রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২

দ্বাদশ ইতিহাস, প্রথম অধ্যায়ের 100+ Short

ইতিহাস প্রথম অধ্যায়ের Short, দ্বাদশ শ্রেণি

১) ইতিহাস হল অতীত-
ক)কাহিনী খ) স্মৃতি গ) চেতনা ঘ) ভাবনা
২) মৌখিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো-
ক) জনশ্রুতি খ)বক্তৃতা গ)কথোপকথন ঘ)শ্রুতিনাটক
৩) অতিকথা বলতে বোঝায়-
ক) অতীত ইতিহাসের সূত্র খ) ইতিহাস গ) প্রাচীন সাহিত্য ঘ) অবাস্তব কাহিনী
৪) "ইতিহাস হল বর্তমান ও অতীতের মধ্যে অন্তহীন সংলাপ" - উক্তিটির প্রবক্তা-
ক)জ্যাকব ক্রিম খ)লোড রেগলান গ) এ ইচ কার ঘ) কল ফানসান
৫) জনশ্রুতিকে কয়ভাগে ভাগ করা যায় ?
ক)দুই ভাগ খ) তিন ভাগে গ)চার ভাগে ঘ) পাঁচ ভাগে
৬) পৌরাণিক কাহিনী বা থিমস উল্লেখযোগ্য একটি বৈশিষ্ট্য হলো-
ক)এগুলি রাজনৈতিক কেন্দ্রিক, খ)এইগুলি বাস্তবধর্মী, গ)এগুলো ইতিহাস অঙ্গ, ঘ) এগুলি ধর্ম কাহিনী ভিত্তিক
৭) গ্রন্থের রচয়িতা হলেন ?
ক) জে. এফ. বিয়ারলেইন খ)জেকব গ্রিম গ)জে.বি. ওয়েবস্টার ঘ) এ. লং
৮) ইতিহাসমালা রচনা করেন-
ক)জেকব গ্রিম খ)উইল হেম গ্রিম গ)উইলিয়াম কেরি ঘ) ডি কে মাকেঞ্জি
৯) মহাকবি কালিদাসের কাহিনী রয়েছে. ?
ক) পুরাণের খ) রোমান পুরাণে গ)হিন্দু পুরাণে ঘ) বাইবেলে
১০) প্রাচীন ভারতের অন্যতম এক কিংবদন্তি চরিত্র হলো হলো-
ক) সমুদ্র গুপ্ত খ)অশোক গ) রামচন্দ্র ঘ)হর্ষবর্ধন
১১) ঈশ্বরের মতোই সীমাহীন শক্তির অধিকারী হলেন. ?
ক)পরীকথার নায়িকা, খ) কিংবদন্তির নায়ক, গ) নীতিকথার মূলচরিত্র, ঘ) পশু কথার কেন্দ্রীয় চরিত্র,
১২) হিন্দু ধর্মে দেবী দুর্গা হলেন একজন-
ক) রূপকথার চরিত্র খ) কিংবদন্তি চরিত্র গ) পৌরাণিক চরিত্র ঘ) লোক কথার চরিত্র
১৩) পুরাণ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়. ?
ক) সাইকোলজি খ) সোসিওলজি গ) মিথোলজি ঘ) ফিজিওলজি
১৪) লোক কথার মূল চরিত্র মানুষ ?
ক) রূপকথার খ) পরি কথার গ) কিংবদন্তির ঘ) পুরাণ কাহিনীর
১৫) লোক গাথা প্রচারের মাধ্যমে যে টিনয় ?
ক) গল্প- খ)কবিতা- গ)গান ঘ) যুদ্ধ
১৬) ইতিহাস ও লোক কাহিনী বিষয়বস্তু হল.- ক) মানুষ খ) সাহিত্য গ) চিন্তা ঘ) প্রেম
১৭) যে লোক কথার শেষে স্মৃতি নীতি বা উপদেষ্টা থাকে ,তাকে বলে ?
ক) রূপকথার খ) পরি গ) নীতিকথা ঘ) পশু কথা
১৮) হিস্ট্রি অফ হিন্দুস্তান গ্রন্থটির রচনা করেন ?
ক) জেমস প্রিন্সেপ খ) আলেকজান্ডার ডাও গ) ভিনসেন্ট স্মিথ ঘ) মাকমিলান
১৯) আরব্য রজনী হলো একটি-
ক) বীর গাথা খ) স্মৃতিকথা গ) লোককথা ঘ) নীতিগল্প
২০) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র এর রচয়িতা হলেন ?
ক) রামমোহন রায়, খ)ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ঘ) রামরাম বসু
২১) দক্ষিণারঞ্জন বসু ছেড়ে আসা গ্রাম হল একটি ?
ক) লোককথা খ) কিংবদন্তি গ) স্মৃতিকথা ঘ) পৌরাণিক কাহিনী
২২) বিজ্ঞান জাদুঘরের নিদর্শন মিউজিয়াম অব সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিস অবস্থিত ?
ক) প্যারিসে খ) শিকাগোতে গ) সিঙ্গাপুরের ঘ) লন্ডনে
২৩) ভূত তাত্ত্বিক জাদুঘরের নিদর্শন শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে অবস্থিত ভারতের ?
ক) উড়িষ্যায় খ) বিহারে গ) পশ্চিমবঙ্গে ঘ) গুজরাটি
২৪) বিশ্বের সর্ব প্রাচীন মিউজিয়াম হলো ?
ক) ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম খ) ব্রিটিশ মিউজিয়াম গ) প্যারিসের লুভর মিউজিয়াম ঘ) গ্রন্থাগার
২৫) হাজারদুয়ারি জাদুঘর একটি ?
ক) ঐতিহাসিক জাদুঘর , খ) শিল্প জাদুঘর, গ) গ্রন্থাগার দিবস, ঘ) বিশ্বকোষ জাদুঘর
26. “সব ইতিহাস হলো সমকালীন ইতিহাস”—এই উক্তিটি কার ?
(a) ক্লোচের (b) র্যাঙ্কের (c) র্যালের (d) ই.এইচ. কার-এর
27."What is History’-এর লেখক হলেন-
(a) ই.এইচ. কার (b) স্যামুয়েল © উইলিয়াম কেরি (d) ঐতিহাসিক রিড
28. ভারতীয় ইতিহাসের জাতীয়তাবাদী ব্যাখ্যাকার হলেন—
