভিহিত করা হয়।

১১) টিউডর বিপ্লব কী? 
উত্তর: দ্বিতীয় টিউডর শাসক অষ্টম হেনরির প্রধান উপদেষ্টা টমাস ক্রমওয়েলের নেতৃত্বে পোপের পরিবর্তে রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতীয় চার্চ গঠন তথা জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা-সহ ইংল্যান্ডের সরকার ও প্রশাসনের একাধিক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সংঘটিত হয়। এটি আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর প্রশস্ত করে বলে এই ঘটনা টিউডর বিপ্লব নামে অভিহিত হয়। 

১২) টমাস ক্রমওয়েল কে ছিলেন? 
উত্তর: টমাস ক্রমওয়েল ছিলেন ইংল্যান্ডের টিউডর বংশের শাসক অষ্টম হেনরির প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর উদ্যোগেই ইংল্যান্ডে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র কায়েম হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত রাজদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে টমাস ক্রমওয়েলকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়। 

১৩) অ্যাক্ট অফ সুপ্রেমেসি আইন কে, কবে পাস করেন? 
উত্তর: ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে টিউডর বংশের শাসক অষ্টম হেনরির চ্যান্সেলর তথা মুখ্য উপদেষ্টা টমাস ক্রমওয়েল অ্যাক্ট অফ সুপ্রেমেসি আইন পাস করেন। 

১৪) টমাস হবসের 'লেভিয়াথান' গ্রন্থ রচনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কী ছিল? 
উত্তর: সপ্তদশ শতকে ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধ, পিউরিটান বিপ্লব, রাজা প্রথম চার্লসের শিরশ্ছেদ, অলিভের ক্রমওয়েল নেতৃত্বাধীন প্রজাতান্ত্রিক সরকারের দুর্নীতিজনিত পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ টমাস হবস্ রাজতন্ত্রকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে ফ্রান্সে নির্বাসনে থাকাকালীন ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে 'লেভিয়াথান' গ্রন্থটি রচনা করেন। 

১৫) ম্যান্ডারিন বলতে কী বোঝায়? 
উত্তর: কনফুসীয় দর্শনের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন চৈনিক সাম্রাজ্যে সরকারি আমলাদের 'ম্যান্ডারিন' নামে অভিহিত করা হত। অত্যন্ত কঠিন ও নিরপেক্ষ সরকারী পরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ম্যান্ডারিনরা নিযুক্ত হতেন। 

১৬) চীনে কেন ম্যান্ডারিন ব্যবস্থার প্রচলন ঘটে? 
উত্তর: চীনের ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়, অর্থের যোগান, প্রদেশগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইন সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি প্রভৃতি বিষয়গুলি দেখাশোনার জন্য ম্যান্ডারিন ব্যবস্থার প্রচলন ঘটে। 

১৭) ইক্তা ব্যবস্থা কী? 
উত্তর: 'ইক্তা' শব্দের অর্থ হলো ভাগ বা অংশ। এটি সুলতানি আমলের এক ধরনের ভূমি ব্যবস্থা ও শাসনতান্ত্রিক বিভাজন। দিল্লির সুলতান সামরিক বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের নির্দিষ্ট শর্তে ও কাজের বিনিময়ে বড় বড় ভূখণ্ড দান করতেন। এই ধরনের সামরিক অঞ্চলকে ইক্তা এবং ইক্তার প্রাপককে বলা হত মুক্তি বা ইক্তাদার। 

১৮)  সিজদা ও পাইবস কী? 
উত্তর: সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন রাজতন্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য রাজদরবারে যেসব পারসিক অভিবাদন প্রথা চালু করেছিলেন, সেগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল সিজদা অর্থাৎ সিংহাসনের সামনে নতজানু হওয়া এবং পাইবস অর্থাৎ সুলতানের পদযুগল চুম্বন করা। 

১৯) 'মনসব' শব্দের অর্থ কী? 
উত্তর: 'মনসব' শব্দটি হল একটি ফারসি শব্দ। এর অর্থ হলো পদমর্যাদা বা Rank, এই পদমর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিরা পরিচিত ছিল মনসবদার নামে। মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজস্ব ভাবনায় ভারতে প্রথম মনসবদারি প্রথা চালু করেন। 
২০) 'দাগ' ও 'হুলিয়া' কী? 
উত্তর: সেনা ও অশ্বপোষণ সংক্রান্ত মনসবদারদের দুর্নীতি ও অসাধুতা রোধের জন্য মোগল সম্রাট আকবর 'দাগ' ও 'হুলিয়া' প্রথা সূচনা করেন। দাগ হল যুদ্ধাশ্ব চিহ্নিতকরণ ব্যবস্থা এবং হুলিয়া হলো সেনাদের নাম, ঠিকানা ও কাজের বিবরণমূলক দলিল। 

