শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪

মাধ্যমিক বাংলা, অধ্যায়ভিত্তিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

 জ্ঞানচক্ষু 

১) "রত্নের মূল্য জহুরির কাছে" - 'রত্ন' ও 'জহুরী' কে? জহুরি রত্নের মূল্যায়ন কেমনভাবে করেছিলেন? ৩ 

২) "আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন" - আজ বলতে কোন দিনের কথা বলা হয়েছে? তপনের এমন মনে হওয়ার কারণ কী? ২+ ৩ 

৩) "পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে" - কোন ঘটনাটিকে অলৌকিক ঘটনা বলা হয়েছে? কেন তাকে অলৌকিক ঘটনা বলা হয়েছে? ১+২ 

৪) "নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের" - তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে যাওয়ার কারন কী? ৩ 

৫) "ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে" - কোন্ কথাটি কীভাবে ছড়িয়েছিল? ৩ 

৬) "তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার চেয়ে অপমানের" - কোন দুঃখ ও অপমানের কথা বলা হয়েছে? ৩ 

৭) "এর প্রত্যেকটি লাইনে তো নতুন আনকোরা" - 'এর' বলতে কীসের কথা বলা হয়েছে? বিষয়টির প্রসঙ্গসহ তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। ২+৩ 

৮) "মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা" - কার মেসো? তার কাজ উপযুক্ত কাজটি কী? ১+২ 


অসুখী একজন 

১) "সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না" - কোন মেয়েটির কথা বলা হয়েছে? তার মৃত্যু হল না কেন? ১+২ 

২) "সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন" - সমতলে আগুন ধরার কারন কী? এর ফল কী হয়েছিল? ২+৩ 

৩) "শান্ত হলুদ দেবতারা" - দেবতাদের,'শান্ত' ও 'হলুদ' বলা হয়েছে কেন? ৩ 

৪) "তারপর যুদ্ধ এলো / রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মত" - যুদ্ধকে 'রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের' সঙ্গে কেন তুলনা করা হয়েছে, তা কবিতা অনুসরণে লেখো। ৫ 

৫) "যেখানে ছিল শহর / সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠ-কয়লা" - 'অসুখী একজন' কবিতা অবলম্বনে শহরের এই পরিণতি কীভাবে হয়েছিল লেখো। ৫ 


আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি 

১) "আমাদের ইতিহাস নেই" - একথা বলার কারণ কী? ৩ 

২) "আমরাও তবে এইভাবে / এই মুহূর্তে মরে যাব নাকি" - তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। ৩ 

৩) "তবু তো কজন আছি বাকি" - 'তবু' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে কেন? এখানে কবির কোন ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে? ২+৩ 

৪) 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় একদিকে সামাজিক অবক্ষয় অন্যদিকে আশাবাদ যেভাবে ধ্বনিত হয়েছে তা উদ্ধৃতিসহ আলোচনা করো। ৫ 

৫) "আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে" - মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো। ৩ 

৬) "আমরা ভিখারি বারোমাস" - আমরা কারা? এমন উক্তির কারণ কী? ১+২ 


আফ্রিকা 

১) "দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে" - কাকে দাঁড়াতে বলা হয়েছে? 'মানহারা মানবী' বলার তাৎপর্য কী? ১+২ 

২) "হায় ছায়াবৃতা" - 'ছায়াবৃতা' বলার কারণ কী? তার সম্পর্কে কবি কী বলেছেন, সংক্ষেপে লেখো। ২+৩ 

৩) "চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে" - 'তোমার' বলতে কার কথা বলা হয়েছে? তার অপমানিত ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও‌। ২+৩  

৪) "এসো যুগান্তরের কবি" - 'যুগান্তের কবি' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? এই আহ্বানের তাৎপর্য লেখো। ১+২

৫) "নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে" -  'যাদের' বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের নখ তীক্ষ্ণ কেন? ১+২


হারিয়ে যাওয়া কালি কলম 

১) ফাউন্টেন পেন বাংলায় কী নামে পরিচিত? নামটি কার দেওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে? ফাউন্টেন পেনের জন্ম ইতিহাস লেখো।  অথবা  "বিমর্ষ্ষ ওয়াটারম্যান মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন" - ওয়াটারম্যাান কে? তিনি বিমর্ষ হয়েছিলেন কেন? তার প্রতিজ্ঞার ফল কী হয়েছিল? ১+১+৩ 

২) কালি কলমের প্রতি ভালোবাসা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধের কীভাবে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। ৫ 

৩) "প্রাচীনেরা বলতেন...."-- কী বলতেন? সহজে কালি তৈরির পদ্ধতি বর্ণনা করো। ১+৪ 

৪) প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ কলমের বিবর্তনকে যেভাবে প্রকাশ করেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।  অথবা  'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধের লেখক কলমের যে অতীত ও বর্তমান রূপের কথা উল্লেখ করেছেন তা সংক্ষেপে লেখো। ৫ 

৫) "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বেশ কয়েক বছর পরের ঘটনা" - কোন ঘটনার নির্দেশ করা হচ্ছে তা লেখো। ৫ 


বহুরূপী 

১) "আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?" - কাকে একথা বলা হয়েছে? তাকে এ কথা বলা হয়েছে কেন? ১+২ 

২) "এ ভয়ানক দুর্লভ জিনিস" - কোন জিনিসকে, কেন দুর্লভ বলা হয়েছে? ১+২ 

৩) "হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র‍্য আছে" - হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় দাও। ৫ 

৪) 'বহুরূপী' গল্প অবলম্বনে হরিদার চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। ৫ 

৫) "চমকে উঠলেন জগদীশবাবু" - জগদীশবাবুর পরিচয় দাও। তার চমকে ওঠার কারণ বর্ণনা করো। ২+৩ 

৬) "আমার বুকের ভিতর যে সব তীর্থ" - প্রসঙ্গসহ তাৎপর্য লেখো। ৩ 


অভিষেক 

১) "হায়, বিধি-বাম মম প্রতি" - বক্তা কে? তিনি এমন কথা বলেছেন কেন? ১+২ 

২) "জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া" - কাকে মহাবাহু বলা হয়েছে? তার বিস্ময়ের কারণ কী? ১+২ 

৩) "হা ধিক মোরে" - বক্তা কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন? পাঠ্যাংশ অবলম্বনে তাঁর চরিত্র বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। ১+৪ 

৪) "ঘুচাবো ও অপবাদ বধি রিপুকুলে" - কোন অপরাধের কথা বলা হয়েছে? অপবাদ ঘোচাবার জন্য কী কী করেছিলেন তিনি? ২+৩ 

৫) "এ বারতা, এই অদ্ভুত বারতা, জননী / কোথায় পাইলে তুমি, শীঘ্র কহ দাসে।" - কোন বারতার কথা বলা হয়েছে? এর উত্তরে বক্তা কী জানতে পেরেছিলেন? ২+৩ 


সিরাজদৌলা 

১) "আপনাদের কাছে এই ভিক্ষা যে, আমাকে শুধু আশ্বাস দিন..." - কাদের কাছে বক্তা ভিক্ষা চান? তিনি কী আশ্বাস প্রত্যাশা করেন? ১+৩ 

২) "আমার এই অক্ষমতার জন্য তোমরা আমাকে ক্ষমা করো" - বক্তা কাদের কাছে, কোন অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন? যার উদ্দেশ্যে এ কথা বলা হয়েছে, মন্তব্য শুনে তার কী প্রতিক্রিয়া হয়? ২+২ 

৩) "বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয় -- মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা" - কাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলা হয়েছে? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার কোন ধরণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে? ১+৩ 

৪) "কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা" - কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলা হয়েছে? একথা বলার কারণ কী? ১+৩ 

৫) "বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত‍্যাগ করবেন না" - কাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলা হয়েছে? কোন দুর্দিনের জন্য তার এই আবেদন? ১+৩ 

৬) "জাতির সৌভাগ্যসূর্য আজ অস্তাচলগামী" - কোন জাতি সম্পর্কে এ মন্তব্য করা হয়েছে? তার সৌভাগ্যসূর্যকে অস্তাচলগামী বলার কারণ কী? ১+৩ 

৭) "পলাশী, রাক্ষসী পলাশী!" - কার উক্তি? পলাশীকে রাক্ষসী বলার কারণ কী? ১+৩ 

৮) "মনে হয় ওর নিঃশ্বাসে বিষ, ওর দৃষ্টিতে আগুন" - যার কথা বলা হয়েছে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।  ৪ 

৯) "বলতে পারো, ওই ঘষেটি মানবী না দানবী?"- কে, কাকে কথাটি জিজ্ঞাসা করেছেন? বক্তার এরূপ কেন মনে হয়েছে? ১+৩ 

১০) "আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই; আছে শুধু প্রতিহিংসা" - কে, কাকে একথা বলেছেন? এই উক্তিতে বক্তার কোন মানসিকতা ধরা পড়ে? 

১১) "দুর্দিন না সুদিন" - বক্তা কে? 'দুর্দিন' ও 'সুদিন' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ১+৩ 


প্রলয়োল্লাস 

১) "আসছে নবীন -- জীবনহারা অসুন্দরে করতে ছেদন" - উদ্ধৃত অংশটির তাৎপর্য লেখো। ৩ 

২) "তোরা সব জয়ধ্বনি কর" - কবি কাদের, কেন জয়ধ্বনি দিতে বলেছেন? ২+৩ 

৩) 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় কবি প্রলয় ও আশাবাদের সুর কীভাবে ব্যক্ত করেছেন তা বর্ণনা করো। ৫ 

৪) "বধূরা প্রদীপ তুলে ধর" - বধূদের প্রদীপ তুলে ধরতে বলা হয়েছে কেন? ৩ 

৫) "ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর" - সে কে? 'ভেঙে আবার গড়া'র বিষয়টি বুঝিয়ে দাও। ১+২ 


পথের দাবী 

১) "কেবল আশ্চর্য সেই রোগা মুখের অদ্ভুত দুটি চোখের দৃষ্টি" - কার চোখের কথা বলা হয়েছে? চোখদুটোর বর্ণনা দাও। ১+২ 

২) "বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোল আনাই বজায় আছে" - বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও। ১+৪ 

৩) 'পথের দাবী' রচনাংশ অবলম্বনে অপূর্ব  অথবা  গিরীশ মহাপাত্রের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। ৫ 

৪) "তুমিতো ইউরোপিয়ান নও" - এ কথা কে, কী কারনে বলেছিল? ৩ 

৫) "তাছাড়া এত বড়ো বন্ধু" - কাকে, কেন 'বন্ধু' বলা হয়েছে? ৩ 

৬) " এমন তো নিত্য নিয়তই ঘটছে" - কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে? ৩ 


কোনি 

১) "অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল" - কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে স্থান পেল তা সংক্ষেপে লেখো। 'অবশেষে' কথাটি এক্ষেত্রে কীসের ইঙ্গিত দেয়? ৩+২ 

২) ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে সাঁতারের চ্যাম্পিয়ন করানোর জন্য যে কঠোর অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলেন, তার পরিচয় দাও। ৫ 

৩) দারিদ্র আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির যে লড়াই তা সংক্ষেপে আলোচনা করো। ৫ 

৪) 'কোনি' উপন্যাস অবলম্বনে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের পরিচয় দাও। ৫ 

৫) "চ্যাম্পিয়নরা জন্মায়, ওদের তৈরি করা যায় না" - কোনির জীবনচিত্র উল্লেখ করে মন্তব্যটি বিচার করো। ৫ 

৬) "কোনি তুমি আনস্পোর্টিং" - কোন প্রসঙ্গে, কার এই উক্তি? কোনিকে 'আনস্পোর্টিং' বলার কারণ কী? এরপর কী ঘটেছিলো? ১+২+২ 

৭) "গলার স্বরটা আর্তনাদের মতো শোনাচ্ছে" - কার গলার স্বর? 'গলার স্বর' আর্তনাদের মতো শোনাচ্ছে কেন? ১+৪ 

৮) 'কোনি' উপন্যাস অবলম্বনে কোনির চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। ৫ 

৯) "হঠাৎ তার চোখে ভেসে উঠলো ৭০ সংখ্যাটা" - কোন ঘটনায় এমন হয়েছিল? কোনির কাছে এই সংখ্যার তাৎপর্য কী ছিল? ২+৩ 

১০) "আজ বারুণী। গঙ্গায় আজ কাঁচা আমের ছড়াছড়ি" - বারুণী কী? গঙ্গাতীরের বর্ণনা প্রসঙ্গক্রমে পাঠ্যাংশ অবলম্বনে লেখো। ১+৪ 

১১) "কম্পিটিশনে পড়লে মেয়েটা তো আমার পা ধোয়া জল খাবে" - বক্তা কে? কোন্‌ প্রসঙ্গে তাঁর এই উক্তি? এই উক্তিতে বক্তার কীরূপ মনোভাব ফুটে উঠেছে? ১+২+২ 

১৩) "তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে" - বক্তা কে? প্রসঙ্গসহ এই মন্তব্যের তাৎপর্য লেখো। ১+৪

১৪) "হঠাৎ কোনির দুচোখ জলে ভরে এল" - কোনির দুচোখ জলে ভরে এলো কেন? এরপর কী হয়েছিল? ২+৩ 

১৫) "এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক"  অথবা  "মার খেয়ে ইস্পাত হয়ে উঠতে হবে" - এই উদ্ধৃতাংশটির প্রসঙ্গসহ তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। ৫ 


কারক 

১) কারক কাকে বলে? কয় প্রকার ও কী কী? অকারক কাকে বলে? কয় প্রকার ও কী কী? 

২) বিভক্তি কাকে বলে? শূন্য বিভক্তি কাকে বলে? শূন্য বিভক্তির অপর নাম কী? মৌলিক বিভক্তি / যথার্থ বিভক্তি কাকে বলে? তির্যক বিভক্তি কাকে বলে? বাংলায় কতগুলি শব্দ বিভক্তি রয়েছে? 

৩) অনুসর্গ কাকে বলে? অনুসর্গের অপর নাম কী? নির্দেশক কাকে বলে? 

৪) বিভক্তি ও অনুসর্গের একটি পার্থক্য লেখো। অনুসর্গ ও নির্দেশকের একটি পার্থক্য লেখো। 

৫) অনুসর্গপ্রধান কারক কোনগুলি? বিভক্তিপ্রধান কারণ কোনগুলি? 

৬) নিরপেক্ষ কর্তা কাকে বলে? সমধাতুজ কর্তা কাকে বলে? ব্যতিহার কর্তা কাকে বলে? প্রযোজক কর্তা কাকে বলে? প্রযোজ্য কর্তা কাকে বলে? উক্ত কর্তা কাকে বলে? অনুক্ত কর্তা কাকে বলে? ----     * প্রত্যেকটির উদাহরণ অবশ্যই মনে রাখতে হবে। 

৭) মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম কাকে বলে? উদ্দেশ্য কর্ম ও বিধেয় কর্ম কাকে বলে? সমধাতুজ কর্ম কাকে বলে? ----  * প্রত্যেকটির উদাহরণ অবশ্যই মনে রাখতে হবে। 

৮) সম্বন্ধ পদ কাকে বলে? সম্বন্ধ পদকে অকারক পদ বলা হয় কেন? সম্বোধন পদের একটি বাক্যে প্রয়োগ দেখাও। সমধাতুজ করণ কারকের একটি উদাহরণ দাও। 

৯) 'কারক' শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করো। 'কারক' শব্দের অর্থ কী? 'বিভক্তি' শব্দের সাধারণ অর্থ কী? নির্দেশককে কী বলা হয়? (অব‍্যয়), নির্দেশকের অপর নাম কী? 


সমাস 

১) সমাস কাকে বলে, কয় প্রকার ও কী কী? কোন সমাসের কোন কোন পদের অর্থ প্রাধান্য পায়? প্রত্যেকটি সমাসের একটি করে উদাহরণ। ব্যাসবাক্যের অপর নাম কী? সন্ধি ও সমাসের মধ্যে একটি পার্থক্য। 

২) দ্বন্দ্ব সমাস কাকে বলে? কর্মধারয় সমাস কাকে বলে, কয় প্রকার ও কী কী? উপপদ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে, একটি উদাহরণ। বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে? নিত্য সমাস কাকে বলে? অলোক সমাস কাকে বলে? বাক্যাশ্রয়ী সমাস কাকে বলে? 