(a) রমেশচন্দ্র মজুমদার (b) জেমস মিল (c) রামশরণ শর্মা (d) রণজিৎ গহ
29.ভারত হলো বিশ্বসভ্যতার লীলাভূমি—এই উক্তিটি কার?
(a) এলটন (b) কার (c) ব্ৰদেল (d) ভলতেয়ার
30.পুরাণ বিষয়ক তত্ত্বকে বলা হয়—
(a) জাদুবিদ্যা (b) প্রেততত্ত্ব (c) পুরাণতত্ত্ব (d) কোনোটিই নয়
31.গ্রিসের একটি কিংবদন্তি চরিত্র ছিল—
(a) রবিন হুড (b) নোয়া (c) হারকিউলিস (d) রাবণ
32.জাদুঘরের প্রথম উৎপত্তি হয়—
(a) ইংল্যান্ডে (b) জার্মানিতে (c) ফ্রান্সে (d) গ্রিসে
33. একটি প্রাচীন জাদুঘরের উদাহরণ হলো
(a) এননিগালডি নান্না (b) ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম (c) ভ্যাটিকান মিউজিয়াম (d) লুভর মিউজিয়াম
34. জাতীয় প্রতিকৃতি প্রদর্শশালা অবস্থিত
(a) লন্ডনে (b) প্যারিসে (c) শিকাগো (d) ফ্লোরেন্সে
35. ‘অক্সফোর্ড হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি রচনা করেন
(a) ভিনসেন্ট স্মিথ (b) ই. এইচ কার (c) জন স্টুয়ার্ট মিল (d) কেউ নন
36 আলবেরুনির লেখা গ্রন্থটির নাম—
(a) রাজতরঙ্গিণী (b) হর্ষচরিত (c) তহকিক-ই-হিন্দ (d) কোনোটিই নয়
37. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনস্মৃতি’ হলো একটি—
(a) লোককথা (b) কিংবদন্তি (c) স্মৃতিকথা (d) কাব্যগ্রন্থ
38. ‘হিস্ট্রি অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি রচনা করেন
(a) সুমিত সরকার (b) জেমস মিল (c) জন স্টুয়ার্ট মিল (d) জ্যাকব গ্রিম
39.'ইলিয়ড’ ও ‘ওডিসি’ মহাকাব্য রচনা করেছিলেন—
(a) ব্যাস (b) হোমার (c) বাল্মিকী (d) হেরোডোটাস
40.স্মৃতিকথা হলো—
(a) লোককথা (b) জনশ্রুতি (c) মৌখিক উপাদান (d) কল্পকাহিনি
41. ইতিহাসের জনক’ বলা হয়—
(a) থুকিডিডিসকে (b) রুশোকে (c) প্লিনিকে (d) হেরোডোটাসকে
42. কোন লোককথার মূল চরিত্র মানুষ?
(a) রূপকথার (b) পরিকথার (c) কিংবদন্তির (d) নীতিকথা
43. ইতিহাসমালা’ রচনা করেছিলেন—
(a) হেরোডোটাস (b) সন্ধ্যাকর নন্দী (c) উইলিয়াম কেরি (d) কলহন
44. একজন মানবতাবাদী ব্রিটিশ ঐতিহাসিক হলেন—
(a) উইলিয়াম হান্টার (b) উইলিয়ম জোন্স (c) জেমস মিল (d) ম্যাক্সমুলার
45. কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের প্রতিষ্ঠা হয়—
(a) ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে (b) ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে (c) ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে (d) ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে
46. ভারতে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা হয়—
(a) ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে (b) ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে (c) ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে (d) ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে
47.ভারতের বৃহত্তম মিউজিয়ামটি হলো
(a) দ্য ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম (b) দিল্লি মিউজিয়াম (c) ন্যাশনাল মিউজিয়াম, মুম্বই (d) বিড়লা মিউজিয়াম
48‘লুভর মিউজিয়াম অবস্থিত ছিল—
(a) লন্ডনে (b) প্যারিসে (c) ফ্লোরেন্সে (d) কলকাতায়
49. ‘কেম্ব্রিজ হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া’ গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন—
(a) এলফিনস্টোন (b) জন ম্যালকম (c) ডডওয়েল (d) ম্যালেসন
50. দক্ষিণারঞ্জন বসুর ‘ছেড়ে আসা গ্রাম’ হলো একটি
(a) লোককথা (b) কিংবদন্তি (c) স্মৃতিকথা (d) পৌরাণিক কাহিনি
51) জনশ্রুতির কাহিনিগুলি সংগ্রহের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়-
আমেরিকায়/জার্মানিতে/ইংল্যান্ডে/ভারতে
52) 'টম থাম্ব ও দৈত্যের কাহিনি' অবলম্বনে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় রচনা করেন --
নালক/বুড়ো আংলা/ক্ষীরের পুতুল/রাজকাহিনি 


