রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২

দ্বাদশ বাংলা, 'আমি দেখি' কবিতার বড়ো প্রশ্নোত্তর

১) "বহুদিন জঙ্গলে কাটেনি দিন" - কেন কবি এ কথা বলেছেন? এই অভাব পূরণের জন্য কবি কী চেয়েছেন? ৩+২ 
  
উত্তর:- শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় শহরের কৃত্রিম পরিবেশে হাঁপিয়ে উঠেছেন কবি। তাই তিনি চেয়েছেন এর থেকে মুক্ত হতে। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কাছে জঙ্গল হল সেই নিভৃত পর্যটন যা মনকে ভালো রাখে। অথচ সেই জঙ্গলের সঙ্গেই ঘটে গেছে কবির দীর্ঘ বিচ্ছেদ-  
                "বহুদিন শহরেই আছি"

        নাগরিক জীবনযাপনের প্রাত্যহিক ক্লান্তি, অবসাদ, রিক্ততা, বেদনা, জীর্ণতা, হতাশায় আহত কবিমন মুক্তির খোঁজে বারবার ফিরে যেতে চাই শ্যামলিমার কাছে- "বহুদিন জঙ্গলে যায়নি"। কবি দেখেন "শহরজুড়ে সবুজের অনটন ঘটে..."। নগরায়ন তার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে প্রতিনিয়ত সবুজকে গ্রাস করে চলেছে- "শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায়"। এই অভাব প্রতিফলিত হয় কবি মনে, তাই জঙ্গল জীবনের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য তীব্র আক্ষেপ প্রকাশিত হয়েছে। 

     •• এই অভাব পূরণের জন্যই কবি চেয়েছেন তার বাগানে গাছ এনে বসানো হোক। তাঁর চোখ চায় সবুজ, দেহ চায় সবুজ। ঘন সান্নিধ্যে সবুজের অভিযান হোক নিজস্ব বাগানে। 
            "তাই বলি, গাছ তুলে আনো 
             বাগানে বসাও আমি দেখি 
             চোখ তো সবুজ চায়! 
             দেহ চায় সবুজ বাগান
             গাছ আনো, বাগানে বসাও।" 
       
       প্রকৃতির বিপুল অঙ্গনে যেতে না পারার বেদনা অন্তত মানসিক শান্তির নির্ঝর হয়ে বাগানে ঝরুক। এই পৃথিবী হয়ে উঠুক সবুজে সবুজ। তাই কবির আর্তি- "গাছ আনো, বাগানে বসাও।" 


২) "আরোগ্যের জন্য ওই সবুজের ভীষণ দরকার" - কে, কোথায় একথা বলেছেন? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার কোন্ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে? ১+৪ 

উত্তর:- বাংলা আধুনিক কবিতার বিশিষ্ট কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচিত 'অঙ্গুরী তোর হিরণ্য জল' কাব্যের 'আমি দেখি' কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় নিজেই প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন। 

     •• শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় কবি প্রকৃতপক্ষে বৃক্ষরাজির বন্দনা করেছেন। গাছ তুলে নিয়ে বাগানে গাছ বসানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কবিতার একেবারে শুরুতেই কবি জানিয়েছেন-  
         "আমার দরকার শুধু কাজ দেখা 
         গাছ দেখে যাওয়া 
         গাছের সবুজটুকু শরীরে দরকার" 
  
      "জঙ্গলের মধ্যে ঘর ঈশ্বর গড়েন" - কবি এই আজন্মলালিত বিশ্বাস নিয়ে জঙ্গলে ছুটে যান, শান্তি পান বৃক্ষের সুনিবিড় সাহচর্য্যে। কিন্তু শহরের অসুখ জর্জরিত কবি দীর্ঘকাল অরন্য থেকে নানা কাজে-অকাজে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও তিনি মূলত সবুজের পিয়াসী। রোগাক্রান্ত নগর কবির ভালো লাগেনা। নগরজীবনের প্রতিদিন মানবিকতার মৃত্যু ঘটে। কবি তাঁর বেদনাকে বুকে চেপে রেখে জঙ্গলের সবুজ গভীরতায় ডুবে যেতে চান। প্রকৃতির সেই সান্নিধ্য পাওয়ার অবসর না পেলে রিক্ততার মাঝেই কবির আহ্বান-  
             "গাছ আনো, বাগানে বসাও 
             আমি দেখি।।"

      শরীর ও মনের আরোগ্যের জন্য তাঁর কাজ গাছ দেখা আর গাছের সবুজ ভীষণ দরকার। শহরে সবুজের চিহ্ন নেই, এখানে কেবলই ধূসরতা। "শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায় 
   সবুজের অনটন ঘটে..."

      সবুজের প্রতি মানুষের চিরন্তন চাহিদাকে কবি এভাবেই ব্যক্ত করেছেন। 'ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড়' এ কবি বসতি গড়তে চান। কবির চোখে সবুজ আর সবুজ বাগানের সমারোহ; কারণ কবি জানেন, নগরের ধোয়া ধূলিধূসরিত পৃথিবীর জন্যই বৃক্ষের সবুজ স্নিগ্ধতা একান্ত প্রয়োজন। রক্তে রাঙানো হৃদয়হীন, প্রাণহীন এই পৃথিবীর একমাত্র আরোগ্যের পথনির্দেশিকা- 'সবুজের অভিযান'। মৃতপ্রায় নাগরিক জীবন সবুজের সংস্পর্শে নির্মল হয়ে উঠবে- নতুনরপে প্রকাশিত হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মাধ্যমিক বাংলা, অধ্যায়ভিত্তিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

  জ্ঞানচক্ষু  ১) "রত্নের মূল্য জহুরির কাছে" - 'রত্ন' ও 'জহুরী' কে? জহুরি রত্নের মূল্যায়ন কেমনভাবে করেছিলেন? ৩  ২)...