শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১

মাধ্যমিক ভূগোল - পঞ্চম অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর

১) ভারতের প্রমাণ সময়রেখা কোন কোন রাজ্যের উপর দিয়ে গিয়েছে?  ২

উত্তর:-  ভারতের প্রমাণ সময় রেখার মান হল ৮২৹৩০' পূর্ব দ্রাঘিমা। এই রেখাটি উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়, উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের উপর দিয়ে গেছে। 

২) কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের কোন কোন রাজ্যের উপর দিয়ে গেছে?  ২

উত্তর:-  কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়, ঝারখণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্যের উপর দিয়ে গেছে। মোট আটটি অঙ্গ রাজ্যের উপর দিয়ে এই রেখা অগ্রসর হয়েছে।

৩) কারেওরা কী এবং এটি কী জন্য বিখ্যাত?  ২

উত্তর:-  কাশ্মীর উপত্যকায় নদী ও হিমবাহের মিলিত সঞ্চয় কার্যের ফলে হ্রদ ভরাট হয়ে উচুঁ মঞ্চের ন‍্যায় যে সমভূমি গঠন করেছে, তাকে কারেওরা বলে। এই ভূমিরূপের উপর দিয়ে ঝিলাম নদী প্রবাহিত হয়েছে। এখানে জাফরান, বাদাম, আখরোট প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে চাষ করা হয় বলে এটি বিখ্যাত। 

৪) পূর্বাচল বলতে কী বোঝো?  ২ 

উত্তর:-  উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্বত শ্রেণীকে একসঙ্গে বলা হয় পূর্বাচল। হিমালয়ের দক্ষিণের শাখা বলে পরিচিত পূর্বাচলের পর্বতশ্রেণীসমূহের উচ্চতা গড়ে ১৮০০ মিটার। 

৫) মালনাদ কাকে বলে?  ২

উত্তর:-  কানাড়ি ভাষায় 'মালনাদ' কথাটির অর্থ পাহাড়ি দেশ। দাক্ষিণাত্য মালভূমির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত কর্ণাটক মালভূমি গ্রানাইট। ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত এখানকার বাবাবুদান পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মুলানগিরি‌। 

৬) ময়দান কী?  ২

উত্তর:-  কর্ণাটক মালভূমির পূর্ব দিকে নিচু তরঙ্গায়িত মালভূমি 'ময়দান' নামে পরিচিত। এটি গ্রানাইট ও নিস শিলা দ্বারা গঠিত। এখানকার মাটির রং লাল। 

৭) তরাই কাকে বলে?  ২

উত্তর:-  পর্বতের পাদদেশে আর্দ্র ভূমিকে তরাই বলে। তরাই এমন এক নিম্নভূমি অঞ্চল যা ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে। উচ্চতা 100 থেকে 150 মিটার এবং হিমালয়ের পাদদেশ থেকে দক্ষিণে 40 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল। 

৮) কয়াল বা লেগুন কী?  ২

উত্তর:-  মালাবার উপকূলে পূর্বদেশীয় বাঁধের পিছনের দিকে অর্ধচন্দ্রাকৃতির আবদ্ধ লবণাক্ত জলের হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় কয়াল বা লেগুন বলে। যেমন- ভেম্বানাদ ও অষ্টমুদি কয়াল। 

৯) খাদার ও ভাঙ্গড় কী?  ২

উত্তর:-  নদীর ধারে নবীন পলিগঠিত সমভূমিকে খাদার এবং নদী উপত্যকা থেকে দূরবর্তী স্থানে প্রাচীন পলিগঠিত সমভূমিকে ভাঙ্গর বলে। 

১০) দুন কী?  ২ 

উত্তর:-  শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝের উপত্যকায় দুন বলে। এই উপত্যকাগুলি সংকীর্ণ ও সমতল হয়। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন উপত্যকা প্রায় 75 কিমি দীর্ঘ এবং 20 কিমি প্রশস্ত।


১) পাত সংস্থান তত্ত্বের বিচারে হিমালয় পর্বতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।  ৫ 