1. 'Oxford history of India' (অক্সফোর্ড হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া) গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
2. ‘ইতিহাস মালা’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
 :- 
3. ‘হিস্ট্রি অফ ব্রিটিশ ইন্ডিয়া’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
:- 
4. ‘ইলিয়াস ও ওডিসি’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন? :- 
5. ‘অলবিরনি’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
:- 
6. ‘পঞ্চতন্ত্র’ কার রচনা?
:- 
7.’বুড়ো আংলা’ কার লেখা ?
:-  
8. ‘টম থাম্ব ও দ্বৈতের’ কাহিনী কে প্রকাশ করেন?
:- 
9. ‘ছেড়ে আসা গ্রাম’ স্মৃতি কথাটি কার লেখা?
:- 
10. ‘The New Nature Of History’ গ্রন্থটি কার লেখা?
:-
11. ‘রাজাবলি’ গ্রন্থটি কার লেখা?
:- 
12.চৈনিক ইতিহাস চর্চার জনক কাকে বলা হয়?
:- 
13. বৈজ্ঞানিক ইতিহাস চর্চার জনক কাকে বলা হয়?
:- 
14. ইতিহাস দর্শনের জনক কাকে বলা হয়? :- 
15. ‘পুরান’ শব্দের অর্থ কি? :-
16.’প্যারালাল মিথ’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
:- 
17. স্মৃতিকথা কোন উপাদানের অন্তর্ভুক্ত?
:- 
18. পুরান বিষয়ক তত্ত্বকে কি বলা হয়?
:-
19. কলহল রচিত কাশ্মিরের ইতিবৃত্ত জানা যায় কোন গ্রন্থ থেকে?
:- 
20. যাদুঘরের উৎপত্তি প্রথম কোন দেশে হয়?
:-
21. লু-ভর মিউজিয়াম কোথায় অবস্থিত?
:- 
22. একটি প্রাচীন জাদুঘরের উদাহরণ দাও?
:- 
23. ব্রিটিশ মিউজিয়াম কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
:- 
24. ভারতবর্ষের একজন কিংবদন্তির নাম লেখ?
 :- 
25. র‍্যাঙ্কে কে ছিলেন?
:- 
26. ‘ভারত হলো বিশ্ব সভ্যতার লীলাভূমি’ কে বলেছেন?
:-
27.হিস্ট্রি কথাটি কোথা থেকে এসেছে? এর অর্থ কি?
:-
28. ইতিহাস তত্ত্ব কী?
:- 

29. লোককথা কী?
:- 

30. এশিয়াটিক সোসাইটি কে কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
:- 
31. পৌরাণি কাহিনী কি ?
:- 

32.দুজন জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকের নাম লেখ?
:-
33. দুজন মাক্সবাদী ঐতিহাসিক এর নাম লেখ?
:- 
34. গ্রিসের একজন কিংবদন্তির নাম লেখ?
:- 
35. ভারতবর্ষের সর্ববৃহৎ জাদুঘরের নাম কী?
:- 
36. স্মৃতিকথা কি?
:- 


 37. কত খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুর ব‍্যাপট্রিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠা হয়? 
:- 
38. ভ‍্যাটি ক‍্যান মিউজিয়াম কে কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
:- 
39. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কে কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
:-  
40. শ্রীরামপুর ত্রী নামে কারা পরিচিত?
:-  