৩) উপমান কর্মধারয় সমাস কাকে বলে? উপমিত কর্মধারয় সমাস কাকে বলে? রূপক কর্মধারয় সমাস কাকে বলে? --- এদের প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্যসহ একটি করে উদাহরণ এবং পার্থক্যগুলি দেখে রাখতে হবে, এখান থেকে একটি অবশ্যই দেবে। 


প্রবন্ধ রচনা 

১) বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ / বিজ্ঞানের ভালো মন্দ

২) বিজ্ঞান বনাম কুসংস্কার / কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিজ্ঞান চেতনা / বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান মানসিকতা / কুসংস্কার প্রতিরোধে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা

৩)  শিক্ষা বিস্তারে গণমাধ্যমের ভূমিকা / জনজীবনে সংবাদপত্রের ভূমিকা 

৪) প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞানের দান / আধুনিক জীবন ও বিজ্ঞান

৫) পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা / সমাজকল্যাণে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা  / দেশ গঠনে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা / পরিবেশ সচেতনতা ও ছাত্রসমাজ

৬) পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার / আমাদের জীবনে পরিবেশের ভূমিকা

৭) একটি গাছ একটি প্রাণ / গাছ আমাদের বন্ধু 

৮) চরিত্র গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা

৯) বাংলার উৎসব / বাংলার ঋতুবৈচিত্র‍্য 

১০) শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলি, তোমার বিদ্যালয় জীবন, তোমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা, একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, একটি ঝড়ের রাত, তোমার দেখা একটি মেলা, তোমার বিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন, তোমার প্রিয় বই, তোমার প্রিয় ঋতু, তোমার জীবনের লক্ষ্য, ছাত্রজীবনের স্মরণীয় ঘটনা, একটি বনভোজনের অভিজ্ঞতা, একটি ঝড়ের অভিজ্ঞতা, একটি শীতের সকালের অভিজ্ঞতা, একটি বৃষ্টি ভেজা দিন, ছুটির দিন ---- * এই ধরনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতামূলক একটি রচনা দেবার সম্ভাবনা থাকে। 

১১) সাহিত্য পাঠের প্রয়োজনীয়তা / বই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গী / বই পড়ার আনন্দ

১২) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস / মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা 


প্রতিবেদন রচনা 

১) "নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী" -- এ বিষয়ে সংবাদপত্রের জন্য একটি প্রতিবেদন রচনা করো। ৫ 

২) তোমার এলাকায় একটি পাঠাগার উদ্বোধন হলো -এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। 

৩) তোমার গ্রামীণ এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল উদ্বোধন হলো, এ বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো। 

৪) বিদ্যালয় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

৫) পুকুর ভরাট নিয়ে সংবাদপত্রের জন্য প্রতিবেদন রচনা করো  অথবা  "জলা বুজিয়ে সবুজ ধ্বংস করে আবাসন নয়" - শিরোনামে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

৬) "পথ নিরাপত্তায় রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ" - এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো‌।

৭) "প্লাস্টিক বর্জন আমাদেরই বাঁচাবে" - এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। 

৮) তোমার বিদ্যালয়ে আয়োজিত বিজ্ঞান-প্রদর্শনী নিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

৯) "মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহারে বিপন্ন প্রকৃতি" - এ বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা 

১০) "করোনা এক ভয়াবহ মহামারী" - এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো 

১১) "আমফানে বিপর্যস্ত দক্ষিণবঙ্গের জনজীবন" - এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। 

 

সংলাপ রচনা 

১) বৃক্ষরোপনের উপযোগিতা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো  অথবা  বেআইনিভাবে গাছ কাটার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

২) মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুফল ও কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

৩) পরিবেশ দূষণ, পরিবেশের কতখানি ক্ষতি করছে - সে বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।  

৪) শিক্ষায় পাশ-ফেল প্রথার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

৫) পথ নিরাপত্তার প্রসঙ্গে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

৬) মাধ্যমিকের পর কী নিয়ে পড়বে এবং কেন -- এই নিয়ে কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

৭) "কন্যাশ্রী প্রকল্প ছাত্রীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলেছে" -- এই বিষয়ে কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

 ৮) নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।

৯) ফেসবুকের ভালো মন্দ নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা করো।



সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

2023 দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস বড়ো প্রশ্নোত্তর (সব অধ্যায়) XII - উচ্চমাধ্যমিক

১) ভারতের রেলপথ প্রবর্তনের উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা করো। রেলপথ প্রবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে লেখো।   ৪+৪ 

উত্তর: 

সূচনা :  ঔপনিবেশিক শাসনকালে ভারতে রেলপথের প্রতিষ্ঠা এদেশের অর্থনীতিকে সর্বাধিক প্রভাবিত করেছিল। নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও অন্যান্য প্রয়োজনে ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসি ভারতে প্রথম রেলপথ স্থাপন করেন। ২১ মাইল দীর্ঘ এই রেলপথ স্থাপিত হয়েছিল মুম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত। 

ভারতে রেলপথ প্রবর্তনের উদ্দেশ্যসমূহ : 

(১) সামরিক কারণ :  ভারতের দূরবর্তী স্থানে দ্রুত সেনা বাহিনী প্রেরণ এবং সৈন্যদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ প্রেরণের জন্য রেলপথ স্থাপন ছিল অপরিহার্য।  

(২) যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন :  যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করে বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও বিকাশ ঘটানো ছিল রেলপথ স্থাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য। 

(৩) ব্রিটেনের শিল্প কাঠামোর উন্নয়ন :  রেলপথের মাধ্যমে শিল্প পরিকাঠামোর গঠন করে ব্রিটিশ পুঁজিপতিদের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। এর দ্বারা ব্রিটেনের শিল্প কাঠামোকে উন্নত করে তোলা হয়েছিল। 

(৪) ব্রিটিশ পুঁজি বিনিয়োগ :  ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের ফলে প্রচুর সঞ্চিত উদ্বৃত্ত ব্রিটিশ শিল্পপতিরা বিনিয়োগ করে আরও পুঁজি উপার্জন করতে তৎপর হয়ে ওঠে। ভারতে রেলপথ নির্মাণে মূলধন বিনিয়োগ করা তাদের কাছে যথেষ্ট নিরাপদ ও লাভজনক বলে মনে হয়। তারা এক্ষেত্রে ভারতের রেলপথ নির্মাণকে বেছে নেয়। 

(৫) মুনাফা অর্জন :  ভারতে রেলপথ ব্যবস্থা চালু হলে ইঞ্জিন, মালগাড়ি ও রেলপথের সরঞ্জাম বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে পারবে বলে মনে করে ব্রিটিশ পুঁজিপতিরা। 

(৬) জরুরী পরিস্থিতির মোকাবিলা :  ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্ভিক্ষ ছিল নিয়মিত ঘটনা। দুর্ভিক্ষ, মহামারী বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রভৃতি জরুরি পরিস্থিতিকালীন সময়ে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য রেল পরিবহন খুবই আবশ্যক ছিল। 

(৭) ডালহৌসির উদ্দেশ্য :  লর্ড ডালহৌসি বিশেষ কয়েকটি উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতের রেলপথ স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এই উদ্দেশ্যগুলি হল- 

ক) ভারতের দূরবর্তী অঞ্চল গলিতে দ্রুত সেনাবাহিনী পাঠানো।

খ) দেশের শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলে ব্রিটিশ পুঁজিপতিদের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো। 

গ) রেলপথ স্থাপনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো।

ঘ) দেশের কাঁচামাল বন্দরগুলিতে পৌঁছানো।

ঙ) উৎপাদিত শিল্প সামগ্রী সহজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া প্রভৃতি।

•• ভারতে রেলপথ প্রবর্তনের প্রভাবসমূহ :  

ঔপনিবেশিক ভারতের অর্থনীতিতে রেলপথ নির্মাণের গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। 

সদর্থক প্রভাব :  ভারতে রেলপথ নির্মাণের সদর্থক প্রভাবগুলি হল - 

(১) যোগাযোগের প্রসার :  ভারতে রেলপথ বিস্তারের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে এক কার্যকর ও তৎপর প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়। ভারতে রেলপথের প্রতিষ্ঠা ও প্রসারের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক অগ্রগতি ঘটে।

(২) পরিবহনের উন্নতি :  ভারতে রেলপথ স্থাপনের পর জনগণের যাতায়াত পণ্য চলাচল ইত্যাদি ব্যাপার অনেক সহজ ও সুবিধাজনক হয়ে ওঠে। অতি দ্রুত মানুষ ও পণ্য চলাচল সম্ভব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ ও খরার সময় দূরদূরান্তে খাদ্য পাঠানো সহজ হয়।

(৩) আমদানি বৃদ্ধি :  রেলের মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে মালপত্র পরিবহন করা সম্ভব হতো। বিলাতের বিভিন্ন শিল্প পণ্য ও বিলাস সামগ্রী ভারতের বন্দরে এসে তা রেলের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে পৌঁছে যায়। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ভারতে আমদানির পরিমাণ তিনগুণ বৃদ্ধি পায়।

(৪) শিল্পায়ন :  কার্ল মার্কস বলেছেন যে, রেল ব্যবস্থা ভারতে আধুনিক শিল্পায়নের প্রকৃত অগ্রদূত হবে বাস্তব ক্ষেত্রেও রেলপথের প্রচারের ফলে ভারতের শিল্পের বিকাশের পটভূমি তৈরি হয় রেল ব্যবস্থা স্বল্প ব্যয় কাঁচামালের যোগান দিয়ে এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছে দিয়ে লোহা ইস্পাত কয়লা প্রভৃতি আধুনিক শিল্পের বিকাশে সাহায্য করে।  

(৫) কর্মসংস্থান :  ভারতের রেলপথ স্থাপনের ফলে রেলপথ নির্মাণ, রেল-কারখানা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। দেশের ভূমিহীন কৃষকরা অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে রেলের কাজে নিযুক্ত হয়। ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় রেলে নিযুক্ত মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লক্ষ ৭৩  হাজার।

(৬) আন্তর্জাতিক বাজার :  আগে আঞ্চলিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে ভারতের কৃষি উৎপাদন চলত রেলপথের প্রচারের ফলে ভারতের কৃষি পণ্য রেলের মাধ্যমে বন্দরে পৌঁছে সহজেই আন্তর্জাতিক বাজারে যাওয়ার সুযোগ পায়।

(৭) জাতীয় ঐক্য :  রেলের সম্প্রসারণের ফলে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় এবং ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও জাতীয়তাবোধ বৃদ্ধি পায়।

       মার্কিন ঐতিহাসিক বুকানন বলেছেন যে, "স্বনির্ভরতার যে বর্ম ভারতের গ্রামগুলিকে এতদিন রক্ষা করে এসেছিল, ইস্পাতের রেল সেই বর্ম ভেদ করে গ্রাম-জীবনের রক্ত শোষণ শুরু করে দেয়।" 

নঞর্থক প্রভাব :  দাদাভাই নওরোজি, জি ভি জোশি, রমেশচন্দ্র দত্ত, বলগঙ্গাধর তিলক প্রভৃতি জাতীয়তাবাদী নেতা এদেশের রেলপথ নির্মাণের বহু নঞর্থক প্রভাব বা কুফল লক্ষ্য করেছেন। ড: বিপানচন্দ্র বলেছেন যে, "ভারতে রেলপথের প্রবর্তন ভারতীয় জনজীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে।" ভারতে রেলপথ নির্মাণের কুফলগুলি নিম্নরূপ - 

(১) দেশীয় শিল্পের অবক্ষয় :   ইংল্যান্ডে কলকারখানায় উৎপন্ন সস্তা কাপড় ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী রেল পরিবহনের মাধ্যমে ভারতের বাজার কবজা করে নেয়, ফলে ভারতের কুটির শিল্পের অবক্ষয়ের ঘটে। 

(২) বৈষম :  রেলে ভারতীয় যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আচরণ করা হত। শ্বেতাঙ্গ যাত্রীরা ভারতীয় যাত্রীদের লাঞ্ছনা করত। মালপত্র পরিবহনে  শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে ভারতীয়দের বেশি ভাড়া দিতে হতো।

(৩) সম্পদের বহির্গমন :  প্রথম পর্বে রেলপথ নির্মাণে যে বিপুল পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করা হয়, গ্যারান্টি প্রথার মাধ্যমে সরকার তাতে বার্ষিক পাঁচ শতাংশ সুদ দেওয়ার গ্যারান্টি দেয়। এর ফলে প্রতিবছর সুদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও লাভের মুনাফা বিদেশে চলে যেতে থাকে।

(৪) কর্মসংস্থানে বঞ্চনা :  ভারতের রেলপথের সম্প্রসারণের ফলে রেলের কাজে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। কিন্তু এর উচ্চপদগুলোতে সাধারণত শ্বেতাঙ্গদের নিযুক্ত করা হত। নিম্ন বেতনের শ্রমসাধ্য কাজগুলিতে ভারতীয় অদক্ষ শ্রমিকরা নিযুক্ত হত।

(৫) দুর্ভিক্ষের প্রকোপ :  দুর্ভিক্ষ পীড়িত অঞ্চলে রেলের মাধ্যমে খাদ্য পাঠানোর সহজ তরো হলেও পরোক্ষে এ রেল ব্যবস্থায় আবার দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে।

(৬) এছাড়াও রেল ব্যবস্থার ফলে পরিবেশের ক্ষতি, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈষম্য, রেলব্যবস্থায় ভারতীয় ও ইউরোপীয়দের মধ্যে বৈষম্য ইত্যাদি নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। 


২) বাংলায় নবজাগরণের প্রকৃতি অলোচনা করো। এর সীমাবদ্ধতা কী ছিল?    ৫+৩


সূচনা:  অষ্টাদশ শতকে বাংলার সাংস্কৃতিক পুনরুজ্জীবনকে ঐতিহাসিকগণ নবজাগরণ আখ্যা দিয়েছেন। এইসময় ইংল্যান্ডের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের সঙ্গে বাংলার সংস্পর্শের ফলে এই জাগরণ শুরু হয় যা বাংলার সমাজ, ধর্ম, সংস্কৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। ইতালির নবজাগরণের সাথে তুলনা করে অনেকে বাংলার এই জাগরণকে ‘Bengal Renaissance' বা ‘বঙ্গীয় নবজাগরণ' নামে অভিহিত করেছে। 

নবজাগরণ:  উনিশ শতকের মধ্যবর্তী পর্যায়ে বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষা , জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা, ধর্মীয় উদারতা, সমাজ সংস্কার ও আধুনিক সাহিত্যের বিকাশ শুরু হয় যা উনিশ শতকে বাংলার সমাজ– সংস্কৃতিতে ব্যাপক অগ্রগতি ঘটায়। এই অগ্রগতিকেই ঐতিহাসিকেরা বাংলার নবজাগরণ বলে উল্লেখ করেছেন। 

নবজাগরণের প্রকৃতি ও চরিত্র :  বাংলার নবজাগরণের চরিত্র বিচারে পাশ্চাত্যের উদারপন্থী ভাবধারা, প্রাচ্যের পুনরুজ্জীবনবাদ বা ঐতিহ্যবাহী ভাবধারা এবং সমন্বয়বাদী ভাবধারার পরিচয় লক্ষ করা যায়। নবজাগরণের প্রকৃতি ও চরিত্র বিচার সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে- 

ক) বাংলার নবজাগরণ প্রকৃত নবজাগরণ :  রাজা রামমোহন রায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ মনীষী উনিশ শতকের বাংলার মানসিক স্ফুরণ ও সংস্কার আন্দোলনকে নবজাগরণ বলেছেন। ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার তাঁর 'বাংলার ইতিহাস' গ্রন্থে উনিশ শতকের বাংলাকে 'নবজাগরণের পীঠস্থান' বলে অভিহিত করেছেন। অধ্যাপক সুশোভন সরকারও এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ব্রিটিশ শাসনে বুর্জোয়া অর্থনীতি ও আধুনিক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব অনুভূত হয়। ফলে যে সাংস্কৃতিক জাগরণ ঘটে তাকে সাধারণভাবে 'নবজাগরণ' বলা হয়ে থাকে। 

খ) বাংলার নবজাগরণ প্রকৃত নবজাগরণ নয় :  পন্ডিত অশোক মিত্র ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারির সময় বাংলায় উনিশ শতকের জাগরণকে 'তথাকথিত নবজাগরণ' বলেছেন। গবেষক সুপ্রকাশ রায় বাংলার নবজাগরণকে ইউরোপের থেকে ভিন্ন সামন্ততান্ত্রিক ভূস্বামীদের আন্দোলন বলেছেন। ইউরোপের নবজাগরণ ছিল সামন্ত প্রথার বিরুদ্ধে কিন্তু বাংলার নবজাগরণ ছিল জমিদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সাথে একত্রিত হয়ে সামন্ততান্ত্রিক ভূস্বামীদের আন্দোলন। ঐতিহাসিক বিনয় ঘোষ একে একটি ঐতিহাসিক প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন।

শহরকেন্দ্রিকতা :  বাংলার এই নবজাগরণের প্রভাব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল কলকাতানির্ভর, কখনো তা পার্শ্ববর্তী শহরতলিতে কিছুটা দেখা গেলেও সমগ্র বাংলা জুড়ে এর কোনো প্রভাবই লক্ষ করা যায়নি। 

সরকারপ্রীতি :  উনিশ শতকের এই নবজাগরণের সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবিশেষ সামাজিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু তাঁরা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার বিষয়ে চিন্তিত ছিলেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বললেই চলে। ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার লিখেছেন— “ইংরেজদের দেওয়া সবচেয়ে বড়ো উপহার হলো আমাদের উনিশ শতকের নবজাগরণ।” তিনি ভারতে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠাকে এজন্য ‘গৌরবময় ভোর’ বলে উল্লেখ করেছেন। 

সীমাবদ্ধতা :  বাংলার এই নবজাগরণ কেবলমাত্র মধ্যবিত্ত ও কিছু ক্ষেত্রে উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় এই আন্দোলনকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হয়। জওহরলাল নেহরুর মতে, ঔপনিবেশিক শাসনের জ্ঞানদীপ্তি শুধু উচ্চবর্গের হিন্দুদের ওপরই প্রতিফলিত হয়েছিল। সাধারণ জনগণের মধ্যে এর বিশেষ প্রভাব পড়েনি। 

   মূলত মূলত ব্রিটিশ সভ্যতা ও সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে বাংলায় নবজাগরণ এসেছিল। নবজাগরণের নেতৃবৃন্দ মনে করতেন যে, ইংরেজ শাসনই ভারতীয় সভ্যতার সার্বিক মঙ্গল করতে পারে। 

হিন্দু জাগরণবাদ :  বাংলার নবজাগরণ প্রকৃতপক্ষে হিন্দু জাগরণবাদে পর্যবসিত হয়। তাই অনেকে মনে করেন যে উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদের ভূমিকা ছিল খুবই গৌণ। 

নবজাগরণের গুরুত্ব :  উনিশ শতকে নবজাগরণের ফলে ভারতীয়রা পাশ্চাত্য জ্ঞান বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সুযোগ পায়। পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে সময়, স্বাস্থ্য এবং শ্রমিকের পারিশ্রমিকের যে ধারণা প্রচলিত ছিল তার সম্বন্ধে ভারতীয়রা জানতে পারে। ভারতীয়দের কাছে এর আগে এই বিষয়ে ধারণা অস্পষ্ট ছিল।