২১) 'ওয়াতন জায়গীর' বলতে কী বোঝো?
উত্তর: মুঘল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হিন্দু জমিদার ও রাজন্যবর্গ বংশানুক্রমিক ভাবে যে জায়গীর ভোগ করতেন, তাকে ওয়াতন জায়গীর বলা হয়। 

২২) 'মন্ডল তত্ত্ব' কী? 
উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থশাস্ত্রের রচয়িতা কৌটিল্যের মতে, "সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী রাষ্ট্র হল প্রকৃতিগত বা স্বভাবজাত শত্রু এবং তার পরবর্তী রাষ্ট্র হল স্বাভাবিক মিত্র" -- এই দৃষ্টিতে রাজা রাষ্ট্রের শত্রু-মিত্র নির্ণয় করবেন। এই রাষ্ট্রতত্ত্ব 'মন্ডল তত্ত্ব' নামে পরিচিত। 

২৩) 'সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব' কী? 
উত্তর: কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্র গ্রন্থে রাষ্ট্রকে একটি জীবদেহের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন যে, জীবদেহ যেমন তার বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সচল থাকে তেমনই রাস্ট্রও তার সাতটি অঙ্গের মাধ্যমে সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়। সেগুলি হল-- স্বামী বা রাজা, অমাত্য, দুর্গ, জনপদ, কোশ, দণ্ড এবং মিত্র। রাষ্ট্রের এই সাতটি পরস্পর সম্পর্কিত অঙ্গ 'সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব' নামে পরিচিত। 

২৪) 'স‍্যাট্রাপি ব্যবস্থা' কী? 
উত্তর: অ্যকামেনীয় সাম্রাজ্যে সুশাসনের জন্য সমগ্র সম্রাজ্যকে কতগুলি প্রদেশকে ভাগ করা হয়েছিল। এর শাসনকর্তা বা প্রাদেশিক গভর্নর 'স‍্যাট্রাপ' নামে পরিচিত এবং পারস্য সাম্রাজ্যে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থা-ই 'স‍্যাট্রাপি ব্যবস্থা' নামে পরিচিত। 

২৫) শরীয়ত কী? 
উত্তর: ইসলামিক ধর্মগ্রন্থ কোরানে আল্লাহর বাণীর ভিত্তিতে রচিত মুসলমানদের অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কিত আইনবিধি 'শরীয়ত' নামে পরিচিত। এই শরীয়ত অনুযায়ী রাষ্ট্র শাসন ছিল ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। 

২৬) অনুলোম বিবাহ ও প্রতিলোম বিবাহ কী? 
উত্তর: অর্থশাস্ত্রে আট প্রকার বিবাহের উল্লেখ আছে। 'অনুলোম বিবাহ' হলো উচ্চবর্ণের পুরুষ ও নিম্নবর্ণের নারীর মধ্যে বিবাহ এবং 'প্রতিলোম বিবাহ' বলতে নিম্নবর্ণের পুরুষ ও উচ্চবর্ণের নারীর বিবাহকে বোঝায়। 

২৭) অর্থশাস্ত্রে কয় প্রকার রাজস্বের কথা বলা হয়েছে এবং কী কী? 
উত্তর: অর্থশাস্ত্রে তিন প্রকার রাজস্বের কথা বলা হয়েছে। ক) সীতা-- রাজার খাস জমি থেকে আদায়ীকৃত কর। খ) ভাগ-- প্রজাদের ব্যক্তিগত জমি থেকে উৎপন্ন ফসলের ১/৬ অংশ কর এবং গ) বলি-- বাধ্যতামূলক কর। 

২৮) 'অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থটি কে, কবে আবিষ্কার করেন? 
উত্তর: মহীশুরের পন্ডিত ড: আর. শ‍্যাম শাস্ত্রী ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃত ভাষায় লেখা 'অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থটি আবিষ্কার করেন এবং এটি ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়। 

২৯) জাঁ বোঁদার মতে, রাষ্ট্র কী?  
উত্তর: ষোড়শ শতকের ফরাসি রাষ্ট্রচিন্তাবিদ জাঁ বোঁদার মতে, রাষ্ট্র হল বিষয়সম্পত্তি-সহ কতকগুলি পরিবারের সমষ্টি, যা সার্বভৌম শক্তি ও যুক্তির দ্বারা শাসিত এবং একটি নির্দিষ্ট শক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। 

৩০) অষ্টম হেনরি কে ছিলেন? 
উত্তর: অষ্টম হেনরি টিউডর রাজবংশের দ্বিতীয় শাসক ছিলেন এবং তিনি তাঁর পিতা সপ্তম হেনরির পর সিংহাসনে বসেন। ক্যাথলিক গির্জা থেকে ইংল্যান্ডের গির্জাকে পৃথক করে তিনি পরিচিতি লাভ করেন।