 
1- জনশ্রুতি কত প্রকার? 
• চার প্রকার • ছয় প্রকার • পাঁচ প্রকার • তিন প্রকার
2- মৌখিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল- 
• শ্রুতিনাটক • বক্তৃতা • কথোপকথন • জনশ্রুতি
3- নোয়ার নৌকার কাহিনি যে ধর্মের পুরাণে আছে সেটি হলো -
• হিন্দু • বৌদ্ধ • খ্রিস্টান • ইসলাম 
4- মহাকবি কালিদাসের কাহিনি উল্লিখিত আছে- • হিন্দু পুরাণে • রোমান পুরাণে • গ্রিক পুরাণে • বাইবেলে
5- হিন্দুধর্মে দেবী দুর্গা হলেন একজন—
• পৌরাণিক চরিত্র • রূপকথার চরিত্র • কিংবদন্তি চরিত্র • লোককথার চরিত্র
6- জ্যাকব ও উইলহেম গ্রিম যে ধরনের গল্পকার সেটি হল— 
• কিংবদন্তির • লোককথার • পৌরাণিক কাহিনির • রূপকথার
7- আলিবাবা ও চল্লিশ চোরের কাহিনি কীসের উদাহরণ? 
• স্মৃতিকথা • পৌরাণিক কাহিনি • রুপকথা • লোককথা
8- দক্ষিণারঞ্জন বসুর 'ছেড়ে আসা গ্রাম' হল একটি—
• লোককথা • কিংবদন্তি • স্মৃতিকথা • পৌরাণিক কাহিনী 
9- 'জীবনের জলসাঘরে' কী ধরনের রচনা?
• স্মৃতিকথামূলক • কিংবদন্তিমূলক • পৌরাণিক কাহিনি • লোককথা 
10- হেরোডোটাস যে তথ্যের ওপর নির্ভর করে ম্যারাথনের যুদ্ধের ইতিহাস রচনা করেন, সেটি হল-
• কিংবদন্তি • স্মৃতিকথা • পৌরাণিক কাহিনি • মৌখিক ঐতিহ্যে
11- হিস্ট্রি অব হিন্দুস্থান' রচনা করেন - 
• প্রিন্সেপ • ভিনসেন্ট স্মিথ • ম্যাকমিলান • আলেকজান্ডার ডাও
12- 'ইতিহাসমালা' রচনা করেন—
• উইলিয়াম কেরি • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর • মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালকোর • মার্শম্যান
13- “অক্সফোর্ড হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া' গ্রন্থটি রচনা করেন—
• ডডওয়েল • ভিনসেন্ট স্মিথ • পি.ই. রবার্টস • কীথ
14- "ফল অব দ্য মুঘল এম্পায়ার গ্রুথটি রচনা করেন- 
• রমেশচন্দ্র মজুমদার • দাদাভাই নৌরোজি • রমেশচন্দ্র দত্ত • যদুনাথ সরকার
• 15- সবচেয়ে বেশি সংখ্যক জাদুঘর রয়েছে-
• নিউ ইয়র্কে • মেক্সিকো সিটিতে • লন্ডনে • কলকাতাতে
16- প্লেটো জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন-
• এথেন্সে • রোমে • স্পার্টায় • মিলানে
17- ব্রিটিশ মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল - 
• ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে • ১৭৫৩ খ্রিস্টাব্দে • ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে • ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে
18- লুভর মিউজিয়াম অবস্থিত -
• নিউ ইয়র্কে • লন্ডনে • বার্লিনে • প্যারিসে
19- হাজারদুয়ারি জাদুঘর হল একটি—
• ঐতিহাসিক জাদুঘর • প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর • শিল্প জাদুঘর • বিশ্বকোশ জাদুঘর
20- ইতিহাসের জনক বলা হয় -
• থুকিডিডিসকে • ইবন খালদুনকে • হেরোডোটাসকে • সেন্ট অগাস্টিনকে
21- বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের জনক বলা হয় - • থুকিডিডিসকে • ইবন খালদুনকে • হেরোডোটাসকে • সেন্ট অগাস্টিনকে
22- আধুনিক ইতিহাস চর্চার জনক বলা- 
• থুকিডিডিসকে • ইবন খালদুনকে • হেরোডোটাসকে • সেন্ট অগাস্টিনকে
23- আধুনিক ইতিহাস চর্চার জনক প্রকাশ ঘটেছিল - 
• উনবিংশ শতকে • অষ্টাদশ শতকে • নবম শতকে • ষষ্ঠ শতকে
24- পৃথিবীর প্রাচীনতম জাদুঘর হলো- 
• এননিগালডি নান্না-র জাদুঘর • আলেকজান্দ্রিয়া জাদুঘর • লুভর মিউজিয়াম • ব্রিটিশ মিউজিয়াম
25- 'ঠাকুমার ঝুলি' রচনা করেন- 
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার • মুকুন্দরাম চক্রবর্তী • কালীপ্রসন্ন সিংহ • গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর
26- হিতোপদেশের রচয়িতা কে? • নারায়ণ পন্ডিত • বিষ্ণু শর্মা • দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার • মহাকবি কালিদাস
27- পঞ্চতন্ত্রের রচয়িতা কে?
• নারায়ণ পন্ডিত • বিষ্ণু শর্মা • দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার • মহাকবি কালিদাস
28- টম থাম্বের অনুকরণে বাংলায় রচিত হয়েছিল - 
• হুতকম প্যাঁচার নকশা • বুড়ো আংলা • ছেলেদের রামায়ণ• আলালের ঘরে দুলাল
29- 'একাত্তরের ডায়েরী' স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
• সরলা দেবী চৌধুরানী • মণিকুন্তলা সেন • সুফিয়া কামাল • আশালতা সরকার
30- ছেড়ে আসা গ্রাম গ্রন্থটি কার রচনা?
• বিপিনচন্দ্র পাল • মান্না দে • দক্ষিণারঞ্জন বসু • হিরণময় বন্দোপাধ্যায়
31- 'উদ্বাস্তু' বইটির লেখক কে?
• বিপিনচন্দ্র পাল • মান্না দে • দক্ষিণারঞ্জন বসু • হিরণময় বন্দোপাধ্যায় 