উত্তর:-  বিজ্ঞানী উইলসন সর্বপ্রথম 'পাত' বা 'প্লেট' শব্দটি ব্যবহার করেন। পরবর্তী সময়ে  1968 খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী পিচো পাতসংস্থান তত্ত্বটিকে সরলীকরণ করেন। 

তত্ত্বের মূলকথা: 

(১) ভূত্বক কয়েকটি বিচ্ছিন্ন শিলাপাতের সমষ্টি। 

(২) এই শিলাপাতগুলির মধ্যে 7টি বড়ো পাত, 20টি মাঝারি ও বহু ছোট ছোট পাত রয়েছে। বড়ো পাতগুলি হল- উত্তর আমেরিকা পাত, দক্ষিণ আমেরিকা পাত, ইউরেশীয় পাত, আফ্রিকা পাত, প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত, আন্টার্কটিকা ও ভারতীয় পাত। 

(৩) পাতগুলি গুরুমন্ডলে উত্তপ্ত ও তরল অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। 

(৪) অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার ম্যানমার পরিচলন স্রোতের প্রভাবে পাতগুলি গতিশীল হয়। 

(৫) পাতগুলির প্রান্তভাগকে পাতসীমান্ত বলা হয়। তিন ধরনের পাত সীমান্ত গড়ে ওঠে, যেমন- অভিসারী বা পরস্পর অভিমুখী পাত সীমান্ত, প্রতিসারী পাত সীমান্ত ও নিরপেক্ষ পাত সীমান্ত। 

ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি: 

ভূবিজ্ঞানীদের মতে, দুটি মহাদেশীয় পাতের অভিসারী পাত সীমান্তে অবস্থিত অগভীর মহিখাতে সঞ্চিত পলি পাতের চাপে পড়ে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়। 

উদাহরণ:  ভারতীয় পাত এবং এশীয় পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হওয়ার ফলে হালকা এশীয় পাতের তলায় ভারী ভারতীয় পাতটি বছরে 5.4 সেমি হারে প্রবেশ করছে, ফলে হিমালয় পর্বতের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 



২) হিমালয় পর্বত সৃষ্টি সম্পর্কে মহীখাত তত্ত্ব আলোচনা করো।   ৫ 

উত্তর:-  ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি সম্বন্ধে একাধিক তত্ত্ব প্রচলিত আছে। এদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য তত্ত্ব হলো-- 

■ মহীখাত তত্ত্ব:  

(১) মহীখাত হলো ভূত্বকের এক দীর্ঘ বিস্তৃত অবনমিত স্থান। সমুদ্র্রতলে নিমজ্জিত এই স্থানে বহুদিন ধরে আশেপাশের উঁচু জায়গা থেকে পলি জমা হতে থাকে। 

(২) পলির ভারে মহীখাতটির তলদেশ ধীরে ধীরে বসতে থাকে। অবনমনের জন্য মহিখাতটির দুদিক আস্তে আস্তে পরস্পরের কাছাকাছি চলে আসে, ফলে মহীখাতটি সরু ও গভীর হতে থাকে। 

(৩) এরপর মহীখাতের মধ্যে আরও বেশি পলি সঞ্চিত হওয়ার উপক্রম হলে গিরিজনি ক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। অবশেষে, মহীখাতের দুপাশে চাপ বাড়ার জন্য মহীখাতের মধ্যে সঞ্চিত পলিতে ভাঁজের সৃষ্টি হয়। এই ভাঁজ ক্রমশ উঁচু হতে থাকে। 



■ উদাহরণ:  আজ যেখানে হিমালয়়় পর্বত দাঁড়িয়ে আছে সেখানে টেথিস নামে এক গভীর সমুদ্র ছিল। এই সাগরের উত্তর দিকে আঙ্গারাল্যান্ড ও দক্ষিণ দিকে গনডোয়ানাল্যান্ড নামে দুই প্রাচীন ভূখণ্ড। এই দুই ভূখন্ড থেকে পলি এসে ওই অগভীর সমুদ্রের জমা হয়। অবনমনের শেষ পর্যায়ে গিরিজনি ক্রিয়া শুরুু হলে উক্ত দুই ভূখণ্ড পরস্পরের কাছাকাছি চলে আসে। তারফলে টেথিসে যে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয় তাতে অবশেষে হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয়।


সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১

দ্বাদশ বাংলা - গানের ধারায় অতুলপ্রসাদ সেনের অবদান

১) সংগীতে অতুলপ্রসাদ সেনের অবদান আলোচনা করো।   ৫

🔵উনিশ শতকের শেষ থেকে বিশ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রবীন্দ্র প্রতিভার প্রভাববলয়ের মধ্যে বিচরণ করেও যাঁরা বাংলা কাব্যগীতি রচনায় নিজেদের বিশেষত্ব প্রকাশ করতে সক্ষম হন, অতুল প্রসাদ সেন (১৮৭১ - ১৯৩৪) ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। সমকালীন গীতিকারদের তুলনায় তাঁর সংগীত সংখ্যা সীমিত হলেও (206) তাঁর অনেক গানে মৌলিকত্ব পরিলক্ষিত হয়।

         🔵অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানগুলির মূল উপজীব্য বিষয় ছিল স্বদেশপ্রেম , ভক্তি ও প্রেম। তাঁর জীবনের দুঃখ ও যন্ত্রণা তাঁর গানের প্রধান অবলম্বন। তাই তাঁর অধিকাংশ গানই হয়ে উঠেছে করুণ-রস প্রধান। তাঁর সমস্ত গান সংকলিত যে বইয়ে তার নাম 'গীতিগুঞ্জ' (1931)।

            🔵বাঙালি কবি অতুলপ্রসাদ সেন সমকালীন গীতিকারদের মত ধ্রুপদী, খেয়ালি বা টপ্পা ইত্যাদি গানের আদর্শ গ্রহণ করেননি, পরিবর্তে এক ভিন্ন সুরভঙ্গি আমদানি করেছেন। তবে সাধারণভাবে দেখা যায়, তিনি গানের সুরের কার্য নির্মাণে মুখ্যত ঠুংরিকেই আশ্রয় করেছেন।

              🔵অতুল প্রসাদ প্রধানত সুরকার--- এটি মোটামুটি সর্বজনবিদিত। কিন্তু সুরসাধক দিলীপকুমার রায়ের মতে, তাঁর গানের সুর অপেক্ষা বাণী(কথা)-র প্রভাব বেশী। সমালোচকদের মতে, তাঁর গানে স্বদেশ ও মানবপ্রেমের মূলে আছে ঈশ্বরপ্রেম। রবীন্দ্রনাথ ও রজনীকান্ত ছাড়া আর কোনো কবির গানে এইরকম বৈচিত্র্যময় দৃষ্টান্ত নেই। যেমন---

1. "আমায় রাখতে যদি আপন ঘরে / বিশ্ব ঘরে পেতাম না ঠাই।"

2. "নীচুর কাছে নীচু হতে শিখলি না রে মন্ /তুই সুখী জনের করিস্ পূজা দুঃখী জনের অযতন।" 

            🔵অতুলপ্রসাদ সেনের কয়টি বিখ্যাত গান হল -- 'মিছে তুই ভাবিস মন', 'সবারে বাস রে ভালো', 'নিদ্ নাহি আঁখিপাতে', 'একা মোর গানের তরী' ইত্যাদি। তাঁর যে সকল প্রেমের গানে বিরহ বেদনা রয়েছে তা হল--- 'বধু এমন বাদলে তুমি কোথা', 'কে আবার বাজায় বাঁশি' ইত্যাদি এখনও সমান আদরণীয়। 

               🔵তাঁর রচিত দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে প্রসিদ্ধ--- 'উঠ গো ভারত লক্ষ্মী', 'বল বল সবে', 'হও ধরমেতে ধীর' ইত্যাদি। এছাড়াও 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা' গানটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। বাংলা সঙ্গীতের জগতে এক স্বতন্ত্র আসনে প্রতিষ্ঠিত অতুলপ্রসাদ সেন সঙ্গীতপ্রিয় বাঙালির মনের মনিকোঠায় এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।।


মাধ্যমিক বাংলা, অধ্যায়ভিত্তিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

  জ্ঞানচক্ষু  ১) "রত্নের মূল্য জহুরির কাছে" - 'রত্ন' ও 'জহুরী' কে? জহুরি রত্নের মূল্যায়ন কেমনভাবে করেছিলেন? ৩  ২)...