মন্তব্য : অধ্যাপক সুশোভন সরকার প্রমুখ ইতালি এবং বাংলার নবজাগরণের মধ্যে মিল ও অমিল উভয়ই খুঁজে পেয়েছেন। আবার ড: অমলেশ ত্রিপাঠী প্রমুখ মনে করেন যে, ইতালির নবজাগরণের সঙ্গে বাংলার নবজাগরণের তুলনা অর্থহীন। বঙ্গীয় নবজাগরণের মূলে প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির গভীরতা থাকলেও ব্রিটিশ রাজত্বে তার প্রাণশক্তি ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ। তবুও এই নবজাগরণ বাংলার স্তব্ধ হয়ে যাওয়া জীবনে এক নতুন গতি সঞ্চার করেছিল তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। 


৩) চিনের ৪ঠা মে আন্দোলনের কারণ বিশ্লেষণ করো। এই আন্দোলনের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।    ৫+৩


চিনে ৪ঠা মে আন্দোলনের কারণসমূহ :  ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ চিনা জনগণ ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা মেয এক বৌদ্ধিক আন্দোলনের সূচনা করে। এর কারণগুলি হল-

রাষ্ট্রপতি ইউয়েন–সি–কাই এর নির্মমতা :  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ইউয়েন – সি – কাই চিনের রাষ্ট্রপতি হয়ে সম্পূর্ণ একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং চীনে বিদেশিদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে থাকেন। সমস্ত সাংবিধানিক পদ্ধতি বাতিল করে তিনি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলির কাছ থেকে অপমানজনক শর্তে ঋণ নেওয়ার জন্য কথাবার্তা শুরু করেন। তিনি চিনের সাথে অন্যান্য রাষ্ট্রের অপমানজনক বিভিন্ন সন্ধি স্থাপন করলে চিনা জনসাধারণ তার তীব্র প্রতিবাদ করেন। একে একে বিরোধীদের হত্যা করেন ফলে বিপ্লবের শত্রুতে পরিণত হন তিনি।

কুয়োমিনতাং দল নিষিদ্ধ :  সান-ইয়াৎ-সেন যে উদ্দেশ্যে নিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়েছিলেন তা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনিয়নের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। কিন্তু কয়েক মাস যুদ্ধ চলার পর ইউয়ানের বাহিনী বিপ্লবীদের দমন করতে সক্ষম হয়। ইউয়ান যুদ্ধে জয়লাভের পর কুওমিনতাঙ দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এর ফলে চীনা জনগণের মনে হতাশার সৃষ্টি হয়।

একুশ দফা দাবির প্রতিবাদ :  ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হলে মিত্রশক্তিভুক্ত জাপান চীনের শান্টুঙ প্রদেশ থেকে জার্মান বাহিনীকে বিতাড়িত করে সেখানে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে জাপান চীনের ওপর ২১টি অন্যায় দাবি (১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে) পেশ করে। চীনের পক্ষে এই দাবি মেনে নেওয়া অসম্ভব। ২১ দফা দাবির বিরোধিতায় চিনে বিভিন্ন সমিতি (যেমন নাগরিক দেশপ্রেমী সমিতি) গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সংবাদপত্রগুলি নিয়মিতভাবে জাপানি আগ্রসনের কথা ছাপতে থাকে। 

জাপানের সঙ্গে গোপন চুক্তি :  ইউয়েন–সি–কাই চীনের সম্রাট হওয়ার উদ্দেশ্যে জাপানের সঙ্গে এক গোপন চুক্তি করেন এবং জাপানের দাবিগুলো মেনে নেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি তিনি সম্রাট পদে অভিষিক্ত হয়ে বিদেশী পণ্য বয়কট আন্দোলন তুলে নিলে চীনা জনগণের মধ্যে অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়।

বৈদেশিক পণ্যের বাজার :  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় চিনে বিদেশী পণ্যের প্রবেশ যথেষ্ট পরিমাণে কমে যায়। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর চীনের অভ্যন্তরে আবার জাপানসহ অন্যান্য পুঁজিপতি দেশগুলি বাজার দখলের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় চিনে বৈদেশিক বাণিজ্যের অপ্রতুলতার কারণে জাতীয় শিল্পের প্রসার ঘটলেও যুদ্ধশেষে চীনে প্রচুর পরিমাণে বিদেশী পণ্যের আমদানি হতে থাকে। এর ফলে চীনে নবপ্রতিষ্ঠিত দেশজ শিল্পগুলি এই অসম প্রতিযোগিতায় মুখ থুবড়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষ কারণ :  বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চীনে আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে চিন মিত্রপক্ষে যোগদান করে। চীনের আশা ছিল যে, মিত্রপক্ষ যুদ্ধে জয়লাভ করলে বিদেশিদের কাছ থেকে চিন তার রাজ্যের অংশগুলি ফেরত পাবে এবং বিদেশিদের সঙ্গে অসম চুক্তিগুলি বাতিল হবে। বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসে শান্তি সম্মেলন শুরু হলে সেখানে চীনের প্রতিনিধিগণ 'জাপানের ২১ দফা দাবি' সহ সব অসম চুক্তি এবং জাপানি কর্তৃত্ব বাতিলের দাবি জানান কিন্তু ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ চীনের আবেদনে কর্ণপাত করেননি। কারণ তাদের মতে, চীনের দাবি ছিল আলোচনা বহির্ভূত বিষয়। এই অবস্থায় চীনের প্রতিনিধিরা শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসেন।       

        উপরিউক্ত কারণগুলর সমন্বয়ে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চেন-তু-শিউ এর ডাকে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ৪ মে আন্দোলনের সূচনা হয়।

বুদ্ধিজীবী-ছাত্রদের ভূমিকা :  চিনা বুদ্ধিজীবী ও ছাত্ররা বিদেশি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত হন । তাঁরা চিনে ৪ মে'র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনা করেন। 

ইউথ পত্রিকার ভূমিকা :  ১৯১৫ খ্রি: চেন-তু-শিউ ‘ইউথ ম্যাগাজিন' প্ৰকাশ করেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে জরাজীর্ণ ঐতিহ্যমণ্ডিত চিন্তাভাবনা দূর করে নতুন প্রগতিশীল বাস্তববাদী ও সংস্কারমুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় ।

মে আন্দোলনের গুরুত্ব বা প্রভাব : 

ক) দেশাত্মবোধের উদ্ভব :  ৪ মে'র আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই চীনে আধুনিকতা, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটে। প্রথম পর্বে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ ছাত্র ও বুদ্ধিজীবীরা ছিল এই আন্দোলনের চালিকাশক্তি। লি-তা-চাও এই আন্দোলনকে মানব মুক্তির সংগ্রাম বলে অভিহিত করেছেন।

খ) আধুনিকতার উদ্ভব :  ৪ মে'র আন্দোলন চিনের প্রাচীন ভাবধারার অবসান ঘটিয়ে পাশ্চাত্যের আধুনিক ভাবধারার জন্ম দিয়েছিল যা চিনকে দ্রুত আধুনিকীকরণের পথে অগ্রসর করেছিল। এইভাবেই চিন নবজাগরণের দিকেও অগ্রসর হয়েছিল । 

গ) সরকারের নতি স্বীকার : ৪ মে'র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কাছে চিন সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় । 

ঘ) কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা : ৪ মে-র আন্দোলনের ফলে চীনে কুইমিন-তাং দলের পুনর্গঠন হয় এবং কমিউনিস্ট পার্টির উত্থান ঘটে। এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নেতা ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে চীনে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীকালে এই পার্টি চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। 

ঙ) নারীদের অবস্থার উন্নতি :  এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চীনের নারীদের অবস্থার উন্নতি হয়। নারী স্বাধীনতা, নারীশিক্ষার বিস্তার ঘটানো, নারী সচেতনতা বৃদ্ধি প্রভৃতি ৪ মে আন্দোলনের মূল কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চ) আন্দোলনের সাফল্য :  সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণের ফলে এই আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং চীন সরকার বিক্ষোভকারীদের সামনে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। বিক্ষোভকারীদের অনেককে মুক্তি দেওয়া হয়, সর্বোপরি ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুন ঘোষণা করা হয় যে, ভার্সাই সন্ধিতে চিনকে স্বাক্ষর করতে হবে না। 


৪) ব্রিটিশ শাসনকালে আদিবাসী সম্প্রদায় ও দলিত সম্প্রদায়ের বিবরণ দাও।   ৮ 


আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিবরণ :  

    ভারতের বিভিন্ন পার্বত্য বনভূমি অঞ্চলে বসবাসকারী সাঁওতাল, ভীল, মুন্ডা, ওঁরাও প্রভৃতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষেরা চাষবাস, শিকার, কাঠ-মধু-ফলমূল সংগ্রহ করে স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু ঔপনিবেশিক শাসনে নতুন আইন ও বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে তাদের অবস্থা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। 

ক) ব্রিটিশ করব্যবস্থা :  উনিশ শতকে ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায় ব্রিটিশ আইন শাসন ও বিচার ব্যবস্থার আওতায় আসে। সরকার ভূমি বন্দোবস্ত নীতি প্রণয়ন করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর জমির কর আরোপ করে। ব্রিটিশ সরকার আদিবাসীদের অঞ্চলগুলিতে বিভিন্ন ভূমি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করায় যেসব নতুন কর আরোপিত হয় তা দিতে মধ্যস্বত্বভোগীরা তাদের ওপর চাপ দিতে থাকে। 

খ) দিকুদের শোষণ :  বহিরাগত দিকু (মহাজন, জোতদার, বণিক, মহাজন, ঠিকাদার, দালাল প্রভৃতি) -রা সরকার নির্দেশিত রাজস্বের থেকেও বেশি অর্থ আদায়ের জন্য অবর্ণনীয় অত্যাচার চালাত। এই বহিরাগতরা আদিবাসীদের নানাভাবে প্রতারণা ও শোষণ শুরু করে। 

গ) ঝুমচাষ নিষিদ্ধকরণ :  আদিবাসীরা পাহাড় ও মালভূমির বনাঞ্চলে ঝুম চাষ করত। ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে আইন পাস করে ব্রিটিশ সরকার অরণ্যকে সংরক্ষিত অঞ্চলে পরিণত করে এবং ঝুমচাষ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি অরণ্যের  উপর একচেটিয়া অধিকার স্থাপন করে। ফলে আদিবাসীদের পশুশিকার, গোচারণ, কাঠ সংগ্রহের মত স্বাভাবিক জীবিকাগুলির উপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হয়। 

ঘ) সংস্কৃতিতে আঘাত :  আদিবাসী অঞ্চলে মিশনারীদের খ্রিস্টধর্মের প্রচার ও নানা বিধিনিষেধ আরোপিত হওয়ার ফলে আদিবাসীদের চিরাচরিত সংস্কৃতিতে আঘাত লাগে।

ঙ) অর্থনৈতিক বঞ্চনার শিকার :  ব্রিটিশ শাসনে আদিবাসীরা জমিতে যৌথ মালিকানার অধিকার হারায়। ব্রিটিশদের হস্তক্ষেপে আদিবাসীরা জমির উপর যৌথ অধিকার থেকে বিচ্যুত হয় এবং চা-কফির চাষ, রেলপথ নির্মাণ ইত্যাদি কাজে যুক্ত হয়ে বনভূমি থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং সীমাহীন অত্যাচারের শিকার হয়ে বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সারা দেশে রেলপথ স্থাপনের কাজ শুরু হলে প্রচুর আদিবাসী শ্রমিককে এই কাজে নিয়োগ করা হয়। কয়লা উৎপাদনের কাজেও প্রচুরসংখ্যক আদিবাসী শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ন্যায্য পারিশ্রমিক না দিয়ে নানাভাবে তাদের বঞ্চিত করা হত।

চ) সামাজিক আগ্রাসন : ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায় বিভিন্ন সামাজিক আগ্রাসনের শিকার হয় খ্রিস্টান মিশনারীরা আদিবাসীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি তাদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করতে থাকে। নতুন পাশ্চাত্য খ্রিস্টান সাংস্কৃতির প্রভাবে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতি আক্রান্ত হয়।

আদিবাসীদের প্রতিরোধ :  ব্রিটিশ সরকার, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ও অন্যান্য শোষকশ্রেণীর হাত থেকে মুক্তির জন্য আদিবাসী সম্প্রদায় প্রয়াস চালায়। শুদ্ধি আন্দোলনের যোগদানের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের সামাজিক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এই আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বঞ্চনা ও শোষণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আদিবাসীরা দিকুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, যেমন- ভিল বিদ্রোহ, কোল বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ, মুন্ডা বিদ্রোহ ইত্যাদি। 

দলিত সম্প্রদায়ের বিবরণ :  

    ভারতে অস্পৃশ্য নামে পরিচিত নিম্নবর্ণের মানুষরাই ১৯৩০ এর দশক থেকে নিজেদের দলিত বলে পরিচয় দেয়। মিহির,কুনবি, মাল, নমঃশূদ্র প্রভৃতি এই দলিত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

ক) অস্পৃশ্য রূপে পরিচিত :  সমাজে অস্পৃশ্য রূপে পরিচিত এই শ্রেণী সর্বসাধারণের ব্যবহার্য পুকুর, নদীর ঘাট, কুয়ো ব্যবহার থেকে বঞ্চিত ছিল। মন্দির বা উচ্চবর্ণের ব্যক্তিদের কোন সভা, সমিতি এবং পূজা-পার্বণেও তারা প্রবেশ করতে পারত না। 

খ) শিক্ষার অভাব :  ব্রাহ্মণরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃত ভাষা এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা লাভ করে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনুরাগী হয়ে উঠেছিল। দলিত শ্রেণীর মানুষ ইংরেজি বা সংষ্কৃত ভাষা জানতো না। তারা নিজেদের কথ্য ভাষা ব্যবহার করত। কিন্তু ব্রাহ্মণরা দলিত শ্রেণীর এই কথাকে খুবই অবজ্ঞার চোখে দেখত। সমাজে দলিতদের শিক্ষার কোন অধিকার ছিল না। পাশ্চাত্য শিক্ষা বা সরকারি কোনো কর্মস্থলে চাকুরী লাভের অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত ছিল। 

গ) দারিদ্রতা :  দলিত শ্রেণীর লোকেরা মাছ ধরা, মাদক দ্রব্য তৈরি, দড়ি তৈরি, পথঘাট সংস্কার, জঞ্জাল সাফাই প্রভৃতি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। ফলে এদের অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। 

ঘ) রাজনীতিতে উপেক্ষিত :   কংগ্রেস গঠনের প্রথম দিকে উচ্চবর্ণের প্রাধান্য থাকায় কংগ্রেস নেতারা দলের সমস্যা সম্পর্কে উদাসীন ছিল ফলে তাদের সঙ্গে দলিতদের দূরত্ব বাড়তে থাকে কংগ্রেসের বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠিত করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে গান্ধীজী অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে দলের প্রতি সামাজিক অবহেলার বিষয়টিকে কংগ্রেসের কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করেন কিন্তু গান্ধীজীর সাবধানে উদ্যোগ সন্তুষ্ট করতে পারেনি। 

ঙ) বাংলায় দলিতদের সক্রিয়তা :  বাংলায় দলিত নমঃশূদ্র সম্প্রদায় ব্রাহ্মণ শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সরব হয়। মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নমঃশূদ্র সম্প্রদায় উনিশ শতকের শেষে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের আর্থিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। পূর্ববঙ্গে উচ্চবর্ণের মধ্যে কংগ্রেসের ভিত্তি সুদৃঢ় হলে নমঃশূদ্রদের নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন প্রমথরঞ্জন ঠাকুর, যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল প্রমুখ নেতা। প্রকৃতপক্ষে নমঃশূদ্রদের এই উদ্যোগের মধ্যে সামাজিক শোষণের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের ভাষায় লুকিয়ে ছিল।

চ) পুনা চুক্তি :  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ম্যাকডোনাল্ড তাঁর 'সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা' (১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ) নীতির মাধ্যমে দলিতদের পৃথক নির্বাচনের অধিকার দিলে গান্ধীজি এর তীব্র প্রতিবাদ করে অনশন শুরু করেন (২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ)। শেষ পর্যন্ত পুনা চুক্তির (২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মাধ্যমে আম্বেদকর দলিতদের পৃথক নির্বাচনের অধিকারের দাবি থেকে সরে আসেন এবং গান্ধীজিও দলিতদের আরও বেশি সংখ্যক আসন সংরক্ষণের দাবি মেনে নেন।

ছ) আম্বেদকরের ভূমিকা :  গান্ধীজী-সহ অন্যান্য কিছু নেতার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অস্পৃশ্যতা-বিরোধী দলিত নেতা আম্বেদকরের কাছে বিশেষ মূল্যবান ছিল না। দলিতদের মন্দিরে প্রবেশ বা উচ্চবর্ণের সঙ্গে মেলামেশার অধিকারের চেয়ে তিনি দলিতদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটানোর বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে দলিতদের নিয়ে মহারাষ্ট্রে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেন এবং প্রকাশ্যে 'মনুস্মৃতি' গ্রন্থটি পুড়িয়ে তিনি ব্রাহ্মণ ধর্মের বিরোধিতা করেন।

দলিতদের আন্দোলন :  সামাজিক বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে জাস্টিস পার্টির মতো সংগঠন গড়ে তুলে তারা নিজেদের আন্দোলন চালাতে থাকে। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বে সর্বভারতীয় নিপীড়িত শ্রেণীর কংগ্রেস গঠিত হলে দলিত আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। আম্বেদকর ও গান্ধীজীর মধ্যে স্বাক্ষরিত পুনা চুক্তি (১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ) হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার লাভ করে দলিতরা। স্বাধীনতার পর ভারতীয় সংবিধান কার্যকরী হলে অস্পৃশ্যতাকে বেআইনি বলে ঘোষণা করা হয়। 