 


দ্বাদশ বাংলা, 'ভারতবর্ষ' গল্পের বড়ো প্রশ্নোত্তর

১) "আমি কি তা দেখতে পাচ্ছিস নে?" - কোন্ প্রশ্নের উত্তরে বক্তা একথা বলেছেন? গল্প অনুসারে বক্তার স্বরূপ উদঘাটন করো।   ১+৪ 


উত্তর:-  সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের 'ভারতবর্ষ' গল্পে এক থুত্থুড়ে বুড়ির মৃতকল্প দেহের দখল নিয়ে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ বিবাদোন্মুখ হয়ে ওঠে। বিবাদ যখন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের রূপ নিতে চলেছে, তখন হঠাৎ বুড়ি নড়েচড়ে উঠে বসলে, তাকে জীবিত দেখে প্রথমে চৌকিদার, পরে দু'দিকের জনতা হতবাক হয়ে প্রশ্ন করে- "বুড়ি, তুমি হিন্দু না মুসলমান?" - এই প্রশ্নের উত্তরেই বুড়ি শ্লেষের সঙ্গে প্রশ্নে প্রদত্ত কথাগুলি বলে। 


       ••  গল্পে যে থুত্থুড়ে রাক্ষসী চেহারার বৃদ্ধাকে লেখক উপস্থাপিত করেছেন, তার নাম সম্প্রদায় জাতধর্মের কোনো প্রসঙ্গ তিনি আনেননি। কিন্তু গল্পে তিনি আবহমান ভারতের পরস্পর বিবাদমান ধর্মসম্প্রদায় হিন্দু-মুসলমানকে জোরালোভাবে উপস্থিত করেছেন। বৃদ্ধাকে একদিন সকালে নিঃসাড় অবস্থায় কিছু মানুষ এক বটগাছের কর্দমাক্ত খোঁদলে আবিষ্কার করে। ধরে নেয় সে মারা গেছে। সরকারি আইন রক্ষক চৌকিদারের পরামর্শ হিন্দুরা তাকে বাঁশের চ্যাংদোলায় নিয়ে ফেলে আসে নদীর চড়ায়। বিকেলে মুসলমানরা ওই চ্যাংদোলায় করে তাকে তুলে আনে বাজারে। গায়ের মোল্লাসাহেব ও ভটচাজমশায়ের ক্রমাগত উস্কানিতে মৃতদেহ নিয়ে সাম্প্রদায়িক বিবাদ শুরু হয়। ঘটনা যখন চরমে পৌঁছায় তখন বুড়ি নড়েচড়ে উঠে বসে। প্রমাণিত হয় সে মরেনি। 


      বৃদ্ধার মুখের ব্যঙ্গমিশ্রিত ও জিজ্ঞাসাসূচক কথাগুলি আসলে লেখকের। তিনি বলতে চেয়েছেন, মানুষ মানুষই। সম্প্রদায় বা ধর্মগত পরিচয় তার ততটা মূল্যবান নয়। মানবিকতাই মানুষের আসল ধর্ম, তাই মানুষ পরিচয়টিকে জীবনের প্রধান মূল্য দেওয়া উচিত। এ পরিচয় একবার মনে ঠাঁই পেলে মানুষ পূর্ণ হয়ে জেগে ওঠে।



২) "শেষ রোদের আলোয় সে দূরের দিকে ক্রমশ আবছা হয়ে গেল।" - কার কথা বলা হয়েছে? সে ক্রমশ আবছা হয়ে গেল কেন?    ১+৪ 


উত্তর:-  কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের 'ভারতবর্ষ' গল্পে শেষ রোদের আলোয় যার দূরের দিকে ক্রমশ আবছা হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, সে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তথা নাম-গোত্রহীন এক থুত্থুরে বুড়ি। 


     •• গল্পের কাহিনী বিন্যাসে দেখি রাঢ়বঙ্গের দুঃসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে এক থুত্থুরে বুড়ি বাজার এলাকায় প্রবেশ করে। তারপর 'ফাঁপি'র প্রবল শৈত্য ও ভেজা প্রকৃতিতে বটগাছের খোঁদলে রাত্রিযাপন করে। পরদিন সকালে সেখানে বুড়িকে দেখে লোকজন অনুমান করে নেয় যে সে মৃতা। এই কল্পমৃত্যুর পটভূমিতেই লেখক আনয়ন করেন ভারতের পারস্পরিক ধর্মদ্বন্দ্বের ঘটনাক্রম, যেখানে সামান্য ছুঁতো পেলেই প্রাতিষ্ঠানিক দুই ধর্মের মানুষ হিন্দু-মুসলমান একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে, দ্বন্দ্বযুদ্ধে মেতে ওঠে। এখানেও একই ব্যাপারের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখা যায়। দ্বন্দ যখন চরমে পৌঁছেছে তখনই লেখক বুড়িকে পুনর্জাগরিত করেন। শুধু তাই নয়, ধর্মতন্ত্রের দুই লড়াকু সম্প্রদায়ের মানুষজনদের কৌতুহলী জিজ্ঞাসার উপর নির্ভীক ও উপেক্ষাময় পদসঞ্চারে বুড়ির চলে যাওয়া দেখান। বোঝা যায়, প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের প্রতি অবজ্ঞা ছুঁড়ে দিয়েছেন লেখক। ধর্ম হল, যা ধারণ করা হয়। মানুষ মানবতা ধারণ করুক - এই লেখকের প্রত্যাশা। কিন্তু মানুষ মৃত মানুষের ধর্মপ্রমাণে লড়াই করে, সশস্ত্র হয়ে। তাই বুড়ির 'দূরের দিকে ক্রমশ আবছা' হয়ে যাওয়া যেন ধর্মের অমানবিক দিকটিকেই বাস্তবিক উপস্থাপিত করে। 