৫) মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। এই আইনের ত্রুটিগুলি আলোচনা করো।  ৪+৪ 

উত্তর- 

মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারের বৈশিষ্ট্যসমূহ : 

১) কেন্দ্রীয় আইনসভার গঠন ও তার সদস্য সংখ্যা : ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের মন্টেগু চেমসফোর্ড সংস্কার আইনের দ্বারা কেন্দ্রীয় আইনসভা গঠন করা হয় এর বিশেষ দিক গুলি ছিল- (ক) আইন প্রণয়ন: কেন্দ্রীয় আইনসভা সারা ভারতের জন্য আইন প্রণয়ন করার অধিকার ছিল। (খ) বড়লাটের আইন বিষয়ক ক্ষমতা: আইন সভার সদস্যরা সভায় কোন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন, বিতর্কে যোগদান, ছাঁটাই বা সংশোধনী প্রস্তাব পেশ প্রভৃতির অধিকার পেলেও বৈদেশিক নীতি, সামরিক বিভাগ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বড়লাটের আগাম অনুমতি ছাড়া তারা এসব বিষয়ে আলোচনার অধিকার পেত না। বড়লাট আইনসভার যে কোন আইন সংশোধন বা বাতিল করতে পারতেন। তিনি নিজেও 'অর্ডিন্যান্স' জারি করে আইন প্রণয়ন করতে পারতেন। (গ) দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: কেন্দ্রের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন করা হয়। এর নিম্নকক্ষের নাম কেন্দ্রীয় আইনসভা ও উচ্চকক্ষের নাম রাষ্ট্রীয় পরিষদ। (ঘ) উচ্চকক্ষের ও নিম্নকক্ষের সদস্যসংখ্যা: উচ্চকক্ষে ৬০ জন সদস্য রাখা হয়, যার মধ্যে ২৬ জন ছিলেন বড়লাটের দ্বারা মনোনীত এবং ৩৪ জন ছিলেন নির্বাচিত সদস্য। নিম্নকক্ষে ১৪০ জন (পরে ১৪৫ জন) সদস্য রাখার ব্যবস্থা করা হয়, এদের মধ্যে ৪০ জন ছিলেন মনোনীত এবং ১০০ জন (পরে ১০৫ জন) ছিলেন নির্বাচিত। 

২) প্রদেশের শাসনব্যবস্থা : প্রদেশের দায়িত্বকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত - এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সাধারণ প্রশাসন, পুলিশ, অর্থ, বিচার এগুলি সংরক্ষিত এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বায়ত্তশাসন প্রভৃতি হস্তান্তরিত ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া পৌরসভা, ইউনিয়ন বোর্ড গড়ে তুলে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাও চালু করা হয়। 

৩) ভারত সচিবের কাউন্সিল : ভারত সচিবের কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ৮ থেকে 12 -র মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং তাদের কার্যকালের মেয়াদ ছিল ৫ বছর। এতদিন পর্যন্ত সদস্যদের বেতনের ব্যয়ভার ভারতীয় রাজস্ব থেকে মেটানো হত কিন্তু এই নতুন আইনে স্থির হয় এই বেতনভার বহন করবে ব্রিটিশ সরকার - যা ছিল মন্টেগু-চেমসফোর্ড আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক। 

৪) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন : ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইনের দ্বারা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ বা বড়লাটের শাসন পরিষদ গঠন করা হয়। এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হল- এই পরিষদ ৭ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়, এর মধ্যে অন্তত ৩ জন সদস্য ছিলেন ভারতীয়। বড়লাট তাঁর অধীনস্ত শাসন পরিষদের সহায়তায় নিজ দায়িত্বে শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। তিনি তাঁর কার্যাবলীর জন্য সরাসরি ভারত-সচিব ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাছে দায়ী থাকতেন, ভারতীয় আইনসভার কাছে নয়। 

মন্টেগু-চেমসফোর্ড আইনের ত্রুটিসমূহ : 

১) সরকারি নিয়ন্ত্রণ : ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে বড়লাট প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হন। ভারতীয় আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস করে ভারত শাসন বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়। প্রদেশগুলোতে ছোটলাট অনুরূপ ক্ষমতা লাভ করেন। কেন্দ্র ও প্রদেশে সরকার পক্ষেরই সংখ্যাধিক্য বজায় থাকতো। এই আইনের দ্বারা কেন্দ্রীয় গভর্নর জেনারেল এবং প্রদেশ গভর্নরের চূড়ান্ত আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে কেন্দ্র ও প্রদেশের নির্বাচিত আইনসভা কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে।

২) দ্বৈত শাসনব্যবস্থার ত্রুটি : এই আইনে প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। কেন না, প্রদেশে গভর্নর ছিলেন চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। তিনি তাঁর মন্ত্রিসভার যে কোন সিদ্ধান্ত নাকোচ করতে পারতেন। প্রাদেশিক শাসন কার্য সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত - এই দুটি ভাগে ভাগ করে একদিকে ক্ষমতাহীন দায়িত্ব এবং অন্যদিকে দায়িত্বহীন ক্ষমতার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, এর ফলে শাসন কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।

৩) সীমিত ভোটাধিকার ও পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থা : ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইন দ্বারা কেবলমাত্র মুষ্টিমেয় ভারতীয়রাই ভোটাধিকার লাভ করেছিল। এই আইনের দ্বারা স্বল্পসংখ্যক ধনী ব্যক্তি (ভারতের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০%) ভোটাধিকার পান। সর্বসাধারণের ভোটদানের অধিকার স্বীকৃত হয়নি। আবার মর্লে-মিন্টো আইনে যে সাম্প্রদায়িক নির্বাচন পদ্ধতি গৃহীত হয়েছিল ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনেও তা বজায় থাকে। এর ফলে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ঐক্য ক্ষুন্ন হয়, তাই বলা যায় ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের আইন ভারতবাসীর আশা পূরণে ব্যর্থ হয়। 

৪) সীমিত অর্থ বরাদ্দ : ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের আইনে জনকল্যাণ মূলক কাজের জন্য খুবই সীমিত অর্থ ধার্য করা হয়েছিল সীমিত অর্থে জনকল্যাণের মত বিশাল কর্ম পরিচালনা করা কখনোই সম্ভব ছিল না। 

৫) সাম্প্রদায়িকতা : এই আইনের দ্বারা ভারতের সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ আরও বৃদ্ধি পায়। মুসলিমদের পৃথক ভোটাধিকার দান করা হলে সাম্প্রদায়িক বিভেদ বৃদ্ধি পায়। এসব কারণেই এই আইন ভারতীয়দের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। এজন্য জাতীয় কংগ্রেসের বোম্বাই অধিবেশনে এই আইনকে "তুচ্ছ, বিরক্তিকর ও নৈরাশ্যজনক" বলে সমালোচনা করা হয়। শ্রীমতি অ্যানি বেসান্ত একে "দাসত্বের পরিকল্পনা" বলে অভিহিত করেন। 

৬) দায়িত্বশীলতার অভাব :  এই আইন অনুসারে বড়লাট তার কাজের জন্য ভারতীয় আইনসভার কাছে দায়ী ছিলেন না। তিনি দায়ী ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও ভারত সচিবের কাছে। ফলে এই আইনের দ্বারা ভারতের কোন দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।


৬) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পটভূমি আলোচনা করো। এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কীরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল? এই ঘটনার গুরুত্ব আলোচনা করো। ৩+২+৩ 


জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পটভূমি : 

     ব্রিটিশ সরকার ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে তীব্র দমনমূলক রাওলাট আইন পাস করলে এই আইনের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবে প্রতিবাদ আন্দোলন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পাঞ্জাবে রাওলাট বিরোধী আন্দোলনের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ও মর্মান্তিক ঘটনা ছিল ১৩ই এপ্রিল ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের জালিয়ানওয়ালাবাগের মাঠে একটি শান্তিপূর্ণ জমায়েতে ইংরেজ পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং এর ফলে অন্তত ১০০০ মানুষের মৃত্যু। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পটভূমি নিম্নে আলোচনা করা হলো--

১) পাঞ্জাবে নির্যাতন :  জুলুম চালিয়ে যুদ্ধের জন্য পাঞ্জাব থেকে সেনা ও অর্থ সংগ্রহ, 'গদর বিদ্রোহ' প্রতিরোধ প্রভৃতি উদ্দেশ্যে সরকার পাঞ্জাবের তীব্র দমন চালালে পাঞ্জাব ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পাঞ্জাবের কর্মচ্যুত সেনাদের সমাবেশে এই ক্ষোভ তীব্র হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় পাঞ্জাবের গভর্নর মাইকেল ও' ডায়ারের অত্যাচারী শাসন পাঞ্জাবকে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করে।

২) রাওলাট আইন : ভারতীয়দের স্বাধীনতা ও অধিকার হরণ এবং আন্দোলন কঠোর হাতে দমনের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে নগ্ন সাম্রাজ্যবাদী রাওলাট আইন প্রবর্তন করে। এই নিষ্ঠুর দমনমূলক আইনের বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদের সরব হয়ে ওঠে। এই আইনের প্রতিবাদে পাঞ্জাব বারুদের স্তুপে পরিণত হয়।

৩) নেত্বৃবৃন্দের গ্রেফতার :  'পিপলস কমিটি' নামে একটি গণসংগঠন লাহোর ও অমৃতসরে রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন ও হিংসাত্মক কর্মকান্ডে মদত দেওয়ার অভিযোগে সরকার অমৃতসরের দুই নেতা ডঃ সাইফুদ্দিন কিচলু এবং ডঃ সত্যপালকে গ্রেফতার করে। ফলে পাঞ্জাবের সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এদিকে গান্ধীজিকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে লাহোরে ব্যাপক ধর্মঘট শুরু হয়। পাঞ্জাবের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে জনতার খন্ড যুদ্ধ বেধে যায়। 

৪) অমৃতসরে সামরিক শাসন :  রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হয়ে উঠলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাইকেল ও' ডায়ারের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর হাতে অমৃতসর শহরের শাসনভার তুলে দেওয়া হয়। এই বাহিনী অমৃতসরে সামরিক আইন জারি করে ১১ই এপ্রিল শহরে জনসভা ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।

হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া :   

      জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতবাসীর কাছে ব্রিটিশ শাসনের প্রকৃত নগ্নরূপটি প্রকাশ্যে বেরিয়ে পড়ে। সরকার জালিয়ানওয়ালাবাগের সভায় গুলি চালানোর ঘটনাকে সমর্থন করে। ভারত সচিব মন্টেগু এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে 'নিবারণমূলক হত্যাকাণ্ড' বলে অভিহিত করেন। ভারতীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। যেমন–

১) ক্ষোভ-বিক্ষোভ :  জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে সারা ভারত ক্ষোভ ক্রোধ ও ঘৃণায় ফেটে পড়ে। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে, "এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভারতে যে মহাযুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দেয় তা উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ে সবার হৃদয়কে আন্দোলিত করে।" 

২) উপাধি ত্যাগ :  জালিয়ানওয়ালাবাগের পৈশাচিক ও ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া 'নাইট' উপাধি ত্যাগ করেন। গান্ধীজি ও ব্রিটিশদের দেওয়া 'কাইজার-ই-হিন্দ' উপাধি ত্যাগ করেন। একসময় ব্রিটিশ শাসনকে 'ঈশ্বরের আশীর্বাদ' বলে মনে করা গান্ধীজি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদস্বরূপ 'ইয়ং ইন্ডিয়া' পত্রিকায় লেখেন যে, "এই শয়তান সরকারের সংশোধন অসম্ভব, একে অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে।" 

৩) কংগ্রেসের প্রতিবাদ :  জাতীয় কংগ্রেস জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে। কংগ্রেস নেতা সি.এফ. এন্ডুজ এই ঘটনাকে 'কসাইখানার গণহত্যার' সমতুল্য বলে নিন্দা করেছেন। ব্রিটিশ সরকারের উপর আস্থা হারিয়ে কংগ্রেস নিজের উদ্যোগে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং হত্যাকান্ডের জন্য ডায়ারকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে শাস্তি দানের সুপারিশ করে।

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব : ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে জালিয়ান ওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের মতো নৃশংস ঘটনার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। 

১) ব্রিটিশ সরকারের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন : এই হত্যাকাণ্ড ভারতে ব্রিটিশ শাসনের পশুসুলভ চরিত্রটি সমগ্র ভারতবাসীর কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছিল।

২) ব্রিটিশবিরোধীর নতুন অধ্যায় : ব্রিটিশ সরকারের ন্যায় বিচার এবং সুষ্ঠু প্রশাসন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভারতীয়দের মধ্যে যে ধারণা এবং আনুগত্য গড়ে তুলেছিল তা ভেঙে যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঘৃণাভরে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া 'নাইট' উপাধি ত্যাগ করেন। গান্ধীজী লিখেন, "এই শয়তান সরকারের সংশোধন অসম্ভব, একে ধ্বংস করতেই হবে।" এরপর ভারতীয় রাজনীতিতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

৩) ভীতি প্রদর্শন : জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ভারতীয় রাজনীতিবিদদের মনে গভীর ভয় ভীতির সৃষ্টি করে। পাঞ্জাব থেকে বহুদূরে কলকাতা শহরে একটি প্রতিবাদ সভা করার সাহসও তাদের ছিল না। এর ফলে ভারতব্যাপী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে।

৪) ব্রিটিশ সরকারের বোধোদয় : জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনার কথা প্রকাশিত হলে ইংল্যান্ডের নানান প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রসচিব চার্চিল এই ঘটনাকে 'দানবীয়' বলে অভিহিত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিশন গঠিত হয়। 

৫) রাওলাট সত্যাগ্রহ প্রত্যাহার : রাওলাট আইনের প্রতিবাদে গান্ধীজী সত্যাগ্রহের কর্মসূচি নিয়েছিলেন তাতে হিংসার প্রবেশ হয়েছে দেখে তিনি মর্মাহত হন। এই কারণে রাওলাট সত্যাগ্রহের কর্মসূচিকে তিনি "হিমালয় সদৃশ প্রমাদ" বলে অভিহিত করেন এবং ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

৬) অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নির্মাণ : এই নারকীয় ঘটনার কিছুদিনের মধ্যে গান্ধীজীর নেতৃত্বে 'অসহযোগ আন্দোলন' নামে এক বৃহত্তর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল যে আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল এই নৃশংস ঘটনার অন্যায়ের সুবিচার করা।


৭) ইন্দোনেশিয়ায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে ওঠার কারণ কী ছিল? এই আন্দোলনে ড: সুকর্ণ এর ভূমিকা আলোচনা করো।  ৪+৪ 

      ইন্দোনেশিয়ার জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে ওঠার কারণসমূহ: উনবিংশ শতকের শেষভাগে ডাচ উপনিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ইন্দোনেশিয়ায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে সুকর্ণের নেতৃত্বে ইন্দোনেশীয় জাতীয়তাবাদী দল এবং কমিউনিস্টরা যৌথভাবে ওলন্দাজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে ওঠার কারণগুলি হল- 

১) ওলন্দাজদের শোষণ : ওলন্দাজ কোম্পানির শাসনের অবসানের পর ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজ সরকার প্রত্যক্ষভাবে ইন্দোনেশিয়ার শাসনভার হাতে নেয়। বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য ওলন্দাজরা কৃষকদের বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদন করতে বাধ্য করে ও উচ্চ হারে কর আরোপ করে। ফলে কৃষকরা দারিদ্র্য ও দুর্ভাগ্যের শিকার হয়। একারণে বিংশ শতকের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তীব্রতর হতে থাকে।

২) জাপানের অগ্রগতি : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হলান্ড জার্মানির দখলে চলে যায়। এসময় ইংল্যান্ডের উপনিবেশ ইন্দোনেশিয়ায় শক্তি শূন্যতার সৃষ্টি হলে জাপান সেই সুযোগ গ্রহণ করে এবং এশীয় অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদী নীতির সূচনা ঘটায়। এশীয় ভূখন্ডে জাপানের কাছে ইউরোপীয় শক্তিগুলির পরাজয় ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার অন্যান্য উপনিবেশগুলির বাসিন্দাদের উৎসাহিত করেন। তারা উপলব্ধি করে যে, এশিয়ার পক্ষে ইউরোপীয় শক্তিকে পরাস্ত করে স্বাধীনতা লাভ করা সম্ভব।

৩) নিষ্ঠুর দমন নীতির প্রয়োগ : ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক কমিউনিস্ট বিদ্রোহ দেখা দিলে সরকার নিষ্ঠুর দমননীতি চালিয়ে এই বিদ্রোহ দমন করে। ড: সুকর্ণকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁর জাতীয়তাবাদী দল ভেঙে দেওয়া হয়। বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী নেতা ডঃ মোহাম্মদ হাত্তা,জাহরির প্রমুখ দেশ থেকে বহিস্কৃত হন। 

৪) জাপানের উদ্যোগ : জাপান এশিয়ার বিভিন্ন উপনিবেশে আধিপত্যের প্রচার ঘটালেও তাদের ওপর ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো নগ্ন শোষণ ও নির্যাতন চালায় নি। বরং জাপান এশিয়ার এইসব দেশে জাতীয়তাবাদের প্রসার ও মুক্তিসংগ্রামের মানসিকতাকে আরও শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছিল। জাপান রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তিপ্রদান, দেশীয় ভাষার ব্যবহার চালু করে ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করেছিল। 

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ড: সুকর্ণের ভূমিকা : 

    ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে ইন্দোনেশিয়ায় ডক্টর সুকর্ণ নেতৃত্বে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয়তাবাদী দল এবং কমিউনিস্টরা যৌথভাবে ওলন্দাজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করে। 