৩) 'ভারতবর্ষ' গল্পের বুড়ি কীভাবে ভারতবর্ষের প্রতীক হয়ে উঠেছে তা বুঝিয়ে দাও।    ৫ 


উত্তর:-  

প্রতীকধর্মিতার স্বরূপ:  প্রতীক হলো সাহিত্যে সংকেত দ্বারা ভাব প্রকাশের এক প্রকার পদ্ধতি বা রীতি। তাই অনেক সময়ই প্রতীকের সাহায্যে কবি ও সাহিত্যিক তাঁর বক্তব্যের ব্যঞ্জনাকে প্রকাশ করেন। প্রতীকের সাহায্যে একটি ঘটনা বা কোন বিষয়কে অবলম্বন করে একটি বাহ্যিক অর্থের আড়ালে লেখক একটি গভীর অর্থ নিহিত রাখেন। 'ভারতবর্ষ' গল্পটিতে প্রতীকের যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ব্যবহার হয়েছে। 


গল্পে প্রতীকী বৃদ্ধা চরিত্র:  গল্পের পটভূমিতে লেখক অত্যন্ত সযত্নে স্থাপন করেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আর সেই দুর্যোগে এক নাম-গোত্রহীন অতি বৃদ্ধা চরিত্রকে প্রতীক রূপে হাজির করেন। এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে, এই বৃদ্ধা  লেখকের উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার হিসেবে উপস্থিত। 


বৃদ্ধা চরিত্রের ভূমিকা:  লেখক উক্ত গল্পে আবহমানকালের চিরায়ত ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের প্রতীকরূপে উপস্থিত করেছেন বৃদ্ধাকে। হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্বে


 জর্জরিত ভারতবর্ষ, যার অস্তিত্বের সংকট নিয়ে দেশীয় মানুষদের কোনো মাথাব্যথা নেই। সে যে জীবন্মৃতা আছে, এ নিয়েও মানুষের কোনো ইতিবাচক ভাবনা নেই। তাকে নিয়ে কেবল অধিকারের লড়াই আছে। হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে এই প্রতীকী মাত্রা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই গল্পের শেষে নড়ে বসা বুড়িকে বলতে শোনা যায়- 

         "আমি কী তা দেখতে পাচ্ছিস নে?" 

       সমগ্র গল্পজুড়ে লেখক বৃদ্ধার অনুষঙ্গে যে ধর্মীয় অন্ধত্বের বীজ বপন করেন তা গল্পের সমাপ্তিতে উপেক্ষাভরা একটি উত্তরে নির্মূল হয়। বুড়ির উত্তরে মানবিক পরিচয়ই প্রতীকী হয়ে ওঠে। তাই 'ভারতবর্ষ' গল্পটিকে একটি সার্থক প্রতীকধর্মী গল্প বলা যায়। 



দ্বাদশ বাংলা, 'আমি দেখি' কবিতার বড়ো প্রশ্নোত্তর

১) "বহুদিন জঙ্গলে কাটেনি দিন" - কেন কবি এ কথা বলেছেন? এই অভাব পূরণের জন্য কবি কী চেয়েছেন? ৩+২ 
  
উত্তর:- শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় শহরের কৃত্রিম পরিবেশে হাঁপিয়ে উঠেছেন কবি। তাই তিনি চেয়েছেন এর থেকে মুক্ত হতে। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কাছে জঙ্গল হল সেই নিভৃত পর্যটন যা মনকে ভালো রাখে। অথচ সেই জঙ্গলের সঙ্গেই ঘটে গেছে কবির দীর্ঘ বিচ্ছেদ-  
                "বহুদিন শহরেই আছি"

        নাগরিক জীবনযাপনের প্রাত্যহিক ক্লান্তি, অবসাদ, রিক্ততা, বেদনা, জীর্ণতা, হতাশায় আহত কবিমন মুক্তির খোঁজে বারবার ফিরে যেতে চাই শ্যামলিমার কাছে- "বহুদিন জঙ্গলে যায়নি"। কবি দেখেন "শহরজুড়ে সবুজের অনটন ঘটে..."। নগরায়ন তার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে প্রতিনিয়ত সবুজকে গ্রাস করে চলেছে- "শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায়"। এই অভাব প্রতিফলিত হয় কবি মনে, তাই জঙ্গল জীবনের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য তীব্র আক্ষেপ প্রকাশিত হয়েছে। 

     •• এই অভাব পূরণের জন্যই কবি চেয়েছেন তার বাগানে গাছ এনে বসানো হোক। তাঁর চোখ চায় সবুজ, দেহ চায় সবুজ। ঘন সান্নিধ্যে সবুজের অভিযান হোক নিজস্ব বাগানে। 
            "তাই বলি, গাছ তুলে আনো 
             বাগানে বসাও আমি দেখি 
             চোখ তো সবুজ চায়! 
             দেহ চায় সবুজ বাগান
             গাছ আনো, বাগানে বসাও।" 
       
       প্রকৃতির বিপুল অঙ্গনে যেতে না পারার বেদনা অন্তত মানসিক শান্তির নির্ঝর হয়ে বাগানে ঝরুক। এই পৃথিবী হয়ে উঠুক সবুজে সবুজ। তাই কবির আর্তি- "গাছ আনো, বাগানে বসাও।" 


২) "আরোগ্যের জন্য ওই সবুজের ভীষণ দরকার" - কে, কোথায় একথা বলেছেন? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার কোন্ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে? ১+৪ 

উত্তর:- বাংলা আধুনিক কবিতার বিশিষ্ট কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচিত 'অঙ্গুরী তোর হিরণ্য জল' কাব্যের 'আমি দেখি' কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় নিজেই প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন। 

     •• শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় কবি প্রকৃতপক্ষে বৃক্ষরাজির বন্দনা করেছেন। গাছ তুলে নিয়ে বাগানে গাছ বসানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কবিতার একেবারে শুরুতেই কবি জানিয়েছেন-  
         "আমার দরকার শুধু কাজ দেখা 
         গাছ দেখে যাওয়া 
         গাছের সবুজটুকু শরীরে দরকার" 
  
      "জঙ্গলের মধ্যে ঘর ঈশ্বর গড়েন" - কবি এই আজন্মলালিত বিশ্বাস নিয়ে জঙ্গলে ছুটে যান, শান্তি পান বৃক্ষের সুনিবিড় সাহচর্য্যে। কিন্তু শহরের অসুখ জর্জরিত কবি দীর্ঘকাল অরন্য থেকে নানা কাজে-অকাজে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও তিনি মূলত সবুজের পিয়াসী। রোগাক্রান্ত নগর কবির ভালো লাগেনা। নগরজীবনের প্রতিদিন মানবিকতার মৃত্যু ঘটে। কবি তাঁর বেদনাকে বুকে চেপে রেখে জঙ্গলের সবুজ গভীরতায় ডুবে যেতে চান। প্রকৃতির সেই সান্নিধ্য পাওয়ার অবসর না পেলে রিক্ততার মাঝেই কবির আহ্বান-  
             "গাছ আনো, বাগানে বসাও 
             আমি দেখি।।"

      শরীর ও মনের আরোগ্যের জন্য তাঁর কাজ গাছ দেখা আর গাছের সবুজ ভীষণ দরকার। শহরে সবুজের চিহ্ন নেই, এখানে কেবলই ধূসরতা। "শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায় 
   সবুজের অনটন ঘটে..."

      সবুজের প্রতি মানুষের চিরন্তন চাহিদাকে কবি এভাবেই ব্যক্ত করেছেন। 'ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড়' এ কবি বসতি গড়তে চান। কবির চোখে সবুজ আর সবুজ বাগানের সমারোহ; কারণ কবি জানেন, নগরের ধোয়া ধূলিধূসরিত পৃথিবীর জন্যই বৃক্ষের সবুজ স্নিগ্ধতা একান্ত প্রয়োজন। রক্তে রাঙানো হৃদয়হীন, প্রাণহীন এই পৃথিবীর একমাত্র আরোগ্যের পথনির্দেশিকা- 'সবুজের অভিযান'। মৃতপ্রায় নাগরিক জীবন সবুজের সংস্পর্শে নির্মল হয়ে উঠবে- নতুনরপে প্রকাশিত হবে।

দ্বাদশ বাংলা, 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতার বড়ো প্রশ্নোত্তর

১) "আমি তা পারি না" - কবি কী পারেন না? কেন তিনি একথা বলেছেন? ২+৩ 

 উত্তর:- কবি মৃদুল দাশগুপ্ত 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় নির্যাতিত মানুষদের থেকে তার মুখ ফিরিয়ে না থাকতে পারার কথা বলেছেন। কবি সমাজের চরম অক্ষয়ের দিনে চুপ করে থাকতে পারেননি। নিখোঁজ মেয়েটির ছিন্নভিন্ন দেহ জঙ্গলে দেখতে পেয়ে নিজের কাছেই প্রশ্ন করেছেন- "আমি কি তাকাবো আকাশের দিকে / বিধির বিচার চেয়ে?" এবং "নিহত ভাইয়ের শবদেহ দেখে" বিবেকবান কবি ক্রোধে গর্জে উঠতে চেয়েছেন। অর্থাৎ কবি ভাগ্যের হাতে নিজেকে সমর্পণ করতে পারেননি। 