১) জাতীয়তাবাদের প্রচার : জাপানের সদর্থক ভূমিকার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে ইন্দোনেশিয়ায় জাতীয়তাবাদ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সুকর্ণ প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী দল ইন্দোনেশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই সব জাতীয়তাবাদী দলের আন্দোলনের চাপে পড়লে ইন্দোনেশিয়ায় তীব্র অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করে।

২) প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা : ইন্দোনেশিয়ায় জাতীয়তাবাদীরা ওলন্দাজদের ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে তীব্র সংগ্রাম শুরু করে এবং হলান্ড এর বিরুদ্ধে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা ঘোষণা করে সেখানে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। জাপানে একে স্বীকৃতি দেয়। 

৩) সুমাত্রা ও জাভা আক্রমণ : হল্যান্ডের সামরিক তৎপরতায় সুমাত্রা ও জাভা ছাড়া অবশিষ্ঠ ইন্দোনেশিয়া ওলন্দাজদের অধীনে চলে যায়। ওলন্দাজরা ইন্দোনেশিয়ায় ঘোষিত প্রজাতান্ত্রিক সরকারের রাষ্ট্রপতি সুকর্ণ ও প্রধানমন্ত্রী হাত্তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়া মুক্তিসংগ্রামে তীব্র হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় বৃটেনের মধ্যস্থতায় হলান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু হলান্ড এই চুক্তি অগ্রাহ্য করে হঠাৎ সুমাত্রা ও জাভা আক্রমণ করলে ইন্দোনেশিয়ার সর্বত্র বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। 

৪) আমেরিকার উদ্যোগ : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট ইউরোপীয় উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর স্পষ্ট মতামত জানিয়েছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার প্রতি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স সমর্থন জানায়।

৫) স্বাধীনতা লাভ : প্রবল আন্দোলনের চাপে হলান্ড ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৭ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়। সুকর্ণ স্বাধীন ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পর পরই বহু জাতি ও ধর্ম অধ্যুষিত ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ঐক্য সংকটের মুখে পড়ে। ফলে রাষ্ট্রপতি সুকর্ণ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে সেখানকার সংবিধান বাতিল করে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র প্রবর্তন করতে বাধ্য হন।


৮) শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে রামমোহন রায়ের অবদান লেখো।  ৪+৪

 উত্তর: 

সূচনা:  আধুনিক ভারতে যেসব সংস্কারক জন্মগ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য ছিলেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২ মতান্তরে ১৭৭৪ - ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ)। রামমোহন ভারতীয় সমাজের অন্ধকার ও কুসংস্কার দূর করে জাতিকে আলোর পথ দেখান। পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু তাঁকে 'ভারতের জাতীয়তাবাদের জনক' বলে অভিহিত করেছেন। বিপিনচন্দ্র পাল তাঁকে 'নবযুগের প্রবর্তক' উপাধিতে ভূষিত করেন। মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ তাঁকে 'রাজা' উপাধি দেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'ভারত পথিক' আখ্যায় অভিহিত করেছেন। তিনি যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আধ্যাত্বিক অন্ধকারের ঘোর কাটিয়ে জনগণকে মুক্তির আলো দেখাতে চেয়েছিলেন। এ জন্য আধুনিক ভারত চেতনায় তাঁকে ইউরোপের জন উইক্লিফের মত  'Morning star of reformation' বলা যেতে পারে।

রাজা রামমোহন রায়ের শিক্ষাসংস্কার : 

    রামমোহন রায় বিশ্বাস করতেন যে, ভারতবাসীকে অন্ধকারময় কুসংস্কারাচ্ছন্ন জীবন থেকে আলোয় ফেরাতে পারে একমাত্র যুক্তি নির্ভর পাশ্চাত্য শিক্ষা। তিনি প্রাচ্যের মহান চিন্তা ধারার সঙ্গে পাশ্চাত্যের ধ্যান-ধারণা সমন্বয়ে ঘটাতে চেয়েছিলেন। তাই তাঁকে সমন্বয়বাদী-ও বলা হয়ে থাকে।

১) পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থক :  রামমোহন রায় ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের এক উগ্র সমর্থক ছিলেন। তিনি ভারতীয়দের ইংরেজি, পাশ্চাত্যের গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, প্রকৃতিবিদ্যা, শারীরবিদ্যা প্রভৃতি আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের কথা বলেন। তিনি তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড আমহার্স্টকে একটি পত্রের মাধ্যমে (১৮২৩ খ্রিস্টাব্দ) এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটাতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অনুরোধ জানান।

২) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন :  রামমোহন স্কটিশ মিশনারি আলেকজান্ডার ডাফকে ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে 'জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন' প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় 'অ্যাংলো হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় 'হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেন বলে অনেকে মনে করেন। তিনি ডেভিড হেয়ারের শিক্ষা বিস্তারের কাজে অন্যতম সহায়ক ছিলেন। বেদান্ত শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি 'বেদান্ত কলেজ' (১৮২৬ খ্রিস্টাব্দ) প্রতিষ্ঠা করেন। 

৩) বাংলা গদ্যে অবদান :  শ্রীরামপুরের মিশনারিগণ বাংলা গদ্যের যে কাঠামো তৈরি করেছিলেন তাতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন রামমোহন রায়। তিনি ১৮১৫-৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রায় ৩০ টি বাংলা গ্রন্থ রচনা করেন। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল 'বেদান্তগ্রন্থ' (১৮১৫ খ্রি.), বেদান্তসার (১৮১৫ খ্রি.), 'ভট্টাচার্যের সহিত বিচার' (১৮১৭ খ্রি.), 'সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সংবাদ (১৮১৮ খ্রি.), 'গোস্বামীর সহিত বিচার' (১৮১৮ খ্রি.), 'সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের দ্বিতীয় সংবাদ (১৮১৯ খ্রি.), 'ব্রাহ্মণসেবধি' (১৮২১ খ্রি.), 'পথ্যপ্রদান' (১৮২৯ খ্রি.) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। 

৪) সংবাদপত্র প্রকাশনা : রামমোহন রায় সংবাদপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তিনি বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত 'সংবাদ কৌমুদী' (১৮২১ খ্রিস্টাব্দ) এবং ফারসি ভাষায় প্রকাশিত 'মিরাৎ-উল-আকবর' (১৮২২ খ্রিস্টাব্দ)। 

রামমোহন রায়ের সমাজসংস্কার : 

    ঊনবিংশ শতকে ভারতের ধর্ম ও সমাজকে কুসংস্কারের রাহুগ্রাস থেকে উদ্ধার করে মানবতাবাদী সমাজ সংস্কারক রামমোহন ভারতবাসীকে আলোর পথ দেখান। 'আধুনিক ভারতের জনক' রাজা রামমোহন রায়ের সমাজসংস্কারমূলক কর্মসূচিগুলি হল– 

১) জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা :  রামমোহন হিন্দু সমাজে জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা প্রথার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি 'বজ্রসূচী' (১৮২৭ খ্রিষ্টাব্দ) গ্রন্থটির বাংলা অনুবাদ করে প্রচার করেন যে, জাতিভেদ প্রথা শাস্ত্রসম্মত নয়। তিনি অসবর্ণ বিবাহের সমর্থনে বিভিন্ন পুস্তিকা রচনা করেন। তিনি সমস্ত ধর্মের মানুষের সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছিলেন। 

২) সতীদাহ প্রথা নিবারণ :  তৎকালীন হিন্দু সমাজে উচ্চবর্ণের মধ্যে মৃত স্বামীর চিতায় তার জীবিত স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা হত, এই অমানবিক প্রথা 'সতীদাহ প্রথা' নামে পরিচিত। এই প্রথার বিরোধিতা করে রামমোহন জনমত গড়ার উদ্দেশ্যে প্রচারকার্য চালান। তিনি বড়লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিং এর কাছে ৩০০ জন বিশিষ্ট নাগরিকের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদনপত্র জমা দিয়ে এই প্রথা বন্ধের দাবি জানান। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দের ৪ ডিসেম্বর ১৭ নং রেগুলেশন জারি করে সতীদাহ প্রথাকে বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা করেন।

৩) নারীকল্যাণ : রামমোহন অনুভব করেছিলেন নারীদের অবস্থার উন্নতি ও মর্যাদা বৃদ্ধি করতে না পারলে সমাজের অগ্রগতি ঘটবে না। তাই তিনি নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করেন যে, পিতা বা স্বামীর সম্পত্তিতে নারীর অধিকার আছে। তিনি স্ত্রী শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কৌলিন্য প্রথার অভিশাপ থেকে নারী সমাজকে রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি প্রয়াস চালান। নারীর বিবাহ বিষয়ক আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে তিনি প্রচেষ্টা করেন। 

৪) সংস্কারকামী প্রতিষ্ঠান :  একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী রামমোহন তাঁর বহুবিধ সংস্কারকার্যের জন্য ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে 'ব্রাহ্মসভা' স্থাপন করেন, যা ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে 'ব্রাহ্মসমাজ' নামে পরিচিত লাভ করে। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেন, প্রসন্নকুমার ঠাকুর প্রমুখ গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব এই সংগঠনে যোগদান করেছিলেন; যদিও মতাদর্শের কঠোরতার জন্য এই সমাজ পরবর্তীকালে বিভক্ত হয়ে যায় তথাপি বহুদিন পর্যন্ত এই সমাজের সংস্কারমুখী কার্যকলাপ অব্যাহত ছিল। এঁরা মূলত পৌত্তলিকতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, জাতিভেদ প্রথা এবং সর্বোপরি সতীদাহ প্রথার ন্যায় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। 

 

  উপসংহার :    রামমোহন রায় মধ্যযুগের তন্দ্রা, জড়তা, অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের হাত থেকে ভারতবর্ষকে মুক্ত করে নবজাগরণ ঘটাতে প্রয়াসী হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন "Morning star of Bengal Renaissance"। ভারতবর্ষে আধুনিক যুগের আবির্ভাব ঘটেছিল তার হাত ধরেই কারণ তিনি প্রথম পাশ্চাত্য শিক্ষা ও যুক্তিবাদের প্রসারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, "Rammohan Roy inaugurated the modern age in India"। 






রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২

দ্বাদশ ইতিহাস, প্রথম অধ্যায়ের 100+ Short

ইতিহাস প্রথম অধ্যায়ের Short, দ্বাদশ শ্রেণি

১) ইতিহাস হল অতীত-
ক)কাহিনী খ) স্মৃতি গ) চেতনা ঘ) ভাবনা
২) মৌখিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো-
ক) জনশ্রুতি খ)বক্তৃতা গ)কথোপকথন ঘ)শ্রুতিনাটক
৩) অতিকথা বলতে বোঝায়-
ক) অতীত ইতিহাসের সূত্র খ) ইতিহাস গ) প্রাচীন সাহিত্য ঘ) অবাস্তব কাহিনী
৪) "ইতিহাস হল বর্তমান ও অতীতের মধ্যে অন্তহীন সংলাপ" - উক্তিটির প্রবক্তা-
ক)জ্যাকব ক্রিম খ)লোড রেগলান গ) এ ইচ কার ঘ) কল ফানসান
৫) জনশ্রুতিকে কয়ভাগে ভাগ করা যায় ?
ক)দুই ভাগ খ) তিন ভাগে গ)চার ভাগে ঘ) পাঁচ ভাগে
৬) পৌরাণিক কাহিনী বা থিমস উল্লেখযোগ্য একটি বৈশিষ্ট্য হলো-
ক)এগুলি রাজনৈতিক কেন্দ্রিক, খ)এইগুলি বাস্তবধর্মী, গ)এগুলো ইতিহাস অঙ্গ, ঘ) এগুলি ধর্ম কাহিনী ভিত্তিক
৭) গ্রন্থের রচয়িতা হলেন ?
ক) জে. এফ. বিয়ারলেইন খ)জেকব গ্রিম গ)জে.বি. ওয়েবস্টার ঘ) এ. লং
৮) ইতিহাসমালা রচনা করেন-
ক)জেকব গ্রিম খ)উইল হেম গ্রিম গ)উইলিয়াম কেরি ঘ) ডি কে মাকেঞ্জি
৯) মহাকবি কালিদাসের কাহিনী রয়েছে. ?
ক) পুরাণের খ) রোমান পুরাণে গ)হিন্দু পুরাণে ঘ) বাইবেলে
১০) প্রাচীন ভারতের অন্যতম এক কিংবদন্তি চরিত্র হলো হলো-
ক) সমুদ্র গুপ্ত খ)অশোক গ) রামচন্দ্র ঘ)হর্ষবর্ধন
১১) ঈশ্বরের মতোই সীমাহীন শক্তির অধিকারী হলেন. ?
ক)পরীকথার নায়িকা, খ) কিংবদন্তির নায়ক, গ) নীতিকথার মূলচরিত্র, ঘ) পশু কথার কেন্দ্রীয় চরিত্র,
১২) হিন্দু ধর্মে দেবী দুর্গা হলেন একজন-
ক) রূপকথার চরিত্র খ) কিংবদন্তি চরিত্র গ) পৌরাণিক চরিত্র ঘ) লোক কথার চরিত্র
১৩) পুরাণ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়. ?
ক) সাইকোলজি খ) সোসিওলজি গ) মিথোলজি ঘ) ফিজিওলজি
১৪) লোক কথার মূল চরিত্র মানুষ ?
ক) রূপকথার খ) পরি কথার গ) কিংবদন্তির ঘ) পুরাণ কাহিনীর
১৫) লোক গাথা প্রচারের মাধ্যমে যে টিনয় ?
ক) গল্প- খ)কবিতা- গ)গান ঘ) যুদ্ধ
১৬) ইতিহাস ও লোক কাহিনী বিষয়বস্তু হল.- ক) মানুষ খ) সাহিত্য গ) চিন্তা ঘ) প্রেম
১৭) যে লোক কথার শেষে স্মৃতি নীতি বা উপদেষ্টা থাকে ,তাকে বলে ?
ক) রূপকথার খ) পরি গ) নীতিকথা ঘ) পশু কথা
১৮) হিস্ট্রি অফ হিন্দুস্তান গ্রন্থটির রচনা করেন ?
ক) জেমস প্রিন্সেপ খ) আলেকজান্ডার ডাও গ) ভিনসেন্ট স্মিথ ঘ) মাকমিলান
১৯) আরব্য রজনী হলো একটি-
ক) বীর গাথা খ) স্মৃতিকথা গ) লোককথা ঘ) নীতিগল্প
২০) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র এর রচয়িতা হলেন ?
ক) রামমোহন রায়, খ)ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ঘ) রামরাম বসু
২১) দক্ষিণারঞ্জন বসু ছেড়ে আসা গ্রাম হল একটি ?
ক) লোককথা খ) কিংবদন্তি গ) স্মৃতিকথা ঘ) পৌরাণিক কাহিনী
২২) বিজ্ঞান জাদুঘরের নিদর্শন মিউজিয়াম অব সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিস অবস্থিত ?
ক) প্যারিসে খ) শিকাগোতে গ) সিঙ্গাপুরের ঘ) লন্ডনে
২৩) ভূত তাত্ত্বিক জাদুঘরের নিদর্শন শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে অবস্থিত ভারতের ?
ক) উড়িষ্যায় খ) বিহারে গ) পশ্চিমবঙ্গে ঘ) গুজরাটি
২৪) বিশ্বের সর্ব প্রাচীন মিউজিয়াম হলো ?
ক) ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম খ) ব্রিটিশ মিউজিয়াম গ) প্যারিসের লুভর মিউজিয়াম ঘ) গ্রন্থাগার
২৫) হাজারদুয়ারি জাদুঘর একটি ?
ক) ঐতিহাসিক জাদুঘর , খ) শিল্প জাদুঘর, গ) গ্রন্থাগার দিবস, ঘ) বিশ্বকোষ জাদুঘর
26. “সব ইতিহাস হলো সমকালীন ইতিহাস”—এই উক্তিটি কার ?
(a) ক্লোচের (b) র্যাঙ্কের (c) র্যালের (d) ই.এইচ. কার-এর
27."What is History’-এর লেখক হলেন-
(a) ই.এইচ. কার (b) স্যামুয়েল © উইলিয়াম কেরি (d) ঐতিহাসিক রিড
28. ভারতীয় ইতিহাসের জাতীয়তাবাদী ব্যাখ্যাকার হলেন—
(a) রমেশচন্দ্র মজুমদার (b) জেমস মিল (c) রামশরণ শর্মা (d) রণজিৎ গহ
29.ভারত হলো বিশ্বসভ্যতার লীলাভূমি—এই উক্তিটি কার?
(a) এলটন (b) কার (c) ব্ৰদেল (d) ভলতেয়ার
30.পুরাণ বিষয়ক তত্ত্বকে বলা হয়—
(a) জাদুবিদ্যা (b) প্রেততত্ত্ব (c) পুরাণতত্ত্ব (d) কোনোটিই নয়
31.গ্রিসের একটি কিংবদন্তি চরিত্র ছিল—
(a) রবিন হুড (b) নোয়া (c) হারকিউলিস (d) রাবণ
32.জাদুঘরের প্রথম উৎপত্তি হয়—
(a) ইংল্যান্ডে (b) জার্মানিতে (c) ফ্রান্সে (d) গ্রিসে
33. একটি প্রাচীন জাদুঘরের উদাহরণ হলো
(a) এননিগালডি নান্না (b) ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম (c) ভ্যাটিকান মিউজিয়াম (d) লুভর মিউজিয়াম
34. জাতীয় প্রতিকৃতি প্রদর্শশালা অবস্থিত
(a) লন্ডনে (b) প্যারিসে (c) শিকাগো (d) ফ্লোরেন্সে
35. ‘অক্সফোর্ড হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি রচনা করেন
(a) ভিনসেন্ট স্মিথ (b) ই. এইচ কার (c) জন স্টুয়ার্ট মিল (d) কেউ নন
36 আলবেরুনির লেখা গ্রন্থটির নাম—
(a) রাজতরঙ্গিণী (b) হর্ষচরিত (c) তহকিক-ই-হিন্দ (d) কোনোটিই নয়
37. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনস্মৃতি’ হলো একটি—
(a) লোককথা (b) কিংবদন্তি (c) স্মৃতিকথা (d) কাব্যগ্রন্থ
38. ‘হিস্ট্রি অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি রচনা করেন
(a) সুমিত সরকার (b) জেমস মিল (c) জন স্টুয়ার্ট মিল (d) জ্যাকব গ্রিম
39.'ইলিয়ড’ ও ‘ওডিসি’ মহাকাব্য রচনা করেছিলেন—
(a) ব্যাস (b) হোমার (c) বাল্মিকী (d) হেরোডোটাস
40.স্মৃতিকথা হলো—
(a) লোককথা (b) জনশ্রুতি (c) মৌখিক উপাদান (d) কল্পকাহিনি
41. ইতিহাসের জনক’ বলা হয়—
(a) থুকিডিডিসকে (b) রুশোকে (c) প্লিনিকে (d) হেরোডোটাসকে
42. কোন লোককথার মূল চরিত্র মানুষ?
(a) রূপকথার (b) পরিকথার (c) কিংবদন্তির (d) নীতিকথা
43. ইতিহাসমালা’ রচনা করেছিলেন—
(a) হেরোডোটাস (b) সন্ধ্যাকর নন্দী (c) উইলিয়াম কেরি (d) কলহন
44. একজন মানবতাবাদী ব্রিটিশ ঐতিহাসিক হলেন—
(a) উইলিয়াম হান্টার (b) উইলিয়ম জোন্স (c) জেমস মিল (d) ম্যাক্সমুলার
45. কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের প্রতিষ্ঠা হয়—
(a) ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে (b) ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে (c) ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে (d) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে
46. ভারতে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা হয়—
(a) ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে (b) ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে (c) ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে (d) ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে
47.ভারতের বৃহত্তম মিউজিয়ামটি হলো
(a) দ্য ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম (b) দিল্লি মিউজিয়াম (c) ন্যাশনাল মিউজিয়াম, মুম্বই (d) বিড়লা মিউজিয়াম
48‘লুভর মিউজিয়াম অবস্থিত ছিল—
(a) লন্ডনে (b) প্যারিসে (c) ফ্লোরেন্সে (d) কলকাতায়
49. ‘কেম্ব্রিজ হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া’ গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন—
(a) এলফিনস্টোন (b) জন ম্যালকম (c) ডডওয়েল (d) ম্যালেসন
50. দক্ষিণারঞ্জন বসুর ‘ছেড়ে আসা গ্রাম’ হলো একটি
(a) লোককথা (b) কিংবদন্তি (c) স্মৃতিকথা (d) পৌরাণিক কাহিনি
51) জনশ্রুতির কাহিনিগুলি সংগ্রহের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়-
আমেরিকায়/জার্মানিতে/ইংল্যান্ডে/ভারতে
52) 'টম থাম্ব ও দৈত্যের কাহিনি' অবলম্বনে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় রচনা করেন --
নালক/বুড়ো আংলা/ক্ষীরের পুতুল/রাজকাহিনি 