  •• আকাশের দিকে তাকিয়ে বিধির বিচার চাওয়া একদিকে যেমন ঈশ্বর নির্ভরতার প্রকাশ, তেমনি অন্যদিকে আত্মশক্তির অভাব ও অসহায়তাকে নির্দেশ করে। কিন্তু মানুষের অধিকার যখন বিপন্ন হয়, বেঁচে থাকার সুস্থ পরিবেশ আর থাকে না, এমনকি রাষ্ট্রশক্তি নিজেকে নিরঙ্কুশ করতে তার নখ দাঁত বিস্তার করে; তখন ঈশ্বরের কাছে ন্যায় বিচার চেয়ে বসে থাকা আসলে অনাবশ্যক কালক্ষেপ। বিধির কাছে নিজেকে ছেড়ে দেওয়ার অর্থ শোষকের বা ক্ষমতাবানের অবাধ বিচরণের সুযোগ করে দেওয়া। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ এবং সহানুভূতিশীল কবি কবিতায় চেয়েছেন এই অত্যাচারীর আনুগত্য বর্জন করতে। এক একটি সামাজিক ঘটনাপ্রবাহ বা মানবিক লাঞ্ছনা কবির মনে ক্রোধের জন্ম দেয়। তাঁর কাছে এই ক্রোধই হয় সমাজের প্রতি ভালবাসা, দায়বদ্ধতা আর মূল্যবোধের প্রকাশ। কবিতায় কবি জাগিয়ে তুলতে চান নিজের বিবেককে-  
               "যা পারি কেবল  
               সে-ই কবিতায় জাগে 
               আমার বিবেক, আমার বারুদ 
               বিস্ফোরণের আগে।" 

     আধ্যাত্মিকতা বা বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়, কবি চান তাঁর কবিতাকে প্রতিবাদের অস্ত্র করে তুলতে। একারণেই কবি প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন। 


২) "কেন তবে লেখা, কেন গান গাওয়া / কেন তবে আঁকাআঁকি?" - এই মন্তব্যটির মধ্য দিয়ে কবির কোন্ বিশেষ মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে তা আলোচনা করো। ৫ 

উত্তর:- মৃদুল দাশগুপ্তের 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতাটি সামাজিক অবক্ষয়ের জ্বলন্ত স্বরূপ। এই কবিতায় কবির সমাজ সচেতনতার পরিচয় পাওয়া যায়। শিল্প সৃষ্টির অন্যতম শর্ত, শিল্পে সমাজ-মানসিকতার প্রতিফলন ঘটানো। একজন সংবেদনশীল কবি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সমাজ-সত্যের প্রকাশ ঘটান। আলোচ্য কবিতায় কবি আত্মিকভাবে তার পাশে থেকে শিল্পের সেই অর্থকেই মান্যতা দিয়েছেন। ২০০৬-০৭ খ্রিস্টাব্দে সিঙ্গুরে কৃষিজমি রক্ষার গণআন্দোলনে রক্তাক্ত হয়েছিল সিঙ্গুর। আর এই প্রসঙ্গে রচিত কবিতা 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে।' 

      কবি একদা লিখেছিলেন- "আমি মৃদুল দাশগুপ্ত, আমি আরব গেরিলাদের সমর্থন করি।" কিন্তু তিনি যখন নিহত ভাইয়ের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তখন তাঁর ক্রোধ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। নিখোঁজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন শরীর যখন জঙ্গলে পাওয়া যায় তখন কবিতার মাধ্যমে নিজের বিবেককে জাগিয়ে রাখতে চান কবি। যে অনুভূতি থেকে নজরুল লিখেছিলেন- "রক্ত ঝরাতে পারি না তো একা / তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা।" কবি সেই একই প্রেরণা থেকেই লিখেছেন প্রতিবাদধর্মী এই কবিতা। 

         তিনি উপলব্ধি করেছেন সন্তানহারা জননীর পাশে দাঁড়াতে না পারলে তাঁর সাহিত্যচর্চা বৃথা। শাসকের রক্তচক্ষু দেখে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু কবির জাগ্রত বিবেকের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। কবি তাঁর সংবেদনশীলতায় উপলব্ধি করেন সময়ের এই অবক্ষয়- 
            "নাই যদি হয় ক্রোধ  
             কেন ভালোবাসা, কেন বা সমাজ 
              কীসের মূল্যবোধ!" 

  তাই কবির বিশ্বাস, কবিতায় জমিয়ে রাখা প্রতিবাদের বারুদ একদিন বিস্ফোরণ ঘটাবেই- 
               "আমার বিবেক, আমার বারুদ 
                 বিস্ফোরণের আগে।"

মাধ্যমিক বাংলা, অধ্যায়ভিত্তিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

  জ্ঞানচক্ষু  ১) "রত্নের মূল্য জহুরির কাছে" - 'রত্ন' ও 'জহুরী' কে? জহুরি রত্নের মূল্যায়ন কেমনভাবে করেছিলেন? ৩  ২)...