1. 'Oxford history of India' (অক্সফোর্ড হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া) গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
2. ‘ইতিহাস মালা’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
 :- 
3. ‘হিস্ট্রি অফ ব্রিটিশ ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
:- 
4. ‘ইলিয়াস ও ওডিসি’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন? :- 
5. ‘অলবিরনি’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
:- 
6. ‘পঞ্চতন্ত্র’ কার রচনা?
:- 
7.’বুড়ো আংলা’ কার লেখা ?
:-  
8. ‘টম থাম্ব ও দ্বৈতের’ কাহিনী কে প্রকাশ করেন?
:- 
9. ‘ছেড়ে আসা গ্রাম’ স্মৃতি কথাটি কার লেখা?
:- 
10. ‘The New Nature Of History’ গ্রন্থটি কার লেখা?
:-
11. ‘রাজাবলি’ গ্রন্থটি কার লেখা?
:- 
12.চৈনিক ইতিহাস চর্চার জনক কাকে বলা হয়?
:- 
13. বৈজ্ঞানিক ইতিহাস চর্চার জনক কাকে বলা হয়?
:- 
14. ইতিহাস দর্শনের জনক কাকে বলা হয়? :- 
15. ‘পুরান’ শব্দের অর্থ কি? :-
16.’প্যারালাল মিথ’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
:- 
17. স্মৃতিকথা কোন উপাদানের অন্তর্ভুক্ত?
:- 
18. পুরান বিষয়ক তত্ত্বকে কি বলা হয়?
:-
19. কলহল রচিত কাশ্মিরের ইতিবৃত্ত জানা যায় কোন গ্রন্থ থেকে?
:- 
20. যাদুঘরের উৎপত্তি প্রথম কোন দেশে হয়?
:-
21. লু-ভর মিউজিয়াম কোথায় অবস্থিত?
:- 
22. একটি প্রাচীন জাদুঘরের উদাহরণ দাও?
:- 
23. ব্রিটিশ মিউজিয়াম কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
:- 
24. ভারতবর্ষের একজন কিংবদন্তির নাম লেখ?
 :- 
25. র‍্যাঙ্কে কে ছিলেন?
:- 
26. ‘ভারত হলো বিশ্ব সভ্যতার লীলাভূমি’ কে বলেছেন?
:-
27.হিস্ট্রি কথাটি কোথা থেকে এসেছে? এর অর্থ কি?
:-
28. ইতিহাস তত্ত্ব কী?
:- 

29. লোককথা কী?
:- 

30. এশিয়াটিক সোসাইটি কে কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
:- 
31. পৌরাণি কাহিনী কি ?
:- 

32.দুজন জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকের নাম লেখ?
:-
33. দুজন মাক্সবাদী ঐতিহাসিক এর নাম লেখ?
:- 
34. গ্রিসের একজন কিংবদন্তির নাম লেখ?
:- 
35. ভারতবর্ষের সর্ববৃহৎ জাদুঘরের নাম কী?
:- 
36. স্মৃতিকথা কি?
:- 


 37. কত খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুর ব‍্যাপট্রিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠা হয়? 
:- 
38. ভ‍্যাটি ক‍্যান মিউজিয়াম কে কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
:- 
39. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কে কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
:-  
40. শ্রীরামপুর ত্রী নামে কারা পরিচিত?
:-  

 
1- জনশ্রুতি কত প্রকার? 
• চার প্রকার • ছয় প্রকার • পাঁচ প্রকার • তিন প্রকার
2- মৌখিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল- 
• শ্রুতিনাটক • বক্তৃতা • কথোপকথন • জনশ্রুতি
3- নোয়ার নৌকার কাহিনি যে ধর্মের পুরাণে আছে সেটি হলো -
• হিন্দু • বৌদ্ধ • খ্রিস্টান • ইসলাম 
4- মহাকবি কালিদাসের কাহিনি উল্লিখিত আছে- • হিন্দু পুরাণে • রোমান পুরাণে • গ্রিক পুরাণে • বাইবেলে
5- হিন্দুধর্মে দেবী দুর্গা হলেন একজন—
• পৌরাণিক চরিত্র • রূপকথার চরিত্র • কিংবদন্তি চরিত্র • লোককথার চরিত্র
6- জ্যাকব ও উইলহেম গ্রিম যে ধরনের গল্পকার সেটি হল— 
• কিংবদন্তির • লোককথার • পৌরাণিক কাহিনির • রূপকথার
7- আলিবাবা ও চল্লিশ চোরের কাহিনি কীসের উদাহরণ? 
• স্মৃতিকথা • পৌরাণিক কাহিনি • রুপকথা • লোককথা
8- দক্ষিণারঞ্জন বসুর 'ছেড়ে আসা গ্রাম' হল একটি—
• লোককথা • কিংবদন্তি • স্মৃতিকথা • পৌরাণিক কাহিনী 
9- 'জীবনের জলসাঘরে' কী ধরনের রচনা?
• স্মৃতিকথামূলক • কিংবদন্তিমূলক • পৌরাণিক কাহিনি • লোককথা 
10- হেরোডোটাস যে তথ্যের ওপর নির্ভর করে ম্যারাথনের যুদ্ধের ইতিহাস রচনা করেন, সেটি হল-
• কিংবদন্তি • স্মৃতিকথা • পৌরাণিক কাহিনি • মৌখিক ঐতিহ্যে
11- হিস্ট্রি অব হিন্দুস্থান' রচনা করেন - 
• প্রিন্সেপ • ভিনসেন্ট স্মিথ • ম্যাকমিলান • আলেকজান্ডার ডাও
12- 'ইতিহাসমালা' রচনা করেন—
• উইলিয়াম কেরি • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর • মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালকোর • মার্শম্যান
13- “অক্সফোর্ড হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া' গ্রন্থটি রচনা করেন—
• ডডওয়েল • ভিনসেন্ট স্মিথ • পি.ই. রবার্টস • কীথ
14- "ফল অব দ্য মুঘল এম্পায়ার গ্রুথটি রচনা করেন- 
• রমেশচন্দ্র মজুমদার • দাদাভাই নৌরোজি • রমেশচন্দ্র দত্ত • যদুনাথ সরকার
• 15- সবচেয়ে বেশি সংখ্যক জাদুঘর রয়েছে-
• নিউ ইয়র্কে • মেক্সিকো সিটিতে • লন্ডনে • কলকাতাতে
16- প্লেটো জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন-
• এথেন্সে • রোমে • স্পার্টায় • মিলানে
17- ব্রিটিশ মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল - 
• ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে • ১৭৫৩ খ্রিস্টাব্দে • ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে • ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে
18- লুভর মিউজিয়াম অবস্থিত -
• নিউ ইয়র্কে • লন্ডনে • বার্লিনে • প্যারিসে
19- হাজারদুয়ারি জাদুঘর হল একটি—
• ঐতিহাসিক জাদুঘর • প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর • শিল্প জাদুঘর • বিশ্বকোশ জাদুঘর
20- ইতিহাসের জনক বলা হয় -
• থুকিডিডিসকে • ইবন খালদুনকে • হেরোডোটাসকে • সেন্ট অগাস্টিনকে
21- বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের জনক বলা হয় - • থুকিডিডিসকে • ইবন খালদুনকে • হেরোডোটাসকে • সেন্ট অগাস্টিনকে
22- আধুনিক ইতিহাস চর্চার জনক বলা- 
• থুকিডিডিসকে • ইবন খালদুনকে • হেরোডোটাসকে • সেন্ট অগাস্টিনকে
23- আধুনিক ইতিহাস চর্চার জনক প্রকাশ ঘটেছিল - 
• উনবিংশ শতকে • অষ্টাদশ শতকে • নবম শতকে • ষষ্ঠ শতকে
24- পৃথিবীর প্রাচীনতম জাদুঘর হলো- 
• এননিগালডি নান্না-র জাদুঘর • আলেকজান্দ্রিয়া জাদুঘর • লুভর মিউজিয়াম • ব্রিটিশ মিউজিয়াম
25- 'ঠাকুমার ঝুলি' রচনা করেন- 
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার • মুকুন্দরাম চক্রবর্তী • কালীপ্রসন্ন সিংহ • গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর
26- হিতোপদেশের রচয়িতা কে? • নারায়ণ পন্ডিত • বিষ্ণু শর্মা • দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার • মহাকবি কালিদাস
27- পঞ্চতন্ত্রের রচয়িতা কে?
• নারায়ণ পন্ডিত • বিষ্ণু শর্মা • দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার • মহাকবি কালিদাস
28- টম থাম্বের অনুকরণে বাংলায় রচিত হয়েছিল - 
• হুতকম প্যাঁচার নকশা • বুড়ো আংলা • ছেলেদের রামায়ণ• আলালের ঘরে দুলাল
29- 'একাত্তরের ডায়েরী' স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
• সরলা দেবী চৌধুরানী • মণিকুন্তলা সেন • সুফিয়া কামাল • আশালতা সরকার
30- ছেড়ে আসা গ্রাম গ্রন্থটি কার রচনা?
• বিপিনচন্দ্র পাল • মান্না দে • দক্ষিণারঞ্জন বসু • হিরণময় বন্দোপাধ্যায়
31- 'উদ্বাস্তু' বইটির লেখক কে?
• বিপিনচন্দ্র পাল • মান্না দে • দক্ষিণারঞ্জন বসু • হিরণময় বন্দোপাধ্যায় 


 


দ্বাদশ বাংলা, 'ভারতবর্ষ' গল্পের বড়ো প্রশ্নোত্তর

১) "আমি কি তা দেখতে পাচ্ছিস নে?" - কোন্ প্রশ্নের উত্তরে বক্তা একথা বলেছেন? গল্প অনুসারে বক্তার স্বরূপ উদঘাটন করো।   ১+৪ 


উত্তর:-  সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের 'ভারতবর্ষ' গল্পে এক থুত্থুড়ে বুড়ির মৃতকল্প দেহের দখল নিয়ে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ বিবাদোন্মুখ হয়ে ওঠে। বিবাদ যখন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের রূপ নিতে চলেছে, তখন হঠাৎ বুড়ি নড়েচড়ে উঠে বসলে, তাকে জীবিত দেখে প্রথমে চৌকিদার, পরে দু'দিকের জনতা হতবাক হয়ে প্রশ্ন করে- "বুড়ি, তুমি হিন্দু না মুসলমান?" - এই প্রশ্নের উত্তরেই বুড়ি শ্লেষের সঙ্গে প্রশ্নে প্রদত্ত কথাগুলি বলে। 


       ••  গল্পে যে থুত্থুড়ে রাক্ষসী চেহারার বৃদ্ধাকে লেখক উপস্থাপিত করেছেন, তার নাম সম্প্রদায় জাতধর্মের কোনো প্রসঙ্গ তিনি আনেননি। কিন্তু গল্পে তিনি আবহমান ভারতের পরস্পর বিবাদমান ধর্মসম্প্রদায় হিন্দু-মুসলমানকে জোরালোভাবে উপস্থিত করেছেন। বৃদ্ধাকে একদিন সকালে নিঃসাড় অবস্থায় কিছু মানুষ এক বটগাছের কর্দমাক্ত খোঁদলে আবিষ্কার করে। ধরে নেয় সে মারা গেছে। সরকারি আইন রক্ষক চৌকিদারের পরামর্শ হিন্দুরা তাকে বাঁশের চ্যাংদোলায় নিয়ে ফেলে আসে নদীর চড়ায়। বিকেলে মুসলমানরা ওই চ্যাংদোলায় করে তাকে তুলে আনে বাজারে। গায়ের মোল্লাসাহেব ও ভটচাজমশায়ের ক্রমাগত উস্কানিতে মৃতদেহ নিয়ে সাম্প্রদায়িক বিবাদ শুরু হয়। ঘটনা যখন চরমে পৌঁছায় তখন বুড়ি নড়েচড়ে উঠে বসে। প্রমাণিত হয় সে মরেনি। 


      বৃদ্ধার মুখের ব্যঙ্গমিশ্রিত ও জিজ্ঞাসাসূচক কথাগুলি আসলে লেখকের। তিনি বলতে চেয়েছেন, মানুষ মানুষই। সম্প্রদায় বা ধর্মগত পরিচয় তার ততটা মূল্যবান নয়। মানবিকতাই মানুষের আসল ধর্ম, তাই মানুষ পরিচয়টিকে জীবনের প্রধান মূল্য দেওয়া উচিত। এ পরিচয় একবার মনে ঠাঁই পেলে মানুষ পূর্ণ হয়ে জেগে ওঠে।



২) "শেষ রোদের আলোয় সে দূরের দিকে ক্রমশ আবছা হয়ে গেল।" - কার কথা বলা হয়েছে? সে ক্রমশ আবছা হয়ে গেল কেন?    ১+৪ 


উত্তর:-  কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের 'ভারতবর্ষ' গল্পে শেষ রোদের আলোয় যার দূরের দিকে ক্রমশ আবছা হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, সে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তথা নাম-গোত্রহীন এক থুত্থুরে বুড়ি। 


     •• গল্পের কাহিনী বিন্যাসে দেখি রাঢ়বঙ্গের দুঃসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে এক থুত্থুরে বুড়ি বাজার এলাকায় প্রবেশ করে। তারপর 'ফাঁপি'র প্রবল শৈত্য ও ভেজা প্রকৃতিতে বটগাছের খোঁদলে রাত্রিযাপন করে। পরদিন সকালে সেখানে বুড়িকে দেখে লোকজন অনুমান করে নেয় যে সে মৃতা। এই কল্পমৃত্যুর পটভূমিতেই লেখক আনয়ন করেন ভারতের পারস্পরিক ধর্মদ্বন্দ্বের ঘটনাক্রম, যেখানে সামান্য ছুঁতো পেলেই প্রাতিষ্ঠানিক দুই ধর্মের মানুষ হিন্দু-মুসলমান একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে, দ্বন্দ্বযুদ্ধে মেতে ওঠে। এখানেও একই ব্যাপারের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখা যায়। দ্বন্দ যখন চরমে পৌঁছেছে তখনই লেখক বুড়িকে পুনর্জাগরিত করেন। শুধু তাই নয়, ধর্মতন্ত্রের দুই লড়াকু সম্প্রদায়ের মানুষজনদের কৌতুহলী জিজ্ঞাসার উপর নির্ভীক ও উপেক্ষাময় পদসঞ্চারে বুড়ির চলে যাওয়া দেখান। বোঝা যায়, প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের প্রতি অবজ্ঞা ছুঁড়ে দিয়েছেন লেখক। ধর্ম হল, যা ধারণ করা হয়। মানুষ মানবতা ধারণ করুক - এই লেখকের প্রত্যাশা। কিন্তু মানুষ মৃত মানুষের ধর্মপ্রমাণে লড়াই করে, সশস্ত্র হয়ে। তাই বুড়ির 'দূরের দিকে ক্রমশ আবছা' হয়ে যাওয়া যেন ধর্মের অমানবিক দিকটিকেই বাস্তবিক উপস্থাপিত করে। 



৩) 'ভারতবর্ষ' গল্পের বুড়ি কীভাবে ভারতবর্ষের প্রতীক হয়ে উঠেছে তা বুঝিয়ে দাও।    ৫ 


উত্তর:-  

প্রতীকধর্মিতার স্বরূপ:  প্রতীক হলো সাহিত্যে সংকেত দ্বারা ভাব প্রকাশের এক প্রকার পদ্ধতি বা রীতি। তাই অনেক সময়ই প্রতীকের সাহায্যে কবি ও সাহিত্যিক তাঁর বক্তব্যের ব্যঞ্জনাকে প্রকাশ করেন। প্রতীকের সাহায্যে একটি ঘটনা বা কোন বিষয়কে অবলম্বন করে একটি বাহ্যিক অর্থের আড়ালে লেখক একটি গভীর অর্থ নিহিত রাখেন। 'ভারতবর্ষ' গল্পটিতে প্রতীকের যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ব্যবহার হয়েছে। 


গল্পে প্রতীকী বৃদ্ধা চরিত্র:  গল্পের পটভূমিতে লেখক অত্যন্ত সযত্নে স্থাপন করেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আর সেই দুর্যোগে এক নাম-গোত্রহীন অতি বৃদ্ধা চরিত্রকে প্রতীক রূপে হাজির করেন। এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে, এই বৃদ্ধা  লেখকের উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার হিসেবে উপস্থিত। 


বৃদ্ধা চরিত্রের ভূমিকা:  লেখক উক্ত গল্পে আবহমানকালের চিরায়ত ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের প্রতীকরূপে উপস্থিত করেছেন বৃদ্ধাকে। হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্বে


 জর্জরিত ভারতবর্ষ, যার অস্তিত্বের সংকট নিয়ে দেশীয় মানুষদের কোনো মাথাব্যথা নেই। সে যে জীবন্মৃতা আছে, এ নিয়েও মানুষের কোনো ইতিবাচক ভাবনা নেই। তাকে নিয়ে কেবল অধিকারের লড়াই আছে। হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে এই প্রতীকী মাত্রা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই গল্পের শেষে নড়ে বসা বুড়িকে বলতে শোনা যায়- 

         "আমি কী তা দেখতে পাচ্ছিস নে?" 

       সমগ্র গল্পজুড়ে লেখক বৃদ্ধার অনুষঙ্গে যে ধর্মীয় অন্ধত্বের বীজ বপন করেন তা গল্পের সমাপ্তিতে উপেক্ষাভরা একটি উত্তরে নির্মূল হয়। বুড়ির উত্তরে মানবিক পরিচয়ই প্রতীকী হয়ে ওঠে। তাই 'ভারতবর্ষ' গল্পটিকে একটি সার্থক প্রতীকধর্মী গল্প বলা যায়। 



দ্বাদশ বাংলা, 'আমি দেখি' কবিতার বড়ো প্রশ্নোত্তর

১) "বহুদিন জঙ্গলে কাটেনি দিন" - কেন কবি এ কথা বলেছেন? এই অভাব পূরণের জন্য কবি কী চেয়েছেন? ৩+২ 
  
উত্তর:- শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় শহরের কৃত্রিম পরিবেশে হাঁপিয়ে উঠেছেন কবি। তাই তিনি চেয়েছেন এর থেকে মুক্ত হতে। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কাছে জঙ্গল হল সেই নিভৃত পর্যটন যা মনকে ভালো রাখে। অথচ সেই জঙ্গলের সঙ্গেই ঘটে গেছে কবির দীর্ঘ বিচ্ছেদ-  
                "বহুদিন শহরেই আছি"

        নাগরিক জীবনযাপনের প্রাত্যহিক ক্লান্তি, অবসাদ, রিক্ততা, বেদনা, জীর্ণতা, হতাশায় আহত কবিমন মুক্তির খোঁজে বারবার ফিরে যেতে চাই শ্যামলিমার কাছে- "বহুদিন জঙ্গলে যায়নি"। কবি দেখেন "শহরজুড়ে সবুজের অনটন ঘটে..."। নগরায়ন তার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে প্রতিনিয়ত সবুজকে গ্রাস করে চলেছে- "শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায়"। এই অভাব প্রতিফলিত হয় কবি মনে, তাই জঙ্গল জীবনের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য তীব্র আক্ষেপ প্রকাশিত হয়েছে। 

     •• এই অভাব পূরণের জন্যই কবি চেয়েছেন তার বাগানে গাছ এনে বসানো হোক। তাঁর চোখ চায় সবুজ, দেহ চায় সবুজ। ঘন সান্নিধ্যে সবুজের অভিযান হোক নিজস্ব বাগানে। 
            "তাই বলি, গাছ তুলে আনো 
             বাগানে বসাও আমি দেখি 
             চোখ তো সবুজ চায়! 
             দেহ চায় সবুজ বাগান
             গাছ আনো, বাগানে বসাও।" 
       
       প্রকৃতির বিপুল অঙ্গনে যেতে না পারার বেদনা অন্তত মানসিক শান্তির নির্ঝর হয়ে বাগানে ঝরুক। এই পৃথিবী হয়ে উঠুক সবুজে সবুজ। তাই কবির আর্তি- "গাছ আনো, বাগানে বসাও।" 


২) "আরোগ্যের জন্য ওই সবুজের ভীষণ দরকার" - কে, কোথায় একথা বলেছেন? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার কোন্ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে? ১+৪ 

উত্তর:- বাংলা আধুনিক কবিতার বিশিষ্ট কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচিত 'অঙ্গুরী তোর হিরণ্য জল' কাব্যের 'আমি দেখি' কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় নিজেই প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন। 

     •• শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় কবি প্রকৃতপক্ষে বৃক্ষরাজির বন্দনা করেছেন। গাছ তুলে নিয়ে বাগানে গাছ বসানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কবিতার একেবারে শুরুতেই কবি জানিয়েছেন-  
         "আমার দরকার শুধু কাজ দেখা 
         গাছ দেখে যাওয়া 
         গাছের সবুজটুকু শরীরে দরকার" 
  
      "জঙ্গলের মধ্যে ঘর ঈশ্বর গড়েন" - কবি এই আজন্মলালিত বিশ্বাস নিয়ে জঙ্গলে ছুটে যান, শান্তি পান বৃক্ষের সুনিবিড় সাহচর্য্যে। কিন্তু শহরের অসুখ জর্জরিত কবি দীর্ঘকাল অরন্য থেকে নানা কাজে-অকাজে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও তিনি মূলত সবুজের পিয়াসী। রোগাক্রান্ত নগর কবির ভালো লাগেনা। নগরজীবনের প্রতিদিন মানবিকতার মৃত্যু ঘটে। কবি তাঁর বেদনাকে বুকে চেপে রেখে জঙ্গলের সবুজ গভীরতায় ডুবে যেতে চান। প্রকৃতির সেই সান্নিধ্য পাওয়ার অবসর না পেলে রিক্ততার মাঝেই কবির আহ্বান-  
             "গাছ আনো, বাগানে বসাও 
             আমি দেখি।।"

      শরীর ও মনের আরোগ্যের জন্য তাঁর কাজ গাছ দেখা আর গাছের সবুজ ভীষণ দরকার। শহরে সবুজের চিহ্ন নেই, এখানে কেবলই ধূসরতা। "শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায় 
   সবুজের অনটন ঘটে..."

      সবুজের প্রতি মানুষের চিরন্তন চাহিদাকে কবি এভাবেই ব্যক্ত করেছেন। 'ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড়' এ কবি বসতি গড়তে চান। কবির চোখে সবুজ আর সবুজ বাগানের সমারোহ; কারণ কবি জানেন, নগরের ধোয়া ধূলিধূসরিত পৃথিবীর জন্যই বৃক্ষের সবুজ স্নিগ্ধতা একান্ত প্রয়োজন। রক্তে রাঙানো হৃদয়হীন, প্রাণহীন এই পৃথিবীর একমাত্র আরোগ্যের পথনির্দেশিকা- 'সবুজের অভিযান'। মৃতপ্রায় নাগরিক জীবন সবুজের সংস্পর্শে নির্মল হয়ে উঠবে- নতুনরপে প্রকাশিত হবে।

দ্বাদশ বাংলা, 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতার বড়ো প্রশ্নোত্তর

১) "আমি তা পারি না" - কবি কী পারেন না? কেন তিনি একথা বলেছেন? ২+৩ 

 উত্তর:- কবি মৃদুল দাশগুপ্ত 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় নির্যাতিত মানুষদের থেকে তার মুখ ফিরিয়ে না থাকতে পারার কথা বলেছেন। কবি সমাজের চরম অক্ষয়ের দিনে চুপ করে থাকতে পারেননি। নিখোঁজ মেয়েটির ছিন্নভিন্ন দেহ জঙ্গলে দেখতে পেয়ে নিজের কাছেই প্রশ্ন করেছেন- "আমি কি তাকাবো আকাশের দিকে / বিধির বিচার চেয়ে?" এবং "নিহত ভাইয়ের শবদেহ দেখে" বিবেকবান কবি ক্রোধে গর্জে উঠতে চেয়েছেন। অর্থাৎ কবি ভাগ্যের হাতে নিজেকে সমর্পণ করতে পারেননি। 

  •• আকাশের দিকে তাকিয়ে বিধির বিচার চাওয়া একদিকে যেমন ঈশ্বর নির্ভরতার প্রকাশ, তেমনি অন্যদিকে আত্মশক্তির অভাব ও অসহায়তাকে নির্দেশ করে। কিন্তু মানুষের অধিকার যখন বিপন্ন হয়, বেঁচে থাকার সুস্থ পরিবেশ আর থাকে না, এমনকি রাষ্ট্রশক্তি নিজেকে নিরঙ্কুশ করতে তার নখ দাঁত বিস্তার করে; তখন ঈশ্বরের কাছে ন্যায় বিচার চেয়ে বসে থাকা আসলে অনাবশ্যক কালক্ষেপ। বিধির কাছে নিজেকে ছেড়ে দেওয়ার অর্থ শোষকের বা ক্ষমতাবানের অবাধ বিচরণের সুযোগ করে দেওয়া। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ এবং সহানুভূতিশীল কবি কবিতায় চেয়েছেন এই অত্যাচারীর আনুগত্য বর্জন করতে। এক একটি সামাজিক ঘটনাপ্রবাহ বা মানবিক লাঞ্ছনা কবির মনে ক্রোধের জন্ম দেয়। তাঁর কাছে এই ক্রোধই হয় সমাজের প্রতি ভালবাসা, দায়বদ্ধতা আর মূল্যবোধের প্রকাশ। কবিতায় কবি জাগিয়ে তুলতে চান নিজের বিবেককে-  
               "যা পারি কেবল  
               সে-ই কবিতায় জাগে 
               আমার বিবেক, আমার বারুদ 
               বিস্ফোরণের আগে।" 

     আধ্যাত্মিকতা বা বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়, কবি চান তাঁর কবিতাকে প্রতিবাদের অস্ত্র করে তুলতে। একারণেই কবি প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন। 


২) "কেন তবে লেখা, কেন গান গাওয়া / কেন তবে আঁকাআঁকি?" - এই মন্তব্যটির মধ্য দিয়ে কবির কোন্ বিশেষ মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে তা আলোচনা করো। ৫ 

উত্তর:- মৃদুল দাশগুপ্তের 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতাটি সামাজিক অবক্ষয়ের জ্বলন্ত স্বরূপ। এই কবিতায় কবির সমাজ সচেতনতার পরিচয় পাওয়া যায়। শিল্প সৃষ্টির অন্যতম শর্ত, শিল্পে সমাজ-মানসিকতার প্রতিফলন ঘটানো। একজন সংবেদনশীল কবি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সমাজ-সত্যের প্রকাশ ঘটান। আলোচ্য কবিতায় কবি আত্মিকভাবে তার পাশে থেকে শিল্পের সেই অর্থকেই মান্যতা দিয়েছেন। ২০০৬-০৭ খ্রিস্টাব্দে সিঙ্গুরে কৃষিজমি রক্ষার গণআন্দোলনে রক্তাক্ত হয়েছিল সিঙ্গুর। আর এই প্রসঙ্গে রচিত কবিতা 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে।' 

      কবি একদা লিখেছিলেন- "আমি মৃদুল দাশগুপ্ত, আমি আরব গেরিলাদের সমর্থন করি।" কিন্তু তিনি যখন নিহত ভাইয়ের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তখন তাঁর ক্রোধ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। নিখোঁজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন শরীর যখন জঙ্গলে পাওয়া যায় তখন কবিতার মাধ্যমে নিজের বিবেককে জাগিয়ে রাখতে চান কবি। যে অনুভূতি থেকে নজরুল লিখেছিলেন- "রক্ত ঝরাতে পারি না তো একা / তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা।" কবি সেই একই প্রেরণা থেকেই লিখেছেন প্রতিবাদধর্মী এই কবিতা। 

         তিনি উপলব্ধি করেছেন সন্তানহারা জননীর পাশে দাঁড়াতে না পারলে তাঁর সাহিত্যচর্চা বৃথা। শাসকের রক্তচক্ষু দেখে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু কবির জাগ্রত বিবেকের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। কবি তাঁর সংবেদনশীলতায় উপলব্ধি করেন সময়ের এই অবক্ষয়- 
            "নাই যদি হয় ক্রোধ  
             কেন ভালোবাসা, কেন বা সমাজ 
              কীসের মূল্যবোধ!" 

  তাই কবির বিশ্বাস, কবিতায় জমিয়ে রাখা প্রতিবাদের বারুদ একদিন বিস্ফোরণ ঘটাবেই- 
               "আমার বিবেক, আমার বারুদ 
                 বিস্ফোরণের আগে।"

বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

২০২৪ দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস, অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ বড়ো প্রশ্ন

প্রথম অধ্যায় - অতীত স্মরণ

১) লোককথা কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব আলোচনা করো। ২) স্মৃতিকথার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। ইতিহাস রচনায় স্মৃতিকথার গুরুত্ব কী? ৩) জাদুঘর কাকে বলে? অতীত পুনর্গঠনে জাদুঘরের ভূমিকা আলোচনা করো। / মিউজিয়ামের প্রকারভেদ আলোচনা করো। ৪) মৌখিক ঐতিহ্যের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করো। সাম্প্রতিক ইতিহাস চর্চায় এর গুরুত্ব লেখো।

দ্বিতীয় অধ্যায় - উনবিংশ ও বিংশ শতকে ঔপনিবেশিকতাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের প্রসার

১) সাম্রাজ্যবাদ বলতে কি বুঝো? সাম্রাজ্যবাদ উদ্ভবের কারণগুলি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।  ২) উপনিবেশিক সমাজে জাতিসংক্রান্ত প্রশ্ন ও তার প্রভাব আলোচনা করো।  ৩) সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে হবসন-লেলিন তত্ত্ব আলোচনা করো।  ৪) মার্কেনটাইল অর্থনীতি বলতে কী বোঝো? শিল্পপুঁজির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

 

তৃতীয় অধ্যায় - ঔপনিবেশিক আধিপত্যের প্রকৃতি : নিয়মিত ও অনিয়মিত সাম্রাজ্য

১) ক্যান্টন বাণিজ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী ছিল? ক্যান্টন বাণিজ্যের অবসান কেন ঘটে? ২) ভারতে রেলপথ স্থাপনের ঘটনা এদেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলেছিল? ভারতে রেলপথ প্রবর্তনের উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা করো।  ৩) ঔপনিবেশিক ভারতে অবশিল্পায়নের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো। ভারতীয় অর্থনীতির উপর এর প্রভাব লেখো।  ৪) ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কীভাবে বাংলার দেওয়ানি লাভ করে? দেওয়ানী লাভের গুরুত্ব ও ফলাফলগুলি আলোচনা করো। 


চতুর্থ অধ্যায় - সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া

১) ব্রিটিশ শাসনকালে আদিবাসী ও দলিত সম্প্রদায়ের বিবরণ দাও।  ২) বাংলায় নবজাগরণের প্রকৃতি অলোচনা করো। এর সীমাবদ্ধতা কী ছিল?  ৩) চিনের চৌঠা মে-এর আন্দোলনের কারণ বিশ্লেষণ করো। এই আন্দোলনের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।  ৪) শিক্ষা সংস্কারক ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভূমিকা আলোচনা করো।


পঞ্চম অধ্যায় - ঔপনিবেশিক ভারতের শাসন

১) ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ভারত শাসন আইনের প্রেক্ষাপট ও শর্তাবলি আলোচনা করো। এই আইনের গুরুত্ব কী ছিল?  ২) জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট আলোচনা করো। এই ঘটনার গুরুত্ব কী ছিল? ৩) লখনৌ চুক্তির শর্তাবলী উল্লেখ করো। এই চুক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। ৪) দক্ষিণ ভারতে মন্দির প্রবেশ সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের পরিচয় দাও।   ৫) রাওলাট আইনের উদ্দেশ্য কী ছিল? গান্ধীজী কেন এর বিরোধিতা করেছিলেন? ৬) ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব আলোচনা করো।  


ষষ্ঠ অধ্যায় - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং উপনিবেশসমূহ

১) হো-চি-মিনের নেতৃত্বে ভিয়েতনামের মুক্তিযুদ্ধের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। ২) মন্ত্রী মিশনের পরিকল্পনা কী ছিল ? এই মিশনের ত্রুটি ও গুরুত্ব লেখো।   ৩) মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কী? এই পরিকল্পনার ফল কী হয়েছিল? এই পরিকল্পনার বিষয়ে ভারতীয় নেতৃবৃন্দের কী মনোভাব ছিল?   ৪) ভারত ছাড়ো আন্দোলন / আগস্ট আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো? এই আন্দোলনের গুরুত্ব আলোচনা করো। এই আন্দোলনে মহিলাদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো। ৫) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের নৌ বিদ্রোহের কারণ ও তাৎপর্য আলোচনা করো। ৬) ক্রিপস মিশনের প্রস্তাবগুলি কী কী ছিল? ভারতীয়রা কেন এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?


সপ্তম অধ্যায় - ঠান্ডা লড়াইয়ের যুগ

১) জোট নিরপেক্ষ নীতি কী ছিল? জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের উদ্দেশ্য আলোচনা করো। এই আন্দোলনে ভারতের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।  ২) ঠান্ডা লড়াই বলতে কী বোঝায়? ঠান্ডা লড়াইয়ের তাত্ত্বিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করো।  ৩) কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। এর গুরুত্ব কী ছিল? অথবা, কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট বলতে কী বোঝো? ঠান্ডা লড়াইকে এটি কতদূর প্রভাবিত করেছিল?  ৪) তেল কূটনীতি বলতে কী বোঝো? তেল কূটনীতি উপসাগরীয় সংকটের জন্য কতখানি দায়ী ছিল?  ৫) ট্রুম্যান নীতি ও মার্শাল পরিকল্পনা সংক্ষেপে আলোচনা করো।  ৬) ১৯৫০ এর দশকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কমিউনিস্ট চীনের প্রভাব নিরূপণ করো। অথবা, পূর্ব ইউরোপের সোভিয়েতীকরনের উদ্দেশ্য কী ছিল? বিভিন্ন দেশে এর কী প্রভাব পড়েছিল? অথবা, কোরীয় যুদ্ধের ফলাফল ও তাৎপর্য লেখো। 


অষ্টম অধ্যায় - অব-উপনিবেশীকরণ

১) সার্কের উদ্ভবের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করো। এর উদ্দেশ্য কী ছিল? অথবা, সার্ক গঠনের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী  লেখো।   ২) অব-উপনিবেশীকরণ বলতে কী বোঝায়? এর সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।  ৩) স্বাধীন ভারতের প্রথম তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য ও গুরুত্ব আলোচনা করো।  ৪) ইন্দোনেশিয়ার মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতায় ডঃ সুকর্ণর অবদান আলোচনা করো।৫) স্বাধীন বাংলাদেশের উত্থান ও শেখ মুজিবুর রহমানের ভুমিকা আলোচনা করো।


বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

মাধ্যমিক ভূগোল, 'ভারতের জলবায়ু' প্রশ্নোত্তর

 *1. মৌসুমি বিস্ফোরণ কী?*

উত্তর: ভারতে গ্রীষ্মকালের শেষদিকে উত্তর পশ্চিমভাগে এক গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভারতমহাসাগর থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ু আরবীয় ও বঙ্গোপসাগরীয় দুটি শাখায় বিভক্ত করে ভারতে প্রবেশ করে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। মৌসুমি বায়ুর আগমনজনিত হঠাৎ বৃষ্টিপাতের ঘটনাকে মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে। 


*2. পশ্চিমী ঝঞা কী?*

উত্তর: শীতকালে ভারতে স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত উত্তর পূর্ব মৌসুমি বায়ু জলীয়বাষ্পহীন থাকায় ভারতে তেমন বৃষ্টিপাত হয় না। এই সময় মাঝে মাঝে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ভুত ঘূর্ণবাত ভারতের উত্তর পশ্চিম অংশ দিয়ে প্রবেশ করে। ফলে উত্তরভারতে ঝড়ঝঞা হয়। এই পশ্চিমী নিম্নচাপ বিশিষ্ট ঘূর্ণবাত উত্তরভারতে শীতের শান্ত আবহাওয়াকে বিঘ্নিত করে বলে একে পশ্চিমী ঝঞ্চা বলে।


*3. কালবৈশাখী কী?*

উত্তর: গ্রীষ্মকালে প্রখর সূর্যকিরণে স্থলভাগ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এপ্রিল মে মাসে গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অসমের স্থলভাগের উষ্ণ বাতাস ও সমুদ্র থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ শীতল বাতাসের সংঘর্ষে ফলে বিকেলে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টি হয়, যা কালবৈশাখী নামে পরিচিত।

 

*4. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কাকে বলে?*

উত্তর: জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্রবায়ু পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে যখন পর্বতের বিপরীত ঢালে বা অনুবাত ঢালে এসে পৌঁছায় তখন জলীয়বাষ্পের অভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস পায়। অনুবাত ঢালে অবস্থিত বৃষ্টিহীন বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল নামে পরিচিত। উদাহরণ—ভারতের শিলং। 


*5. আম্রবৃষ্টি বলতে কী বােঝাে?*

উত্তর: দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক, কেরালা ও তামিলনাড়ুতে গ্রীষ্মকালে স্থানীয় নিম্নচাপের প্রভাবে যে, বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত ঘটে, তাকে আম্রবৃষ্টি বলে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে দক্ষিণ ভারতে আমের ফলন ভালাে হয় বলে এই বৃষ্টিকে আম্রবৃষ্টি বা Mango Shower বলে।


*6. লু কী?*

উত্তর: গ্রীষ্মকালে ভারতের উত্তর পশ্চিমে রাজস্থান, গুজরাত, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ প্রভৃতি স্থানে ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে যে উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় ‘লু’ বলে। এটি অত্যন্ত উষ্ণ বায়ু (40°C – 50°C)। ‘লু’-র প্রভাবে মানুষ ও গবাদি পশু মারা যায়।


*7. ‘আঁধি’ কাকে বলে?*

উত্তর: গ্রীষ্মকালে রাজস্থানের মরুভূমি অঞলে যে প্রবল ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকেই স্থানীয় ভাষায়, আঁধি বলা হয়। আঁধির গতিবেগ 50-60 কিমি/ঘন্টা। ঝড়ের প্রভাবে উষ্ণতা কিছুটা কমে।


*8. ‘আশ্বিনের ঝড়’ কাকে বলে?*

উত্তর: প্রত্যাগমনকারী মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে সামুদ্রিক বায়ুর সংঘর্ষে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলের রাজ্যগুলিতে প্রবল ঝড় বৃষ্টি হয়। একে সাইক্লোন বলে। পশ্চিমবঙ্গে এই ঝড় যেহেতু আশ্বিন মাসে দেখা যায়, তাই তা আশ্বিনের ঝড় নামে পরিচিত। 


*9. তামিলনাড়ুর করমণ্ডল উপকূলে বছরে দুবার বর্ষাকাল হয় কেন?*

উত্তর: তামিলনাড়ু উপকূলে মৌসুমি বায়ুর আগমনের সময় জুন মাসে বৃষ্টি হয়, আবার অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে উঃ পূঃ ভারত থেকে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে ফেরেল সূত্রানুসারে ডানদিকে বেঁকে করমণ্ডল উপকুলে প্রবেশ করে এবং পূর্বঘাটে বাধা পেয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। 


*10. ভারতে খরার কারণগুলি আলােচনা করাে।*

উত্তর: (i) বিলম্বিত আগমন: দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নির্ধারিত সময়ের পরে ভারতীয় ভূখণ্ডে এলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে খরার সৃষ্টি করে।

(ii) অগ্রিম প্রত্যাবর্তন: দঃ পঃ মৌসুমি বায়ু নির্ধারিত সময়ের আগে ফিরে গেলে বৃষ্টিপাত কম হবার দরুন খরা হয়।

(iii) বৃষ্টিপাতের সাময়িক বিরতি: কোনাে কোনাে বছর বর্ষাকালের মাঝে দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত হয় না, ফলে খরার প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যায়।

(iv) পরিবেশ দূষণ: পরিবেশ দূষিত হলে বায়ুমণ্ডলের গড় উষ্মতা বেড়ে যায় এবং জলীয়বাষ্প ঘনীভূত না হলে বৃষ্টিপাত হয় না। ফলে খরা হয়।


*11. ভারতে প্রায়ই বন্যা হয় কেন?*

উত্তর: (i) অগ্রিম বর্ষার আগমন: নির্ধারিত সময়ের বহু পূর্বে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বন্যার সৃষ্টি করে।

(ii) বিরামহীন বৃষ্টি: বছরে কোনাে কোনাে সময় বিরামহীন বৃষ্টি বন্যার কারণ হয়।

(iii) বর্ষাকালের অধিক স্থায়ীত্ব: বর্ষাকালের স্থায়ীত্ব বেশি হলে ভারি বর্ষণের ফলে বন্যা দেখা দেয়।

(iv) নিম্নচাপের স্থায়ীত্ব: দীর্ঘক্ষণ নিম্নচাপ অবস্থান করলে ভারী বৃষ্টি বন্যার কারণ।

(v) নদীর গভীরতা হ্রাস: নদীর গভীরতা হ্রাসের ফলে অধিক বৃষ্টিতে দুকূল ছাপিয়ে বন্যা হয়। 


*12. ভারতে শীতকাল শুষ্ক কেন?*

উত্তর: (i) উষ্ণতার অবনমন: 22 ডিসেম্বর তারিখে সূর্য দক্ষিণ গােলার্ধে মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় উত্তর গােলার্ধে উষ্ণতার অবনমন ঘটে।

(ii) উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমন: এশিয়ার উত্তরাংশে সাইবেরিয়া অংশ থেকে আগত শুষ্ক ও শীতল মৌসুমি বায়ু স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জলীয়বাষ্পের পরিমান অনেক কম থাকে। এই কারণে শীতকাল বৃষ্টিহীন ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়। 


*13. ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলােচনা করাে।*

উত্তর: ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অপরিসীম। তাই ভারতকে মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয়। এর প্রভাবগুলি নীচে আলােচনা করা হল।

(a) আর্দ্র গ্রীষ্মকাল ও শুষ্ক শীতকাল: ভারতে গ্রীষ্মকালে আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌমুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং শীতকাল উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুষ্ক থাকে।

(b) ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের ওপর নির্ভর করে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত প্রশ্ন চারটি ঋতু চক্রাকারে আবর্তিত হয়।

(C) বৃষ্টিপাত: মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে 90% বৃষ্টিপাত হয়।

(d) উষ্ণতা: দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনে গ্রীষ্মকালের শেষে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে উষ্ণতা কিছুটা হ্রাস করে এবং উত্তপূর্ব মৌসুমি বায়ুর ফলে শীতের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

(e) প্রাকৃতিক দুর্যোগ: মৌসুমি বায়ুর অনিয়মিত ও অনিশ্চয়তার জন্য অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির কারণে কোথাও বন্যা আবার কোথাও খরা সৃষ্টি হয়।

(f) ঘূর্ণাবাত সৃষ্টি: শরৎকালে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাগমনের সময় এবং সমুদ্রবায়ুর সংঘর্ষে বঙ্গোপসাগরে বা আরবসাগরে ঘূর্ণবাত সৃষ্টি হয়।

(g) বৃষ্টিপাতের অসমবন্টন: মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পশ্চিম উপকূল, উত্তর পূর্ব ভারত, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি স্থানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে। অপরদিকে রাজস্থানের মরু অঞ্চল ও পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্বটালে বৃষ্টিচ্ছায় অল স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ কম। তাই মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ভারতের জলবায়ুতে বৃষ্টিপাতে অসমবণ্টন লক্ষ করা যায়।



শনিবার, ১ মে, ২০২১

মাধ্যমিক ইতিহাস - তৃতীয় অধ্যায়ের বড়ো প্রশ্নোত্তর

 ১) সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণগুলি আলোচনা করো।  ৪ 

উত্তর:-  

ভূমিকা:  সাঁওতালরা ছিল শান্তিপ্রিয়, সরল প্রকৃতির এবং কঠোর পরিশ্রমী আদিবাসী সম্প্রদায়। উনিশ শতকের প্রথম দিকে তারা ছোটনাগপুর অঞ্চল থেকে বিতাড়িত হয়ে 'দামিন-ই-কোহ' নামে রাজমহল পাহাড়ের প্রান্তবর্তী সমতল অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে এবং আবাদযোগ্য জমি গড়ে তোলে, কিন্তু ঔপনিবেশিক অরণ্য আইন তাদের শান্তি ও পরিশ্রমের মূলে আঘাত করলে তারা বিদ্রোহ শুরু করে। সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণগুলি হল-- 

(১) অতিরিক্ত খাজনা:  সাঁওতালরা প্রচুর পরিশ্রমের দ্বারা জঙ্গলাকীর্ণ পাথরে জমিকে চাষের উপযোগী করে তুলেছিল, তার ওপর দিনের পর দিন খাজনার হার বাড়িয়ে জমিদার ও মহাজনরা তা দখল করে নেয়; খাজনা দিতে না পেরে অনেক সময় জমিজমা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। 

(২) নগদ খাজনা আদায়: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা সাঁওতালদের কাছে ফসলের পরিবর্তে রাজস্ব নগদ টাকা আদায় করার রীতি চালু করলে এবং জমির ওপর উপশুল্ক চাপিয়ে দিলে তাদের অবস্থা সঙ্কটজনক হয়ে পড়ে। 

(৩) ধর্মান্তরকরণ: খ্রিস্টান মিশনারীরা জোর করে সাঁওতালদের খৃষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালালে সাঁওতালদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। 

(৪) মর্যাদায় আঘাত: রেললাইন স্থাপনের কাজে ইউরোপীয় কর্মচারীরা সাঁওতালদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার করত এবং মহিলাদের সম্মান নষ্ট করত। 

উপসংহার:  উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সংঘটিত আদিবাসী বিদ্রোহগুলির মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও রক্তক্ষয়ী ১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দে সিধু-কানু-চাঁদ-ভৈরব এর নেতৃত্বে সংঘটিত সাঁওতাল বিদ্রোহ। 


২) মুন্ডা বিদ্রোহের কারণ গুলি আলোচনা করো।   ৪ 

উত্তর:-  

ভূমিকা:  ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪শে ডিসেম্বর বীরসা মুন্ডার নেতৃত্বে অন্যতম উপজাতি সম্প্রদায় মুন্ডারা এক তীব্র বিদ্রোহ শুরু করে। এই বিদ্রোহের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ ছিল-- 

(১) ঐতিহ্যে আঘাত:  মুন্ডারা যে সমস্ত অঞ্চলে বাস করত সেখানে তাদের প্রাচীন উপজাতি আইন ও প্রথা প্রচলিত ছিল, ব্রিটিশরা সেখানে পুরোনো আইন বাতিল করে নতুন শাসন ব্যবস্থা চালু করলে সেই ঐতিহ্য তাদের আঘাত লাগে। 

(২) খুৎকাঠি প্রথা অবসান:  মুন্ডারা খুৎকাঠি প্রথা অনুসারে যৌথভাবে জমির মালিকানা ভোগ করতো কিন্তু ব্রিটিশরা এর অবসান ঘটিয়ে জমির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা বলবৎ করে। 

(৩) অত্যধিক করের বোঝা:  মুন্ডাদের ওপর বিভিন্ন রকম করের বোঝা ব্রিটিশ সরকার ও জমিদাররা চাপিয়ে দেয় এবং তা অনাদায়ে অত্যাচার চালায়। 

(৪) শ্রমদানে বাধ্য করা:  ব্রিটিশ সরকার ও দেশীয় জমিদারেরা মুন্ডাদের বিনা বেতনে বেগার শ্রমদানে বাধ্য করতো; আবার কখনো লোভ দেখিয়ে তাদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কাজে বহাল করত এবং তাদের উপর অত্যাচার করত। 

উপসংহার:  ভারতবর্ষে যে কোন উপজাতি সম্প্রদায়কে তৎকালীন খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা নানা উপায়ে খৃষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করত, মুন্ডারা তার ব্যতিক্রম ছিল না। এর ফলে তাদের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিদ্রোহের কারণ হয়ে ওঠে। 


৩) বারাসাত বিদ্রোহের গুরুত্ব আলোচনা করো।   ৪ 

উত্তর:- 

ভূমিকা:  তিতুমীরের নেতৃত্বে বাংলার মুসলমান কৃষক সম্প্রদায় ব্রিটিশ সরকার ও দেশীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এই বিদ্রোহ শুধুমাত্র কৃষক বিদ্রোহ ছিল না, এর এক ধর্মীয় চরিত্রও ছিল যথেষ্ট স্পষ্ট। 

কৃষ্ণদেব রায়ের বিরোধিতা:  জমিদার কৃষ্ণদেব রায় তিতুমীর ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে ফরমান জারি করলে তিতুমীরের অনুগামীদের সাথে জমিদার বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়। তিতুমীর জমিদারদের বিরুদ্ধে বিশেষত হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে তাঁর অনুগামীদের ঐক্যবদ্ধ করেন। 

ব্রিটিশদের বিরোধিতা:  দেশীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ শুরু হলেও যেহেতু দেশীয় জমিদাররা ব্রিটিশ সরকারের সহায়তা লাভ করত সেহেতু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্রিটিশ বিরোধী হয়ে ওঠে। 

কৃষক সংগ্রাম:  বারাসাত বিদ্রোহ কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করতে সাহায্য করে। ওয়াহাবি আন্দোলনের ধর্মীয় রূপ এই আন্দোলনে স্পষ্ট ছিল; কারণ, মুসলমান কৃষক সম্প্রদায় ছিল এই আন্দোলনের মূল শক্তি। তিতুমীরের নেতৃত্বে দরিদ্র মুসলমান কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সংগ্রামে অংশ নেয়। ড: বিনয় ভূষণ চৌধুরীর মতে, "এই বিদ্রোহ ধর্মীয় আদর্শে অনুপ্রাণিত এক কৃষক বিদ্রোহ।" 





মাধ্যমিক বাংলা, অধ্যায়ভিত্তিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

  জ্ঞানচক্ষু  ১) "রত্নের মূল্য জহুরির কাছে" - 'রত্ন' ও 'জহুরী' কে? জহুরি রত্নের মূল্যায়ন কেমনভাবে করেছিলেন? ৩  ২)...